সোনাকান্দা দুর্গ ভ্রমণ গাইড 2026 | খরচ ও যাওয়ার উপায়

সোনাকান্দা দুর্গ (Sonakanda Fort) নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত সপ্তদশ শতাব্দীর এক অনন্য মুঘল জলদুর্গ (Water...

Sonakanda Fort (সোনাকান্দা দুর্গ)

সোনাকান্দা দুর্গ (Sonakanda Fort) নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত সপ্তদশ শতাব্দীর এক অনন্য মুঘল জলদুর্গ (Water Fort)। ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বাংলার মুঘল সুবাদার মীর জুমলা রাজধানী ঢাকাকে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের নদীপথের আক্রমণ ও লুটতরাজ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। এটি তৎকালীন ‘মুঘল জলদুর্গ ত্রিভুজ’ (Hajiganj, Sonakanda & Idrakpur Forts)-এর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। দুর্গের সবচেয়ে নজরকাড়া ও দুর্লভ বৈশিষ্ট্য হলো এর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত বহুতলবিশিষ্ট বিশালাকার এক নিরেট গোলাকার কামানমঞ্চ (Artillery Platform)। চতুর্ভুজাকৃতির প্রতিরক্ষা প্রাচীর, প্রাচীরের গায়ে বন্দুক চালানোর ছিদ্র এবং প্রাচীন ইট-সুরকির গাথুনি নিয়ে এই দুর্গটি আজও মুঘল সামরিক নৌ-প্রতিরক্ষার এক দুর্ভেদ্য ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে টিকে রয়েছে। ⏱️ ভ্রমণের সময় ১ - ২ ঘণ্টা 💰 জনপ্রতি বাজেট ২৫০ - ৫০০ টাকা 🌤️ সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ 🏡 ধরণ / ক্যাটাগরি মুঘল জলদুর্গ ও সামরিক পুরাকীর্তি 🚶 কঠিনতার মাত্রা একদম সহজ (নদী পারাপার ও হাঁটা) 👨‍👩‍👧‍👦 উপযুক্ত ভ্রমণকারী পরিবার, শিক্ষার্থী ও প্রত্নতত্ত্বপ্রেমী 🌟 প্রধান আকর্ষণ বিশাল গোলকাকার কামানমঞ্চ ও বুরুজ 📶 নেটওয়ার্ক কভারেজ সব অপারেটরের ৪জি ফুল ১. সোনাকান্দা দুর্গ এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সোনাকান্দা দুর্গের নামকরণের পেছনে একাধিক লোকগাথা ও ঐতিহাসিক বিবরণ প্রচলিত রয়েছে। একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি অনুসারে, বারো ভূঁইয়ার প্রধান বীর ঈসা খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর বিধবা স্ত্রী এবং বিক্রমপুরের চাঁদ রায়ের অপহৃত কন্যা সোনাবিবিকে এই দুর্গে বন্দি রাখা হয়েছিল এবং তাঁর অশ্রুপাতের করুণ কাহিনী থেকেই এলাকার নাম হয় ‘সোনাকান্দা’ (সোনার কান্না)। তবে সামরিক ইতিহাসের বিচারে এটি মূলত মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী ঢাকাকে জলদস্যুদের হাত থেকে বাঁচাতে সুবাদার মীর জুমলা কর্তৃক ১৬৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি দুর্ভেদ্য নদী-দুর্গ। তৎকালীন সময়ে শীতলক্ষ্যা নদী ও ব্রহ্মপুত্রের একটি প্রাচীন শাখা এই দুর্গের গা ঘেঁষে প্রবাহিত হতো। বিপরীত তীরের হাজীগঞ্জ দুর্গ এবং এই সোনাকান্দা দুর্গের অবস্থান এমন ছিল যাতে মাঝখানের নদীপথ দিয়ে যেকোনো শত্রু জাহাজের প্রবেশ সম্পূর্ণ রুখে দেওয়া সম্ভব হতো। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দুর্গটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করে এবং এর ঐতিহাসিক অবয়ব সংস্কারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করে। ২. সোনাকান্দা দুর্গ কোথায় অবস্থিত সোনাকান্দা দুর্গ বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা এলাকায় অবস্থিত। এটি শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান কেন্দ্র চাষাড়া থেকে শীতলক্ষ্যা নদী খেয়া বা সেতু পার হয়ে এর দূরত্ব মাত্র ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার। রাজধানী ঢাকা (গুলিস্তান) থেকে সড়ক ও নদীপথ মিলিয়ে এর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। ৩. সোনাকান্দা দুর্গ কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ) বিশাল দ্বি-স্তরবিশিষ্ট নিরেট কামানমঞ্চ: দুর্গের পশ্চিম দিকে অবস্থিত প্রায় ১৫ ফুট উঁচু এবং ১৫.৭০ মিটার ব্যাসের একটি অতিকায় গোলাকার কামানমঞ্চ। সিঁড়ি বেয়ে এর ওপরে উঠলে শত্রুর নৌবহর মোকাবিলার জন্য স্থাপন করা ভারী কামানের সামরিক কৌশল স্পষ্ট বোঝা যায়। চতুর্ভুজাকৃতির সুদৃঢ় প্রাচীর ও কর্নার বুরুজ: ৮৬.৫৬ মিটার দীর্ঘ এবং ৫৭.০ মিটার প্রস্থের আয়তাকার লাল ইটের প্রতিরক্ষা দেয়াল, যার চারকোণে রয়েছে গোলাকার শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ বুরুজ। বন্দুকের ফোকর (Musketry Loops): প্রাচীরের ওপর দুই স্তরে সাজানো সূক্ষ্ম ফোকর, যার নিচের সারি দিয়ে হাঁটু গেড়ে এবং উপরের সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে বন্দুক ও তীর নিক্ষেপ করা হতো। উত্তরমুখী রাজকীয় খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার: দুর্গের প্রবেশপথে অবস্থিত চারকোনা স্তম্ভ ও খিলানযুক্ত মুঘল প্রবেশ ফটক, যার ওপর প্রহরীদের জন্য বিশেষ কক্ষ ছিল। শীতলক্ষ্যা নদীর মনোরম হাওয়া ও সবুজ চত্বর: দুর্গের অভ্যন্তরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত স্নিগ্ধ সবুজ ঘাসের লন এবং নদীপাড়ের শীতল দখিনা বাতাস। ৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট) ১ম ধাপ: ঢাকা ও দেশের যেকোনো জেলা থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে আগমন: 🚌 ১. ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে নারায়ণগঞ্জ (চাষাড়া বা ১ নম্বর রেলগেট): ঢাকা গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া থেকে বিরতিহীন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা নন-এসি বাসে মাত্র ৩৫-৪৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে পৌঁছানো যায়। জনপ্রিয় বাস সার্ভিস: শীতল পরিবহন (এসি), বন্ধন পরিবহন, উৎসব পরিবহন ও আনন্দ পরিবহন। কাউন্টার: গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া, নর্থ সাউথ রোড ও সায়দাবাদ ফ্লাইওভার মুখ। ভাড়া: নন-এসি ৫০ - ৫৫ টাকা; এসি বাস ৭০ - ৮০ টাকা। ভ্রমণ সময়: মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে মাত্র ৩৫ থেকে ৪৫ মিনিট। 🚆 ২. ট্রেনে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ জংশনে আগমন: ঢাকার যেকোনো ট্রাফিক জ্যাম সম্পূর্ণ এড়িয়ে ঢাকা কমলাপুর থেকে লোকাল ট্রেনে সরাসরি নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় স্টেশনে নামা সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম। ট্রেন সার্ভিস ছাড়ার স্থান গন্তব্য স্টেশন সময় ও ভাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ কমিউটার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল স্টেশন প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতি ৪৫ মিনিট পরপর চলে। ভাড়া মাত্র ২০ টাকা। পদ্মা সেতু লোকাল ট্রেন গেণ্ডারিয়া স্টেশন চাষাড়া / নারায়ণগঞ্জ স্টেশন নেমে সরাসরি ৫ নম্বর খেয়াঘাট বা হাজীগঞ্জ ঘাট যাওয়া যায়। 🚗 ৩. নিজস্ব গাড়ি বা সেতু রুট: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর মোড় হয়ে সরাসরি মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক দিয়ে অথবা শীতলক্ষ্যার ওপর নবনির্মিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নাসিম ওসমান তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু’ পার হয়ে সরাসরি ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইকে সোনাকান্দা দুর্গে পৌঁছানো যায়। ২য় ধাপ: নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে নদী পার হয়ে সোনাকান্দা দুর্গ: নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া বা লঞ্চঘাট থেকে শীতলক্ষ্যা নদী নৌকায় পার হয়ে দুর্গে পৌঁছানো সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও দ্রুততম মাধ্যম: ১. হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট রুট (সবচেয়ে সুবিধাজনক): চাষাড়া থেকে রিকশায় হাজীগঞ্জ কেল্লা ও সংলগ্ন ঘাটে গিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় শীতলক্ষ্যা পার হয়ে বন্দর ঘাট (নৌকা ভাড়া ৫ - ১০ টাকা)। বন্দর ঘাট থেকে রিকশা বা ইজিবাইকে সোনাকান্দা দুর্গ মাত্র ৫ মিনিটের পথ (রিকশা ভাড়া ২৫ - ৩০ টাকা)। ২. নবীগঞ্জ খেয়াঘাট রুট: শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট বা নবীগঞ্জ ঘাট হয়ে পার হয়ে ঐতিহ্যবাহী কদমরসুল দরগাহ দর্শন করে রিকশায় সোনাকান্দা দুর্গ (ভাড়া ৩০ - ৩৫ টাকা)। ৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration) সোনাকান্দা দুর্গের প্রাচীর, বিশাল কামানমঞ্চ এবং চারপাশ ঘুরে দেখতে ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে নদীর বিপরীত তীরের হাজীগঞ্জ দুর্গ এবং নিকটবর্তী কদমরসুল দরগাহ মিলিয়ে অর্ধদিনের (৩-৪ ঘণ্টা) একটি চমৎকার টুইন-ফোর্ট হেরিটেজ ডে-ট্যুর পরিকল্পনা করা যায়। ৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person) খাত বিবরণ আনুমানিক খরচ (টাকা) ঢাকা ↔ নারায়ণগঞ্জ যাতায়াত কমলাপুর থেকে ট্রেনে অথবা গুলিস্তান থেকে বাসে (আপ-ডাউন) ৪০ - ১৪০ টাকা শীতলক্ষ্যা নদী খেয়া পারাপার হাজীগঞ্জ ঘাট ↔ বন্দর ঘাট ট্রলার/নৌকা (আপ-ডাউন) ১০ - ২০ টাকা স্থানীয় রিকশা / অটো ভাড়া ঘাট থেকে সোনাকান্দা দুর্গ ও আশপাশে (আপ-ডাউন) ৫০ - ৮০ টাকা প্রবেশ টিকিট ফি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষিত পুরাকীর্তি বিনামূল্যে / ২০ টাকা খাবার ও পানীয় স্থানীয় তাজা মিষ্টি, চা ও হালকা নাশতা ১০০ - ২০০ টাকা সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (জনপ্রতি ডে-ট্যুর) ২৪০ - ৪৬০ টাকা ৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি সোনাকান্দা দুর্গটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্মৃতিসৌধ। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য দুর্গে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ প্রশাসনিক অনুমতির প্রয়োজন হয় না। দুর্গের সীমানা প্রাচীর ও লোহার গেট রয়েছে। আলাদা পেশাদার গাইডের প্রয়োজন হয় না; দুর্গের ইতিহাস ও সামরিক বৈশিষ্ট্যের সংক্ষিপ্ত তথ্যফলক প্রধান তোরণের পাশেই লিপিবদ্ধ রয়েছে। তবে ড্রোন উড্ডয়ন বা চলচ্চিত্রায়নের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পূর্বানুমতি নেওয়া প্রয়োজন। ৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options) সোনাকান্দা দুর্গ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের খুব কাছে হওয়ায় সাধারণত দর্শনার্থীরা দিনে এসে দিনেই ফিরে যান। তবে রাত্রিযাপনের প্রয়োজন হলে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে: নারায়ণগঞ্জ শহরের হোটেল: হোটেল মেহেরান (চাষাড়া), হোটেল সোনালী, হোটেল প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল (ভাড়া ১,০০০ - ৩,৫০০ টাকা প্রতি রাত)। ঢাকার হোটেল: ঢাকার মতিঝিল ও পুরান ঢাকার যেকোনো মানের হোটেল। ৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies) নারায়ণগঞ্জের সুস্বাদু মিষ্টি: চাষাড়ার শতবর্ষী ‘ভাগলপুরের মিষ্টি’ ও স্থানীয় মিষ্টির দোকানগুলোর রসগোল্লা, ছানার চমচম ও রসমালাই। বন্দর বাজারের তাজা পরাটা ও ডাল-ভাজি: সকালে বা বিকেলে স্থানীয় ঘাটের চায়ের দোকানে গরম গরম নাস্তা। শীতলক্ষ্যার নদীর তাজা মাছ: ঘাটের নিকটবর্তী সাধারণ ভাতের হোটেলগুলোতে নদীর তাজা আইড় বা বোয়াল মাছের ঝোল। চাষাড়ার স্পেশাল বাকরখানি ও দুধ-চা: মচমচে গরম বাকরখানি ও মালাই চা। ১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist) ক্যামেরা বা স্মার্টফোন: দুর্গের ঐতিহাসিক লাল ইটের স্থাপত্য, বিশালাকার গোল কামানমঞ্চ ও বুরুজের ছবি তোলার জন্য। রোদচশমা ও টুপি / ছাতা: উন্মুক্ত চত্বরে ঘোরার সময় রোদ থেকে সুরক্ষার জন্য। আরামদায়ক জুতো: দুর্গের কামানমঞ্চের খাড়া পাথুরে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার জন্য। পানির বোতল: চত্বরে হাঁটার মাঝে পানির তৃষ্ণা মেটাতে। ১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা ⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি: প্রাচীরে নাম লেখা বা দাগ কাটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ: প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন ইটের দেয়াল বা কামানমঞ্চের গায়ে নাম লেখা বা ক্ষয়ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। উঁচু কামানমঞ্চে সতর্কতা: কামানমঞ্চের ওপর কোনো সুরক্ষাবেষ্টনী বা রেলিং নেই; অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। কিনারায় দাঁড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ছবি তুলবেন না এবং শিশুদের সাবধানে রাখুন। নদী পারাপারে সাবধানতা: শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রচুর মালবাহী কার্গো জাহাজ চলাচল করে; খেয়া নৌকায় ওঠার সময় স্থির হয়ে বসুন এবং হুড়োহুড়ি করবেন না। দিনের আলোতে ভ্রমণ সমাপ্ত: দুর্গের ভেতর ও আশপাশ তুলনামূলক নিরিবিলি হওয়ায় সন্ধ্যার আগেই পরিদর্শন শেষ করে মূল সড়কে ফিরে আসা বুদ্ধিমানের কাজ। ১২. সোনাকান্দা দুর্গ ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit) সোনাকান্দা দুর্গ পরিদর্শনের সবচেয়ে উপভোগ্য সময় হলো শীতকাল ও বসন্তকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ মাস)। এ সময় রোদের তীব্রতা থাকে না এবং মিষ্টি বাতাসে নদী পারাপার ও দুর্গের সবুজ চত্বরে হাঁটা দারুণ আরামদায়ক হয়। দিনের বেলা বিকেল ৩:০০ টা থেকে ৫:০০ টা হলো কেল্লা ঘুরে দেখার এবং গোধূলির আলোয় ছবি তোলার সেরা সময়। ১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি) দুপুর ০১:০০ টা: ঢাকার গুলিস্তান বা কমলাপুর থেকে বাস অথবা ট্রেনে মাত্র ৪০-৫০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ায় আগমন। দুপুর ০১:৩০ টা - দুপুর ০২:৩০ টা: চাষাড়া থেকে রিকশায় প্রথমে পশ্চিম তীরের সপ্তভুজাকৃতির ঐতিহাসিক ‘হাজীগঞ্জ দুর্গ’ পরিদর্শন। দুপুর ০২:৪৫ টা - বিকেল ০৪:১৫ টা: হাজীগঞ্জ ঘাট থেকে ছোট খেয়া নৌকায় শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে বন্দর প্রান্তে প্রবেশ। সেখান থেকে রিকশায় সোনাকান্দা দুর্গে পৌঁছানো। সুবিশাল গোলাকার কামানমঞ্চে আরোহণ, বুরুজ ও প্রাচীর পর্যবেক্ষণ এবং ঐতিহাসিক ফটোগ্রাফি। বিকেল ০৪:৩০ টা - বিকেল ০৫:১৫ টা: সোনাকান্দা থেকে রিকশায় মাত্র ১০ মিনিটে সন্নিকটে অবস্থিত ঐতিহাসিক কদমরসুল দরগাহ দর্শন। সন্ধ্যা ০৫:৩০ টা: নদী পার হয়ে চাষাড়া মোড়ে ফিরে এসে বিখ্যাত ভাগলপুরের মিষ্টি ও স্পেশাল দুধ-চা উপভোগ করে সন্ধ্যার বাসে বা ট্রেনে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন। ১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots) হাজীগঞ্জ দুর্গ (খিজিরপুর দুর্গ): শীতলক্ষ্যা নদীর বিপরীত তীরে অবস্থিত মীর জুমলার জোড়া জলদুর্গ (নদীর অপর পাড়েই)। কদমরসুল দরগাহ: হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র পদচিহ্ন সংবলিত ঐতিহাসিক দরগাহ শরীফ (দূরত্ব মাত্র ১ কিমি)। বাবা আদম মসজিদ ও ইদ্রাকপুর কেল্লা: মুন্সীগঞ্জে অবস্থিত সুলতানি আমলের প্রাচীন মসজিদ ও ত্রিভুজ বলয়ের তৃতীয় জলদুর্গ। পানাম নগরী ও সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর: ঐতিহাসিক প্রাচীন নগরী ও বড় সর্দার বাড়ি প্রাসাদ (দূরত্ব প্রায় ১২ কিমি)। নাসিম ওসমান তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু: আধুনিক দৃষ্টিনন্দন ক্যাবল-স্টেড সেতু ও নদীর দৃশ্য। ১৫. সোনাকান্দা দুর্গ সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ) প্রশ্ন ১: সোনাকান্দা দুর্গের মূল ঐতিহাসিক তাৎপর্য কী? উত্তর: এটি মুঘল আমলে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের হাত থেকে রাজধানী ঢাকাকে রক্ষা করতে নির্মিত জলদুর্গগুলোর অন্যতম, যার বিশালাকার নিরেট কামানমঞ্চ তৎকালীন সামরিক প্রকৌশলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রশ্ন ২: সোনাকান্দা ও হাজীগঞ্জ দুর্গের মধ্যে দূরত্ব কতটুকু? উত্তর: দুটি দুর্গ শীতলক্ষ্যা নদীর ঠিক সামনাসামনি দুই তীরে অবস্থিত। নদী পারাপার ও রিকশাসহ এক দুর্গ থেকে অন্য দুর্গে যেতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। প্রশ্ন ৩: দুর্গে প্রবেশের জন্য কি কোনো প্রবেশ ফি দিতে হয়? উত্তর: না, সাধারণত সোনাকান্দা দুর্গে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য কোনো নিয়মিত প্রবেশ ফি লাগে না; এটি উন্মুক্তভাবে পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। প্রশ্ন ৪: দুর্গে কি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সরাসরি যাওয়া যায়? উত্তর: হ্যাঁ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর দিয়ে অথবা নতুন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পার হয়ে পাকা সড়ক দিয়ে সরাসরি সোনাকান্দা দুর্গের প্রবেশ গেট পর্যন্ত প্রাইভেট কার বা বাইকে যাওয়া যায়। প্রশ্ন ৫: সোনাবিবি কে ছিলেন এবং তাঁর সাথে দুর্গের সম্পর্ক কী? উত্তর: লোকগাথা অনুসারে, বিক্রমপুরের শাসক কেদার রায়ের কন্যা বা ঈসা খাঁর বিধবা স্ত্রী সোনাবিবিকে এই দুর্গে বন্দি রাখা হয়েছিল এবং তাঁর কান্নার কিংবদন্তি থেকেই ‘সোনাকান্দা’ নামের উৎপত্তি বলে অনেকে মনে করেন।

ভ্রমণের সেরা সময়

দিনের বেলা বিকেল ৩:০০ টা থেকে ৫:০০ টা হলো কেল্লা ঘুরে দেখার এবং গোধূলির আলোয় ছবি তোলার সেরা সময়।