হাজীগঞ্জ দুর্গ (খিজিরপুর দুর্গ) ভ্রমণ গাইড 2026 | যাওয়ার ...
হাজীগঞ্জ দুর্গ (Hajiganj Fort) বা খিজিরপুর দুর্গ নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত সপ্তদশ শতাব্দীর এক অনন্য মুঘল জলদুর্গ (Wate...
Hajiganj Fort (হাজীগঞ্জ দুর্গ (খিজিরপুর দুর্গ))
হাজীগঞ্জ দুর্গ (Hajiganj Fort) বা খিজিরপুর দুর্গ নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত সপ্তদশ শতাব্দীর এক অনন্য মুঘল জলদুর্গ (Water Fort)। ১৬৬০-১৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে বাংলার মুঘল সুবাদার মীর জুমলা রাজধানী ঢাকাকে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের নির্মম আক্রমণ ও লুণ্ঠন থেকে রক্ষা করতে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। সপ্তভুজাকৃতির সুউচ্চ প্রতিরক্ষা প্রাচীর, প্রাচীরের গায়ে বন্দুক ও কামানের মুখ বসানোর ফাঁক (Embrasures), চারকোণের গোলাকার বুরুজ এবং দুর্গের এক কোণে অবস্থিত সুবিশাল উঁচু কামানমঞ্চ (Gun Platform) এই সামরিক স্থাপত্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও পুরাতন ধলেশ্বরীর ঐতিহাসিক মিলনস্থলে অবস্থিত এই দুর্গটি আজো মুঘল সাম্রাজ্যের সামরিক প্রতিরক্ষা কৌশলের এক গৌরবময় স্মারক হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ⏱️ ভ্রমণের সময় ১ - ২ ঘণ্টা 💰 জনপ্রতি বাজেট ২০০ - ৫০০ টাকা 🌤️ সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ 🏡 ধরণ / ক্যাটাগরি মুঘল জলদুর্গ ও সামরিক স্থাপত্য 🚶 কঠিনতার মাত্রা একদম সহজ (শহুরে হাঁটা) 👨👩👧👦 উপযুক্ত ভ্রমণকারী পরিবার, শিক্ষার্থী ও ইতিহাসপ্রেমী 🌟 প্রধান আকর্ষণ উঁচু কামানমঞ্চ ও সপ্তভুজ প্রাচীর 📶 নেটওয়ার্ক কভারেজ সব অপারেটরের ৪জি ফুল ১. হাজীগঞ্জ দুর্গ এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য হাজীগঞ্জ দুর্গের ঐতিহাসিক নাম ছিল ‘খিজিরপুর দুর্গ’। সপ্তদশ শতকের সূচনালগ্নে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা নদী হয়ে আরাকানি মগ ও পর্তুগিজ হার্মাদ জলদস্যুরা প্রায়ই নদীপথে রাজধানী ঢাকা আক্রমণ ও লুটতরাজ চালাত। তৎকালীন মুঘল সুবাদার ইসলাম খান চিশতি প্রথম এই অঞ্চলে প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরির উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে সম্রাট আওরঙ্গজেবের সেনাপতি ও বাংলার সুবাদার মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে নদীপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ত্রিভুজাকার প্রতিরক্ষা বলয় বা ‘মুঘল জলদুর্গ ট্রায়াঙ্গেল’ গড়ে তোলেন। এই ত্রিভুজের তিনটি প্রধান দুর্গ ছিল—হাজীগঞ্জ দুর্গ (শীতলক্ষ্যার পশ্চিম তীরে), সোনাকান্দা দুর্গ (শীতলক্ষ্যার পূর্ব তীরে) এবং ইদ্রাকপুর দুর্গ (মুন্সীগঞ্জে ধলেশ্বরী ও ইছামতীর তীরে)। তৎকালীন সময়ে শীতলক্ষ্যা নদী দুর্গের প্রাচীর ঘেঁষে প্রবাহিত হতো, যেখান থেকে ভারী কামানের গোলা নিক্ষেপ করে জলদস্যুদের নৌবহর ধ্বংস করা হতো। পরবর্তীতে নদীর গতিপথ কিছুটা সরে গেলেও এই সুদৃঢ় দুর্গটি আজও মুঘল নৌ-প্রতিরক্ষার এক দুর্ভেদ্য স্মারক হিসেবে টিকে রয়েছে। ২. হাজীগঞ্জ দুর্গ কোথায় অবস্থিত হাজীগঞ্জ দুর্গ বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার হাজীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত। এটি শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়া মোড় থেকে মাত্র ১.৫ কিলোমিটার পূর্ব দিকে অবস্থিত। রাজধানী ঢাকার জিরো পয়েন্ট (গুলিস্তান) থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব মাত্র ১৭ থেকে ১৯ কিলোমিটার। ৩. হাজীগঞ্জ দুর্গ কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ) অনন্য সপ্তভুজাকৃতির প্রতিরক্ষা প্রাচীর: প্রচলিত চারকোণা দুর্গের বিপরীতে এটি একটি সাত কোণাবিশিষ্ট (Heptagonal) সুদৃঢ় দুর্গ, যার স্থাপত্য কৌশল সামরিক ইতিহাসের গবেষকদের বিস্মিত করে। সুবিশাল উঁচু কামানমঞ্চ (Gun Platform): দুর্গের পূর্ব কোণে অবস্থিত গোলাকার ও বহুতল সদৃশ একটি সুবিশাল উঁচু প্ল্যাটফর্ম, যার ওপর থেকে একসময় শীতলক্ষ্যা নদীতে শত্রুর নৌবহর লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ভারী কামান চালানো হতো। প্রাচীরের মার্লন ও বন্দুকের ফোকর (Musketry Loops): দুর্গের সুউচ্চ প্রাচীরের ওপর সারিবদ্ধ সূক্ষ্ম ছিদ্র বা ফোকর, যেখান থেকে নিরাপদে থেকে সৈন্যরা দূরপাল্লার বন্দুক ও তীর ছুড়তে পারত। গোলাকার কর্নার বুরুজ (Bastions): দুর্গের বিভিন্ন কোণে অবস্থিত অর্ধ-গোলাকার পর্যবেক্ষণ বুরুজ, যা তৎকালীন অতন্দ্র প্রহরীদের নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হতো। সবুজ শান্ত পরিবেশ ও বাগান: দুর্গের অভ্যন্তরীণ বিস্তৃত প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত সবুজ ঘাসের গালিচা ও ছায়াঘেরা শান্ত পরিবেশ, যা কোলাহলময় শহরের মাঝে এক টুকরো শান্তির পরশ দেয়। ৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট) ১ম ধাপ: ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে যাতায়াত: 🚌 ১. ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে নারায়ণগঞ্জ (চাষাড়া): ঢাকা গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে বিরতিহীন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও নন-এসি বাসে মাত্র ৩৫-৪৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া মোড়ে পৌঁছানো যায়। জনপ্রিয় বাস সার্ভিস: শীতল পরিবহন (এসি), বন্ধন পরিবহন, উৎসব পরিবহন ও আনন্দ পরিবহন। বাসের কাউন্টার: গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া, নর্থ সাউথ রোড ও সায়দাবাদ জনপথ মোড়। ভাড়া: নন-এসি ৫০ - ৫৫ টাকা; এসি বাস ৭০ - ৮০ টাকা। ভ্রমণ সময়: মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে মাত্র ৩৫ থেকে ৪৫ মিনিট। 🚆 ২. ট্রেনে কমলাপুর থেকে চাষাড়া রেলওয়ে স্টেশনে আগমন: ঢাকার যানজট সম্পূর্ণ এড়িয়ে সবচেয়ে আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী উপায়ে মাত্র ৪৫ মিনিটে ঢাকা কমলাপুর থেকে ট্রেনে চাষাড়া বা নারায়ণগঞ্জ স্টেশনে নামা যায়। ট্রেন সার্ভিস ছাড়ার স্থান গন্তব্য স্টেশন সময় ও ভাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ কমিউটার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন চাষাড়া রেলওয়ে স্টেশন প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতি ৪৫ মিনিট পর পর চলে। ভাড়া মাত্র ২০ টাকা। পদ্মা সেতু রুটের লোকাল ট্রেন গেণ্ডারিয়া / কমলাপুর নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল স্টেশন থেকে সরাসরি রিকশায় দুর্গ পৌঁছানো যায়। 🚗 ৩. ব্যক্তিগত গাড়ি বা উবার/বাইক সংযোগ: ঢাকা যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার পার হয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড দিয়ে সোজা চাষাড়া এসে নবাব সলিমুল্লাহ রোড ধরে সরাসরি হাজীগঞ্জ দুর্গের প্রবেশ ফটকে পৌঁছানো যায় (সময় মাত্র ৩০-৪০ মিনিট)। ২য় ধাপ: চাষাড়া মোড় থেকে হাজীগঞ্জ দুর্গ: চাষাড়া মোড় বা চাষাড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় হাজীগঞ্জ কেল্লায় পৌঁছানো অত্যন্ত সহজ: ঐতিহ্যবাহী রিকশা (সবচেয়ে সুবিধাজনক): চাষাড়া চত্বর বা চাষাড়া স্টেশন থেকে সরাসরি হাজীগঞ্জ কেল্লার গেট পর্যন্ত রিকশা ভাড়া মাত্র ৩০ - ৪০ টাকা (সময় ১০-১২ মিনিট)। অটোরিকশা / ইজিবাইক: চাষাড়া থেকে হাজীগঞ্জগামী শেয়ারিং অটোতে ভাড়া জনপ্রতি ১০ - ১৫ টাকা। ৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration) হাজীগঞ্জ দুর্গের প্রাচীর, উঁচু কামানমঞ্চ ও প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখতে ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা সময় যথেষ্ট। তবে এর সাথে শীতলক্ষ্যা নদী নৌকায় পার হয়ে বিপরীত তীরের ‘সোনাকান্দা দুর্গ’ এবং কদমরসুল দরগাহ মিলিয়ে অর্ধদিনের (৩-৪ ঘণ্টা) একটি চমৎকার হেরিটেজ ডে-ট্যুর উপভোগ করা যায়। ৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person) খাত বিবরণ আনুমানিক খরচ (টাকা) ঢাকা ↔ চাষাড়া যাতায়াত কমলাপুর থেকে ট্রেনে অথবা বাসে যাতায়াত (আপ-ডাউন) ৪০ - ১৪০ টাকা চাষাড়া ↔ হাজীগঞ্জ দুর্গ রিকশা চাষাড়া থেকে কেল্লা ফটক রিকশা ভাড়া (আপ-ডাউন) ৬০ - ৮০ টাকা প্রবেশ টিকিট ফি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষিত (উন্মুক্ত/প্রত্নতত্ত্ব টিকিট) বিনামূল্যে / ২০ টাকা খাবার ও নাশতা চাষাড়ার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি, চা ও হালকা নাশতা ১০০ - ২০০ টাকা সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (জনপ্রতি ডে-ট্যুর) ২২০ - ৪৪০ টাকা ৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি হাজীগঞ্জ দুর্গটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি জাতীয় সংরক্ষিত ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য দুর্গটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয় না। দুর্গের সীমানা প্রাচীর ও লোহার গেট রয়েছে। আলাদা পেশাদার গাইডের প্রয়োজন নেই; দুর্গের ইতিহাস ও স্থাপত্যের বিশদ বিবরণ সম্বলিত সরকারি তথ্যফলক প্রধান ফটকের পাশেই স্থাপন করা রয়েছে। তবে ড্রোন উড্ডয়ন বা বাণিজ্যিক শুটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি নেওয়া প্রয়োজন। ৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options) যেহেতু হাজীগঞ্জ দুর্গ ঢাকা শহরের অত্যন্ত কাছে এবং নারায়ণগঞ্জ শহরে অবস্থিত, তাই ভ্রমণ শেষে অধিকাংশ দর্শনার্থী দিনেই ফিরে যান। তবে প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকার ভালো ব্যবস্থা রয়েছে: নারায়ণগঞ্জ শহরের হোটেল: হোটেল মেহেরান (চাষাড়া), হোটেল সোনালী, হোটেল প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল (ভাড়া ১,০০০ - ৩,৫০০ টাকা প্রতি রাত)। ঢাকার হোটেল: ঢাকার গুলিস্তান, মতিঝিল বা পুরান ঢাকার হোটেলগুলোতে অবস্থান করা যেতে পারে। ৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies) নারায়ণগঞ্জের বিখ্যাত মিষ্টি ও চমচম: চাষাড়ার শতবর্ষী ‘ভাগলপুরের মিষ্টি’ ও স্থানীয় মিষ্টির দোকানগুলোর বিখ্যাত ছানার মিষ্টি ও রসমালাই। চাষাড়ার গরম বাকরখানি ও দুধ-চা: বিকেলে কেল্লা দেখে ফিরে চাষাড়া বা কালিবাজারের মোড়ে তাজা মচমচে বাকরখানি ও স্পেশাল মালাই চা। শীতলক্ষ্যার তাজা মাছের পদ: নদীর পাড়ের খাবার হোটেলগুলোতে শীতলক্ষ্যার তাজা মাছের ঝোল বা ভুনা। ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানি: নারায়ণগঞ্জ শহরের বিখ্যাত বোম্বে সুইটস ও গ্র্যান্ড নবাবের কাচ্চি ও মোরগ পোলাও। ১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist) স্মার্টফোন বা ক্যামেরা: দুর্গের ঐতিহাসিক লাল ইটের স্থাপত্য, কামানমঞ্চ ও বুরুজের নান্দনিক ছবি তোলার জন্য। রোদচশমা ও টুপি / ছাতা: দুর্গের প্রাঙ্গণে ঘোরার সময় রোদ থেকে সুরক্ষার জন্য। আরামদায়ক জুতো: দুর্গের প্রাচীর ও উঁচু কামানমঞ্চের সিঁড়ি বেয়ে ওঠার জন্য। পানির বোতল: চত্বরে হাঁটার সময় পানির তৃষ্ণা মেটাতে। ১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা ⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি: প্রাচীরে নাম লেখা বা ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ: প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন ইটের দেয়াল ও কামানমঞ্চের গায়ে কোনো প্রকার নাম লেখা, আঁচড় দেওয়া বা নোংরা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কামানমঞ্চের চূড়ায় সতর্কতা: উঁচু কামানমঞ্চের কিনারায় কোনো রেলিং নেই; তাই সেলফি তোলা বা হাঁটার সময় অসতর্ক হলে নিচে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শিশুদের হাত ধরে রাখুন। সূর্যাস্তের পূর্বে ভ্রমণ সমাপ্ত: দুর্গের ভেতরের অংশ কিছুটা নিরিবিলি হওয়ায় সন্ধ্যার আগেই ভ্রমণ শেষ করে মূল রাস্তায় চলে আসা নিরাপদ। পরিচ্ছন্নতা রক্ষা: চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল বা খাবারের উচ্ছিষ্ট দুর্গের ভেতরে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না। ১২. হাজীগঞ্জ দুর্গ ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit) হাজীগঞ্জ দুর্গ পরিদর্শনের সবচেয়ে সেরা সময় হলো শীতকাল ও বসন্তকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ মাস)। এ সময় আবহাওয়া থাকে মনোরম ও শুষ্ক এবং দুর্গের বিস্তৃত সবুজ প্রাঙ্গণে রোদের মিষ্টি আমেজে ঘুরে বেড়ানো যায়। দিনের বেলা বিকেল ৩:০০ টা থেকে ৫:০০ টা হলো কেল্লাটি ঘুরে দেখার ও ছবি তোলার সেরা সময়। ১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি) দুপুর ০১:০০ টা: ঢাকার গুলিস্তান বা কমলাপুর থেকে বাস অথবা ট্রেনে চড়ে মাত্র ৪০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ায় আগমন। দুপুর ০১:৩০ টা - দুপুর ০২:৩০ টা: চাষাড়া থেকে রিকশায় হাজীগঞ্জ দুর্গের প্রবেশ ফটকে পৌঁছানো। সপ্তভুজাকৃতির প্রাচীন প্রাচীর, চারকোণের বুরুজ এবং সুবিশাল উঁচু কামানমঞ্চে উঠে পুরো দুর্গের শীর্ষ দৃশ্য ও প্রাচীন স্থাপত্য উপভোগ। দুপুর ০২:৪৫ টা - বিকেল ০৪:৩০ টা: হাজীগঞ্জ ঘাট থেকে ছোট নৌকায় শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে অপর পাড়ের বন্দর এলাকায় প্রবেশ। সেখানে অবস্থিত মীর জুমলার অপর জলদুর্গ ‘সোনাকান্দা দুর্গ’ এবং ঐতিহাসিক কদমরসুল দরগাহ দর্শন। বিকেল ০৫:০০ টা: পুনরায় নদী পার হয়ে চাষাড়া মোড়ে ফিরে এসে বিখ্যাত ভাগলপুরের মিষ্টি ও গরম মালাই চা উপভোগ করে সন্ধ্যার বাসে বা ট্রেনে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন। ১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots) সোনাকান্দা দুর্গ: শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত মীর জুমলার নির্মিত আরেকটি বিখ্যাত জোড়া মুঘল জলদুর্গ (নদী পার হলেই অবস্থিত)। কদমরসুল দরগাহ: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র পদচিহ্ন সংবলিত ঐতিহাসিক মাজার কমপ্লেক্স। বাবা আদম মসজিদ ও ইদ্রাকপুর কেল্লা: মুন্সীগঞ্জে অবস্থিত সুলতানি আমলের প্রাচীন মসজিদ ও ত্রিভুজ প্রতিরক্ষা বলয়ের তৃতীয় জলদুর্গ। পানাম নগরী ও সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর: ঐতিহাসিক প্রাচীন হারানো নগরী ও বড় সর্দার বাড়ি প্রাসাদ (দূরত্ব প্রায় ১২ কিমি)। মেরিন একাডেমি ও শীতলক্ষ্যা রিভারফ্রন্ট: নদীর মনোরম জলরাশি ও সূর্যাস্তের দৃশ্য। ১৫. হাজীগঞ্জ দুর্গ সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ) প্রশ্ন ১: হাজীগঞ্জ দুর্গের অপর নাম খিজিরপুর দুর্গ কেন? উত্তর: তৎকালীন মুঘল নথিপত্র ও ইতিহাসবিদ মির্জা নাথানের ‘বাহারিস্তান-ই-গায়বী’ গ্রন্থে এই এলাকাটিকে খিজিরপুর বন্দর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল; সেই অনুসারে একে ঐতিহাসিকভাবে খিজিরপুর দুর্গও বলা হয়। প্রশ্ন ২: হাজীগঞ্জ দুর্গটি কেন জলদুর্গ (Water Fort) বলা হয়? উত্তর: প্রাচীনকালে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রবাহ সরাসরি এই দুর্গের প্রাচীর ছুঁয়ে যেত এবং এটি জলদস্যুদের নৌ-আক্রমণ প্রতিহত করতে সম্পূর্ণ জলপথ রক্ষার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল বিধায় এটিকে জলদুর্গ বলা হয়। প্রশ্ন ৩: দুর্গে প্রবেশের জন্য কি কোনো টিকিট লাগে? উত্তর: সাধারণত হাজীগঞ্জ দুর্গে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য কোনো নিয়মিত প্রবেশ ফি লাগে না; এটি উন্মুক্তভাবে পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে (প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বিশেষ দিনগুলোতে নামমাত্র সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে)। প্রশ্ন ৪: ঢাকা থেকে একই দিনে কি হাজীগঞ্জ ও সোনাকান্দা দুর্গ দুটিই দেখা সম্ভব? উত্তর: হ্যাঁ, দুটি দুর্গ শীতলক্ষ্যা নদীর ঠিক সামনাসামনি দুই তীরে অবস্থিত। হাজীগঞ্জ দুর্গ দেখে নদী পারাপার হয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে সোনাকান্দা দুর্গে পৌঁছে যাওয়া যায়। প্রশ্ন ৫: দুর্গটি পরিদর্শনের সবচেয়ে নিরাপদ সময় কোনটি? উত্তর: সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত দিনের আলোতে ঘুরে দেখা সবচেয়ে ভালো এবং নিরাপদ।
ভ্রমণের সেরা সময়
হাজীগঞ্জ দুর্গ পরিদর্শনের সবচেয়ে সেরা সময় হলো শীতকাল ও বসন্তকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ মাস)।