মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি ভ্রমণ গাইড 2026 | খরচ ও যাওয়ার উপায়
মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি (Murapara Zamindar Bari) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত উনিশ শতকের এক সুবিশাল, জাঁক...
Murapara Zamindar Bari (মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি)
মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি (Murapara Zamindar Bari) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত উনিশ শতকের এক সুবিশাল, জাঁকজমকপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন ঔপনিবেশিক রাজপ্রাসাদ। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন প্রতাপশালী জমিদার রামরতন ব্যানার্জী এই সুরম্য প্রাসাদের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং পরবর্তীকালে তাঁর উত্তরসূরিরা এটি বহুতল আধুনিক প্রাসাদে রূপান্তর করেন। নিও-ক্লাসিক্যাল ও ইউরোপীয়-গ্রিক স্থাপত্যরীতির সংমিশ্রণে নির্মিত এই প্রাসাদে রয়েছে সুবিশাল স্তম্ভ, সুদৃশ্য খিলানযুক্ত অলিন্দ, প্রায় ৯৫টি কক্ষ, নাটমন্দির, অতিথিশালা এবং সম্মুখে সানবাঁধানো সুবিশাল দীঘি। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক প্রাসাদ চত্বরে ‘সরকারি মুড়াপাড়া কলেজ’ পরিচালিত হলেও এর রাজকীয় স্থাপত্যের আভিজাত্য আজও অক্ষত রয়েছে, যা ইতিহাসপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের এক মুহূর্তেই ফিরিয়ে নিয়ে যায় শতবর্ষ প্রাচীন জমিদারী ঐতিহ্যের সোনালী যুগে। ⏱️ ভ্রমণের সময় ১.৫ - ২.৫ ঘণ্টা (অর্ধদিন) 💰 জনপ্রতি বাজেট ২০০ - ৫০০ টাকা 🌤️ সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ 🏡 ধরণ / ক্যাটাগরি ঔপনিবেশিক রাজপ্রাসাদ ও পুরাকীর্তি 🚶 কঠিনতার মাত্রা একদম সহজ (পায়ে হাঁটা) 👨👩👧👦 উপযুক্ত ভ্রমণকারী পরিবার, শিক্ষার্থী ও আলোকচিত্রী 🌟 প্রধান আকর্ষণ রাজকীয় শ্বেত অট্টালিকা ও সানবাঁধানো দীঘি 📶 নেটওয়ার্ক কভারেজ সব অপারেটরের ৪জি ফুল ১. মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য মুড়াপাড়া জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রামরতন ব্যানার্জী। তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে দিল্লির শাহী দরবারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন এবং পরবর্তীতে প্রভূত অর্থ-সম্পত্তির মালিক হয়ে এলাকায় বিশাল জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৮৯ সালে তিনি এই বিশাল প্রাসাদের মূল অবকাঠামো তৈরি করেন। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র বিজয় কৃষ্ণ ব্যানার্জী এবং পৌত্র প্রতাপ চন্দ্র ব্যানার্জী ১৮৯৯ সালে এই ভবনের সংস্কার ও দ্বিতীয় তলার সম্প্রসারণ করেন। পরবর্তীতে জমিদার জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী ১৯০৯ সালে প্রাসাদের পশ্চিম অংশে এক বিশাল নাচঘর, নাটমন্দির এবং বর্তমানের দৃষ্টিনন্দন সম্মুখভাগ নির্মাণ সম্পন্ন করেন। প্রায় ৬২ বিঘা বিস্তৃত এই জমিদার এস্টেটে ছিল নিজস্ব চিড়িয়াখানা, হাতির শাল, ঘোড়াশাল ও সুদৃশ্য পূজামণ্ডপ। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় জমিদার পরিবার ভারতে চলে গেলে এটি সরকারের খাস খতিয়ানে আসে। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৮৬ সালে এই ঐতিহাসিক ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুড়াপাড়া সরকারি কলেজ’, যার মাধ্যমে প্রাসাদটি সংরক্ষণ ও শিক্ষা বিস্তারের অনন্য স্মারকে রূপ নেয়। ২. মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি কোথায় অবস্থিত মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত। এটি শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি ঐতিহাসিক জনপদ। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা-গাউছিয়া মোড় থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার ঘাট থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর দিয়ে মাত্র ৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এটি অবস্থিত। রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থল (সায়দাবাদ/যাত্রাবাড়ী) থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব প্রায় ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। ৩. মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ) নিও-ক্লাসিক্যাল রাজকীয় স্থাপত্য: প্রাসাদের সম্মুখভাগের সুবিশাল কোরিন্থিয়ান রীতির গোল স্তম্ভ, কারুকাজখচিত কার্নিশ, নকশাদার খিলান ও ইউরোপীয় ঢঙের সাদা রঙের রাজপ্রাসাদীয় অবয়ব। বিশাল সানবাঁধানো প্রাচীন দীঘি: প্রাসাদের ঠিক সম্মুখভাগে অবস্থিত টলটলে জলের সুবিশাল দীঘি, যার সানবাঁধানো ঘাটে বসে শান্ত বাতাসে প্রাচীন অট্টালিকার জলে পড়া প্রতিবিম্ব দেখা এক অসাধারণ প্রশান্তি এনে দেয়। ৯৫টি সুপরিসর কক্ষ ও গোপন সুরঙ্গ পথ: দোতলা এই প্রাসাদের বিশাল করিডোর, প্রাচীন চুন-সুরকির মজবুত দেয়াল, লোহার রেলিং এবং কথিত মাটির নিচের সুড়ঙ্গ পথের প্রাচীন গল্পগাথা। ফটোগ্রাফি ও চলচ্চিত্রায়নের প্রিয় স্পট: রূপালী পর্দার অসংখ্য নাটক, মিউজিক ভিডিও ও চলচ্চিত্রের শুটিং স্পট হিসেবে এই প্রাসাদটি খ্যাতি লাভ করেছে; ফলে ভিন্টেজ ফটোশুটের জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য। সবুজ শান্ত গ্রামীণ পরিবেশ: কোলাহলময় ঢাকার একেবারে কাছেই শীতলক্ষ্যা নদী তীরের স্নিগ্ধ বাতাস ও ছায়াঘেরা নারিকেল-সুপারি বাগানের প্রাকৃতিক আবহ। ৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট) ১ম ধাপ: ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে ভুলতা-গাউছিয়া বা ডেমরা ঘাট: 🚌 ১. সায়দাবাদ / যাত্রাবাড়ী হয়ে ভুলতা-গাউছিয়া রুট: ঢাকা সায়দাবাদ বা যাত্রাবাড়ী থেকে নরসিংদী, ভৈরব বা সিলেটগামী যেকোনো বাসে কাঁচপুর সেতু পেরিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা-গাউছিয়া মোড়ে নামা যায়। জনপ্রিয় বাস: মেঘালয় পরিবহন, চালক পরিবহন, গ্লোরি এক্সপ্রেস বা নরসিংদীগামী লোকাল বাস (ভাড়া ৫০ - ৬০ টাকা)। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে: কাঞ্চন ব্রিজ হয়ে ভুলতাগামী বাসেও ভুলতা মোড়ে নামা যায় (ভাড়া ৬০ - ৭০ টাকা)। ভ্রমণ সময়: ট্রাফিক স্বাভাবিক থাকলে সায়দাবাদ থেকে মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট। 🚌 ২. সায়দাবাদ / গুলিস্তান হয়ে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার রুট: ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে ডেমরাগামী লোকাল বাসে (অছিম, রমজান বা রাজধানী পরিবহন) সরাসরি ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে নামা যায় (ভাড়া ৩৫-৪০ টাকা)। সেখান থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর সুলতানা কামাল সেতু পার হয়ে সরাসরি মুড়াপাড়া অটো পাওয়া যায়। 🚗 ৩. ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইক রুট: ঢাকা যাত্রাবাড়ী ➔ ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার ➔ সুলতানা কামাল সেতু পেরিয়ে রূপসী-মুড়াপাড়া সড়ক ধরে সরাসরি জমিদার বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি নিয়ে পৌঁছানো যায় (সময় মাত্র ৩৫-৪০ মিনিট)। ২য় ধাপ: ভুলতা বা রূপসী স্ট্যান্ড থেকে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি: মহাসড়ক বা ঘাট থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিতে সরাসরি জমিদার বাড়ি চত্বরে পৌঁছানো যায়: ভুলতা-গাউছিয়া মোড় থেকে অটোরিকশা: ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচ থেকে সরাসরি মুড়াপাড়াগামী ব্যাটারিচালিত অটো বা সিএনজি পাওয়া যায় (ভাড়া জনপ্রতি ২৫ - ৩০ টাকা, সময় ১৫-২০ মিনিট)। রূপসী বাসস্ট্যান্ড থেকে: রূপসী মোড় থেকে শীতলক্ষ্যার তীরবর্তী শান্ত পিচঢালা পথ দিয়ে অটোরিকশায় মুড়াপাড়া কলেজ গেট (ভাড়া ২০ - ২৫ টাকা)। ৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration) মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ির পুরো প্রাসাদ, দীঘির পাড় ও স্থাপত্য ঘুরে দেখতে ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা সময় যথেষ্ট। তবে এর সাথে কাছেই অবস্থিত রূপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জামদানি পল্লী (নোয়াপাড়া) অথবা জিন্দা পার্ক যুক্ত করে ১ দিনের একটি পরিপূর্ণ ডে-ট্যুর পরিকল্পনা করাই সবচেয়ে কার্যকর। ৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person) খাত বিবরণ আনুমানিক খরচ (টাকা) ঢাকা ↔ ভুলতা / রূপসী বাস ভাড়া সায়দাবাদ বা কুড়িল থেকে সরাসরি লোকাল বাস (আপ-ডাউন) ১০০ - ১৫০ টাকা ভুলতা ↔ জমিদার বাড়ি অটোরিকশা ব্যাটারিচালিত অটো বা সিএনজি ভাড়া (আপ-ডাউন) ৫০ - ৭০ টাকা প্রবেশ টিকিট ফি কলেজ ক্যাম্পাস ও ঐতিহাসিক চত্বর পরিদর্শন বিনামূল্যে (০ টাকা) দুপুরের খাবার ও নাশতা স্থানীয় মিষ্টি, চা ও ভুলতা বাজারের খাবার ১৫০ - ৩০০ টাকা সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (ডে-ট্যুর জনপ্রতি) ৩০০ - ৫২০ টাকা ৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িটি সরকারিভাবে ‘মুড়াপাড়া সরকারি কলেজ’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি দিনের বেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। এখানে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা প্রশাসনিক অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তবে যেহেতু এটি একটি সক্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তাই ক্লাস চলার সময় কোনো প্রকার হট্টগোল করা যাবে না। ছুটির দিনে (শুক্রবার ও শনিবার) বা সরকারি ছুটির দিনে ক্যাম্পাস একদম শান্ত ও কোলাহলমুক্ত থাকে, যা ঘুরে দেখার জন্য সবচেয়ে আদর্শ। আলাদা কোনো পেশাদার গাইডের প্রয়োজন নেই। তবে ড্রোন ওড়ানো বা বাণিজ্যিক শুটিংয়ের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাঞ্ছনীয়। ৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options) মুড়াপাড়া রাজধানী ঢাকার অত্যন্ত সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় পর্যটকরা দিনে এসে দিনেই ঢাকা ফিরে যেতে পারেন। তবে রাতে থাকার প্রয়োজন হলে নিকটস্থ বিকল্প ব্যবস্থা: কাছাকাছি রিসোর্ট: পূর্বাচলের জল ও জঙ্গল কাব্য, জিন্দা পার্ক কটেজ অথবা ভুলতা গাউছিয়া সংলগ্ন সাধারণ আবাসিক বোর্ডিং (ভাড়া ৮০০ - ৩,০০০ টাকা)। ঢাকার হোটেল: ঢাকার যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল ও গুলশান এলাকার হোটেলসমূহ। ৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies) মুড়াপাড়া ঘাটের ঐতিহ্যবাহী গরম রসগোল্লা ও চমচম: মুড়াপাড়া বাজারের প্রাচীন মিষ্টির দোকানে তাজা ছানার রসগোল্লা ও লাল চমচম। শীতলক্ষ্যা নদীর তাজা মাছ: মুড়াপাড়া বাজারের ভাতের হোটেলগুলোতে শীতলক্ষ্যার সদ্য ধরা আইড়, রুই বা টেংরা মাছের ঝোল। ভুলতা গাউছিয়ার স্পেশাল মিষ্টি ও পরোটা: সকালের নাশতার জন্য গাউছিয়া মোড়ের গরম গরম পরোটা ও ডাল-সবজি। কচি ডাবের পানি: দীঘির পাড়ে গাছের নিচে বসে ডাবের মিষ্টি পানি উপভোগ। ১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist) ক্যামেরা বা ভালো স্মার্টফোন: সাদা রাজপ্রাসাদ, সুউচ্চ গ্রিক পিলার ও দীঘির পাড়ে ভিন্টেজ পোর্ট্রেট ছবি তোলার জন্য। ছাতা ও সানগ্লাস: উন্মুক্ত চত্বর ও দীঘির পাড়ে হাঁটার সময় রোদের সুরক্ষার জন্য। আরামদায়ক জুতো: প্রাসাদ চত্বর ও বাগান হেঁটে দেখার জন্য। পরিচয়পত্র (Student ID / NID): কলেজ গেটে নিরাপত্তারক্ষী চাইলে প্রদর্শনের জন্য সাথে রাখা ভালো। ১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা ⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি: ঐতিহাসিক দেয়াল ও স্তম্ভে দাগ কাটা নিষিদ্ধ: শতবর্ষী রাজপ্রাসাদের চুন-সুরকির প্রাচীন দেয়াল বা পিলারে কোনো প্রকার নাম লেখা বা আঁচড় দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ক্লাস চলাকালীন শৃঙ্খলা রক্ষা: সরকারি কর্মদিবসে (রবি থেকে বৃহস্পতিবার) কলেজের পাঠদান চলে; তাই শ্রেণিকক্ষের সামনে উচ্চস্বরে চিৎকার বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না। দীঘির গভীর পানিতে না নামা: প্রাসাদের সামনের সানবাঁধানো দীঘির পানি বেশ গভীর; সেখানে সাঁতার কাটা বা অযথা পানিতে নামা থেকে বিরত থাকুন। ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখা: চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল বা খাবারের উচ্ছিষ্ট ক্যাম্পাসে না ফেলে নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলুন। ১২. মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit) মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি পরিদর্শনের সবচেয়ে সেরা সময় হলো শীতকাল ও বসন্তকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ মাস)। এ সময় মিষ্টি রোদে দীঘির পাড়ে বসে থাকা এবং ছায়াঘেরা ক্যাম্পাসে হাঁটা অত্যন্ত আনন্দদায়ক হয়। সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার (সাপ্তাহিক ছুটির দিন) হলো ঘুরে দেখার সেরা দিন, কারণ এ সময় কলেজ বন্ধ থাকে এবং দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে পুরো চত্বর ঘুরে ছবি তুলতে পারেন। ১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি) সকাল ০৯:০০ টা: ঢাকার সায়দাবাদ বা কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাসে চড়ে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের ভুলতা-গাউছিয়া মোড়ে আগমন (সময় লাগবে প্রায় ৪৫ মিনিট)। সকাল ১০:০০ টা - দুপুর ১২:০০ টা: ভুলতা থেকে ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে পৌঁছানো। সুবিশাল শ্বেত অট্টালিকা, ইউরোপীয় কারুকাজখচিত স্তম্ভ, প্রাচীন নাটমন্দির ও সানবাঁধানো দীঘির পাড়ে বসে ঐতিহাসিক আবহ উপভোগ ও ফটোসেশন। দুপুর ১২:৩০ টা: মুড়াপাড়া বাজারে গিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তাজা মাছ ও স্থানীয় মিষ্টির স্বাদ গ্রহণ করে দুপুরের লাঞ্চ সম্পন্ন। দুপুর ০১:৩০ টা - বিকেল ০৫:০০ টা: মুড়াপাড়া থেকে অটোতে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটে রূপগঞ্জের ঐতিহাসিক ‘নোয়াপাড়া জামদানি পল্লী’ গমন। সেখানে ঐতিহ্যবাহী তাঁতিদের হাতে আসল জামদানি শাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া দেখা অথবা কাঞ্চন ব্রিজ হয়ে জিন্দা পার্কের প্রাকৃতিক সবুজ ছায়াবীথিতে সময় কাটানো। সন্ধ্যায় বাসে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন। ১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots) নোয়াপাড়া জামদানি পল্লী: রূপগঞ্জের বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী জামদানি তাঁতশিল্পের প্রধান কেন্দ্র (দূরত্ব মাত্র ৫ কিমি)। জিন্দা পার্ক (ঐক্যতান অরণ্য): ১৫০ একরের সুদৃশ্য কমিউনিটি ইকোপার্ক ও লেক (দূরত্ব প্রায় ১২ কিমি)। পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট): দেশের অন্যতম নান্দনিক হাইওয়ে ও জনপ্রিয় ওপেন-এয়ার ফুড স্ট্রিট। কাঞ্চন ব্রিজ ও শীতলক্ষ্যা নদী: নদীর শান্ত বাতাস ও তাজা মাছের গ্রামীণ বাজার। মায়াদ্বীপ ও পানাম নগরী: সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক প্রাচীন হারানো নগরী (কাছাকাছি সংযোগ সড়ক)। ১৫. মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ) প্রশ্ন ১: মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িতে প্রবেশের জন্য কি কোনো টিকিট লাগে? উত্তর: না, এটি সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস হওয়ায় এখানে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য কোনো প্রবেশ টিকিট লাগে না; এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিদর্শন করা যায়। প্রশ্ন ২: কোন দিনে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি যাওয়া সবচেয়ে ভালো? উত্তর: শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে যাওয়া সবচেয়ে ভালো। কারণ এ সময় কলেজ বন্ধ থাকে এবং দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে পুরো চত্বর ঘুরে ছবি তুলতে পারেন। প্রশ্ন ৩: ভবনগুলোর ভেতরের কক্ষগুলোতে কি প্রবেশ করা যায়? উত্তর: ভবনের কক্ষগুলো বর্তমানে কলেজের শ্রেণিকক্ষ, অধ্যক্ষের কার্যালয় ও প্রশাসনিক রুম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই বাইরের বারান্দা, সিঁড়ি ও প্রাঙ্গণে উন্মুক্তভাবে ঘোরা গেলেও ভেতরের অফিস কক্ষে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ। প্রশ্ন ৪: ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইক নিয়ে কি সরাসরি যাওয়া যায়? উত্তর: হ্যাঁ, ঢাকা ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার হয়ে অথবা ভুলতা গাউছিয়া দিয়ে পাকা সড়ক ধরে সরাসরি জমিদার বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি বা বাইক পার্কিং করা যায়। প্রশ্ন ৫: একই দিনে কি মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি এবং জামদানি পল্লী দুটোই ঘোরা সম্ভব? উত্তর: হ্যাঁ, মুড়াপাড়া থেকে তারাবো জামদানি পল্লী খুব কাছে (মাত্র ৫ কিলোমিটার)। অটোতে করে আধা বেলার মধ্যেই দুটি স্থান চমৎকারভাবে ঘুরে আসা যায়।
ভ্রমণের সেরা সময়
সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার (সাপ্তাহিক ছুটির দিন) হলো ঘুরে দেখার সেরা দিন, কারণ এ সময় কলেজ বন্ধ থাকে এবং দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে পুরো চত্বর ঘুরে ছবি তুলতে পারেন।