বন্দর শাহী মসজিদ (Bandar Shahi Mosque) নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত বাংলার মধ্যযুগীয় মুসলিম স্থাপত্যকল...
বন্দর শাহী মসজিদ (Bandar Shahi Mosque) নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত বাংলার মধ্যযুগীয় মুসলিম স্থাপত্যকলার এক অনন্য ও কালজয়ী নিদর্শন। সুলতানি আমলের পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে নির্মিত এই ঐতিহাসিক একগম্বুজ মসজিদটি প্রায় সাড়ে পাঁচশত বছরের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী। তৎকালীন প্রখ্যাত সুফি সাধক ও সুলতানি কর্মকর্তা মালিক আল মুয়াজ্জেম বাবা সালেহ কর্তৃক ১৪৮২ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই মসজিদটি প্রাচীন টেরাকোটা ও সুলতানি নির্মাণশৈলীর দৃষ্টিনন্দন সংমিশ্রণে পর্যটক ও ইতিহাস গবেষকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক গন্তব্য।
⏱️
ভ্রমণের সময়
১ - ২ ঘণ্টা (ডে ট্যুর)
💰
জনপ্রতি বাজেট
৩০০ - ৬০০ টাকা
🌤️
সেরা সময়
অক্টোবর থেকে মার্চ
🏡
ধরণ / ক্যাটাগরি
ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় নিদর্শন
🚶
কঠিনতার মাত্রা
সহজ (সব বয়সীদের জন্য)
👨👩👧👦
উপযুক্ত ভ্রমণকারী
পরিবার, শিক্ষার্থী ও পরিব্রাজক
🌟
প্রধান আকর্ষণ
সুলতানি গম্বুজ ও প্রাচীন স্থাপত্য
📶
নেটওয়ার্ক কভারেজ
সব অপারেটরের ৪জি/৫জি
১. বন্দর শাহী মসজিদ এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য
বন্দর শাহী মসজিদ বাংলার মুসলিম শাসনামলের এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রাপ্ত প্রাচীন ফারসি শিলালিপি অনুসারে, মসজিদটি ১৪৮২ খ্রিস্টাব্দের ১লা জিলকদ (৮৮৬ হিজরি) বাংলার ইলিয়াস শাহী বংশের পরবর্তী শাসক সুলতান জালালুদ্দীন ফতেহ শাহের রাজত্বকালে নির্মিত হয়। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতানের প্রভাবশালী রাজদরবারের রাজকীয় কর্মকর্তা (শাহী অমাত্য) মালিক আল-মুয়াজ্জেম বাবা সালেহ। বাবা সালেহ শুধু একজন দক্ষ প্রশাসকই ছিলেন না, বরং তিনি সুফি ধর্মপ্রচারক হিসেবেও সুখ্যাত ছিলেন। তিনি এই অঞ্চলে একাধিক মসজিদ, সরাইখানা ও সামাজিক স্থাপনা গড়ে তুলেছিলেন। মসজিদটির ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যিক গুরুত্ব উপলব্ধি করে ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২০ সালের ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর (তৎকালীন ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ) এটিকে সংরক্ষিত প্রাচীন পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। প্রায় সাড়ে পাঁচশত বছর পার হলেও মসজিদটির মূল সৌধ এখনও সুলতানি আমলের রাজকীয় গৌরব ধরে রেখেছে।
২. বন্দর শাহী মসজিদ কোথায় অবস্থিত
বন্দর শাহী মসজিদটি ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত বন্দর উপজেলার সালেহ নগর মহল্লায় অবস্থিত। এটি শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের মূল কেন্দ্র (যেমন ১নং ও ২নং রেলগেট) থেকে ঠিক নদী পার হয়ে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার পূর্ব দিকে অবস্থিত। মসজিদটির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক হলো অক্ষাংশ ২৩.৬১২৮° উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৯০.৫১৬৮° পূর্ব। এর অতি সন্নিকটেই ঐতিহাসিক কদম রসুল দরগাহ ও সোনাকান্দা দুর্গ অবস্থিত।
৩. বন্দর শাহী মসজিদ কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ)
- সুলতানি স্থাপত্যরীতি: এক গম্বুজ বিশিষ্ট বর্গাকার মূল প্রার্থনা কক্ষটির বহিরাংশ প্রায় ৯.৭০ মিটার এবং ভেতরের দিক ৬.২০ মিটার। চার কোণে রয়েছে চারটি সুদৃশ্য অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ (Corner Towers), যা বাংলার প্রাক-মুঘল সুলতানি স্থাপত্যের অন্যতম সিগনেচার নিদর্শন।
- বিশাল অর্ধগোলাকার গম্বুজ: ছাদের ওপর স্থাপন করা বিশাল অর্ধগোলাকার গম্বুজটি ভেতরে স্কুইঞ্চ পদ্ধতির ওপর ভর করে নির্মিত। গম্বুজের শীর্ষদেশ শোভা পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পদ্ম ও কলস ফিনিয়ালে।
- টেরাকোটা ও অলঙ্কৃত মিহরাব: কিবলা দেয়ালে রয়েছে তিনটি নিখুঁত খিলানযুক্ত অর্ধবৃত্তাকার মিহরাব। কেন্দ্রীয় মিহরাবটি আকর্ষণীয় পোড়ামাটির লতাপাতা, শিকল ও ঝুলন্ত ঘণ্টার নকশায় সুশোভিত।
- পাঁচটি প্রবেশদ্বার: আলো-বাতাস চলাচলের জন্য মসজিদের পূর্ব দেয়ালে তিনটি সূচালো খিলানযুক্ত প্রবেশপথ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে মোট পাঁচটি প্রবেশদ্বার রয়েছে।
- ঐতিহাসিক প্রাচীন পরিমণ্ডল: মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ইতিহাস খ্যাত বাবা সালেহর মাজার এবং শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের শান্ত পরিবেশ এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক প্রশান্তি দান করে।
৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট)
১ম ধাপ: দূরপাল্লার যাতায়াত:
🚌 ১. সরাসরি দূরপাল্লার বাসে যাতায়াত:
ঢাকা শহরের গুলিস্তান (ফুলবাড়িয়া / সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স চত্বর) কিংবা যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচ থেকে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জগামী প্রচুর এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করে।
- বাসের কাউন্টার: গুলিস্তান আহাদ পুলিশ বক্স, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার প্রান্ত, যাত্রাবাড়ী ও সাইনবোর্ড।
- জনপ্রিয় বাস কোম্পানি: শীতল পরিবহন (প্রিমিয়াম এসি বাস), উৎসব পরিবহন, বন্ধন পরিবহন ও আনন্দ পরিবহন (নন-এসি)।
- ভাড়া ও সময়: নন-এসি বাসে ভাড়া জনপ্রতি ৫৫ - ৬০ টাকা; এসি বাসে ভাড়া ১০০ - ১২০ টাকা। জ্যামমুক্ত থাকলে যাত্রাবাড়ী থেকে চাষাঢ়া পৌঁছাতে মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে। নামতে হবে নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া অথবা শেষ গন্তব্য ১নং / ২নং রেলগেটে।
🚆 ২. ট্রেনে যাতায়াত:
ঢাকা থেকে যানজটহীন ও সবচেয়ে সাশ্রয়ীভাবে পৌঁছানোর সেরা মাধ্যম হলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ কমিউটার ট্রেন সার্ভিস। ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পরপর একাধিক কমিউটার ট্রেন নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
| ট্রেনের নাম |
ছাড়ার স্থান ও সময় (কমলাপুর) |
গন্তব্য স্টেশন |
ভাড়া ও সময়সীমা |
| নারায়ণগঞ্জ কমিউটার (সারাদিন চলমান) |
সকাল ০৭:০০, ০৯:১৫, ১১:৩০, দুপুর ০২:৩০, বিকাল ০৪:৪৫ ও সন্ধ্যা ০৬:৩০ |
নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল স্টেশন |
ভাড়া মাত্র ১৫ - ২০ টাকা (সময় লাগে ৪৫-৫০ মিনিট) |
✈️ ৩. আকাশপথ / বিমান সংযোগ:
বিদেশ বা দূরবর্তী জেলা (চট্টগ্রাম, সিলেট, সৈয়দপুর, যশোর, কক্সবাজার) থেকে বিমানে আসতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকায় অবতরণ করতে হবে। বিমানবন্দর থেকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার অতিক্রম করে নিজস্ব গাড়ি বা রাইড শেয়ারে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ পৌঁছানো যায়।
২য় ধাপ: স্থানীয় পয়েন্ট থেকে মূল গন্তব্য:
নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল স্টেশন বা ১নং রেলগেটে নেমে মাত্র ৫ মিনিট হেঁটে সেন্ট্রাল লঞ্চ ঘাট / বন্দর খেয়াঘাটে যান। সেখান থেকে ট্রলার বা দেশি নৌকায় জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা ভাড়ায় মাত্র ৩ মিনিটে শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে অপর পাড়ের বন্দর ঘাট (Bandar Kheya Ghat)-এ পৌঁছাবেন। বন্দর ঘাটে নেমেই সারি সারি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা পাবেন। বন্দর ঘাট থেকে সালেহ নগর শাহী মসজিদ রোডে অটোরিকশায় জনপ্রতি ভাড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা (অথবা পুরো রিকশা রিজার্ভ নিলে ৪০ থেকে ৬০ টাকা)। নদী ঘাট থেকে মসজিদে পৌঁছাতে মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগবে।
৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration)
বন্দর শাহী মসজিদ পরিদর্শনের জন্য মূলত ১ থেকে দেড় ঘণ্টা সময় যথেষ্ট। তবে এর সাথে নিকটবর্তী ঐতিহাসিক কদম রসুল দরগাহ, বাবা সালেহর মাজার এবং সোনাকান্দা জলদুর্গ ঘুরে দেখতে সর্বমোট আধা বেলা বা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার একটি চমৎকার ডে-ট্যুর পরিকল্পনা করা আদর্শ। ঢাকা থেকে সকালে রওনা হয়ে বিকেল নাগাদ পুরো বন্দর ও শীতলক্ষ্যার পার ঘুরে সন্ধ্যার আগেই ঢাকায় ফিরে আসা সম্ভব।
৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person)
| খাত |
বিবরণ |
আনুমানিক খরচ (টাকা) |
| ঢাকা - নারায়ণগঞ্জ যাতায়াত (আসা-যাওয়া) |
নন-এসি বাস বা কমিউটার ট্রেন (উভয়মুখী) |
৳ ৪০ - ১২০ টাকা |
| শীতলক্ষ্যা নদী পারাপার |
ইঞ্জিন চালিত ট্রলার / নৌকা (আসা-যাওয়া) |
৳ ১০ - ২০ টাকা |
| স্থানীয় রিকশা ও অটোরিকশা ভাড়া |
বন্দর ঘাট থেকে মসজিদ ও আশপাশের স্পট |
৳ ৫০ - ১০০ টাকা |
| খাবার ও হালকা নাশতা |
দুপুরের খাবার ও স্থানীয় মিষ্টি/চা |
৳ ১৫০ - ২৫০ টাকা |
| বিবিধ / এন্ট্রি ফি |
মসজিদে কোনো প্রবেশ ফি নেই (দান বাক্স ঐচ্ছিক) |
৳ ২০ - ৫০ টাকা |
| সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (জনপ্রতি) |
৳ ২৭০ - ৫৪০ টাকা |
৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি
বন্দর শাহী মসজিদ পরিদর্শনের জন্য কোনো পূর্বানুমতি বা প্রশাসনিক পাস প্রয়োজন হয় না। এখানে আলাদা কোনো পেশাদার গাইডের প্রয়োজন নেই; স্থানীয় প্রবীণ খাদেম ও স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত বিনয়ী এবং তাঁরাই সানন্দে মসজিদটির শতবর্ষী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গল্প শোনান। নারীদের জন্য মার্জিত পোশাক পরিধান করা সমীচীন এবং নামাজের ওয়াক্তের সময় প্রার্থনারত মুসল্লিদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা বাঞ্ছনীয়।
৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options)
যেহেতু এটি ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, তাই এটি পরিদর্শনের জন্য রাতে থাকার কোনো আবশ্যকতা নেই। পর্যটকরা সাধারণত দিনব্যাপী সফর শেষ করে সন্ধ্যায় ঢাকা ফিরে যান। তবে দূরবর্তী জেলা থেকে আগত পর্যটকরা যদি নারায়ণগঞ্জে রাতযাপন করতে চান, তবে চাষাঢ়া ও শহরের প্রাণকেন্দ্রে মানসম্মত বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। যেমন: হোটেল সোনারগাঁও ইন্টারন্যাশনাল (চাষাঢ়া), হোটেল মেহরান, কিংবা আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন গেস্টহাউস। এসব হোটেলে ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে সিঙ্গেল ও ডিলাক্স রুম পাওয়া যায়।
৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies)
- নারায়ণগঞ্জের বিখ্যাত মিষ্টি: চাষাঢ়া ও বন্দর এলাকার মিষ্টির দোকানগুলোর ছানার রসগোল্লা, কাঁচাগোল্লা ও গরম গরম জিলাপি অত্যন্ত লোভনীয়।
- নদীর তাজা মাছ ও ঐতিহ্যবাহী ভর্তা-ভাত: বন্দর ঘাট ও নদী তীরের লোকাল ভাতের হোটেলগুলোতে শীতলক্ষ্যা ও মেঘনার তাজা মাছের ঝোল ও রকমারি ভর্তা দিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে দুপুরের খাবার খেতে পারেন।
- মোগলাই পরোটা ও কাচ্চি বিরিয়ানি: নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া মোড়ে নামকরা কাচ্চি ও পুরান ঢাকার ঘরানার ট্রেডিশনাল তেহারি ও মোগলাই খাবারের স্বাদ নিতে পারেন।
১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist)
- মসজিদের পবিত্রতা বজায় রাখতে শালীন ও আরামদায়ক সুতি পোশাক (মহিলাদের জন্য ওড়না বা হিজাব)।
- সহজে খোলা ও পরা যায় এমন আরামদায়ক স্লিপার বা জুতো।
- মোবাইল ক্যামেরা বা ভালো মানের ডিএসএলআর ক্যামেরা (স্থাপত্যের নিখুঁত ছবি তোলার জন্য)।
- রোদের সুরক্ষায় সানগ্লাস, টুপি এবং ব্যক্তিগত পানির বোতল।
- জরুরি প্রয়োজনে কিছু ক্যাশ টাকা (লোকাল নৌকা ও রিকশায় অনলাইন পেমেন্ট সব সময় কার্যকর নয়)।
১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা
⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি:
- শীতলক্ষ্যা নদী ট্রলার বা নৌকায় পারাপারের সময় অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং নৌকায় শান্তভাবে বসুন।
- যেহেতু এটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্মৃতিসৌধ ও পবিত্র উপাসনালয়, তাই প্রাচীন দেওয়ালের গায়ে কোনো প্রকার দাগ কাটা বা ক্ষয়ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
- জামাতে নামাজের সময় ছবি তোলা বা জোরে কথা বলে মুসল্লিদের একাগ্রতা নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন।
- স্থানীয় বন্দর বাজারে কেনাকাটা ও ভ্রমণের সময় ব্যক্তিগত মোবাইল ও মানিব্যাগের প্রতি যত্নশীল থাকুন।
১২. বন্দর শাহী মসজিদ ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit)
বন্দর শাহী মসজিদ ভ্রমণের সেরা সময় হলো শীতকাল অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। এ সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে, রোদের তীব্রতা কম থাকে এবং শীতলক্ষ্যা নদীর শান্ত আবহাওয়ায় নৌকাভ্রমণ অত্যন্ত আনন্দদায়ক হয়। দিনের বেলায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে অথবা বিকেল ৩টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টি ছবি তোলা ও ঘুরে দেখার জন্য সবচেয়ে চমৎকার।
১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি)
সকাল ০৮:৩০ - ০৯:৩০: ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে অথবা কমলাপুর থেকে ট্রেনে চেপে নারায়ণগঞ্জ টার্মিনালে আগমন।
সকাল ০৯:৪৫ - ১০:০০: সেন্ট্রাল খেয়াঘাট থেকে শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে বন্দর ঘাটে পৌঁছানো।
সকাল ১০:১৫ - ১১:১৫: অটো নিয়ে বন্দর শাহী মসজিদে প্রবেশ, সুলতানি স্থাপত্য অবলোকন, ইতিহাস পর্যালোচনা ও ফটোগ্রাফি।
সকাল ১১:৩০ - ১২:৩০: নিকটবর্তী ঐতিহাসিক কদম রসুল দরগাহ ও বাবা সালেহর মাজার জিয়ারত।
দুপুর ১২:৪৫ - ০২:০০: অটোরিকশা নিয়ে সোনাকান্দা জলদুর্গ পরিদর্শন এবং শীতলক্ষ্যার মোহনায় বিশুদ্ধ বাতাস উপভোগ।
দুপুর ০২:১৫ - ০৩:৩০: নদী পার হয়ে নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়ায় ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মিষ্টি উপভোগ।
বিকাল ০৪:০০: বাস বা ট্রেনে চড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে সফল ডে-ট্যুর সমাপ্তি।
১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots)
- কদম রসুল দরগাহ: বন্দর শাহী মসজিদের অতি নিকটে অবস্থিত যেখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র পদচিহ্ন সংবলিত কালো পাথর সংরক্ষিত রয়েছে।
- সোনাকান্দা জলদুর্গ: মোগল সুবাদার মীর জুমলা কর্তৃক সপ্তদশ শতকে নির্মিত জলদস্যু প্রতিরোধী ত্রিভুজাকার ঐতিহাসিক দুর্গ।
- হাজীগঞ্জ দুর্গ (খিজিরপুর দুর্গ): শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে নারায়ণগঞ্জ অংশে অবস্থিত অপর এক মোগল জলদুর্গ।
- বাবা সালেহর মাজার: মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সাধক বাবা সালেহর প্রাচীন সমাধি সৌধ।
- পানাম নগর ও সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর: বন্দর থেকে সিএনজি বা গাড়িতে মাত্র ২৫-৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক পানাম নগর ও বড় সর্দার বাড়িতে যাওয়া সম্ভব।
১৫. বন্দর শাহী মসজিদ সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: বন্দর শাহী মসজিদটি কখন এবং কার আমলে নির্মিত হয়েছিল?
উত্তর: মসজিদটি ১৪৮২ খ্রিস্টাব্দে (৮৮৬ হিজরি) বাংলার সুলতান জালালুদ্দীন ফতেহ শাহের রাজত্বকালে তাঁর শাহী কর্মকর্তা বাবা সালেহ কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ২: এই মসজিদে প্রবেশের জন্য কোনো টিকেট বা ফি দিতে হয় কি?
উত্তর: না, এটি একটি উন্মুক্ত ঐতিহাসিক মসজিদ ও ধর্মীয় স্থান। এখানে প্রবেশের জন্য কোনো ধরনের প্রবেশ ফি বা টিকেটের প্রয়োজন হয় না।
প্রশ্ন ৩: প্রাচীন এই মসজিদে কি এখনও জামাতে নামাজ আদায় করা হয়?
উত্তর: প্রাচীন মূল ভবনটি এখন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। মূল ভবনের সাথে লাগোয়া আধুনিক তিনতলা জামে মসজিদ নির্মিত হওয়ায় বর্তমানে পাশেই নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করা হয়।
প্রশ্ন ৪: নারীরা কি মসজিদটি পরিদর্শন করতে পারবেন?
উত্তর: হ্যাঁ, মার্জিত ও শালীন পোশাক পরিধান করে নারীরা মসজিদের বাইরের চত্বর ও স্থাপত্যশৈলী ঘুরে দেখতে পারেন।
প্রশ্ন ৫: ঢাকা থেকে বন্দর শাহী মসজিদে পৌঁছাতে কতক্ষণ সময় লাগে?
উত্তর: ট্রাফিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ঢাকা গুলিস্তান বা কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে নদী পারাপারসহ মোট ১ ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের মধ্যেই মসজিদে পৌঁছে যাওয়া যায়।