সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্ক ভ্রমণ গাইড 2026 | খরচ ও যাওয়ার উপায়
সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্ক (Sonaimuri Binodon Park) হলো নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে অবস্থিত একটি নয়নাভিরাম ও...
Sonaimuri Binodon Park (সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্ক)
সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্ক (Sonaimuri Binodon Park) হলো নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে অবস্থিত একটি নয়নাভিরাম ও বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি ইকো-পার্ক। সমতল পললভূমির জেলা হিসেবে পরিচিত নরসিংদীতে মধুপুর গড়ের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠা লাল মাটির এই সুবিশাল টিলা ও পাহাড় এক অপূর্ব প্রাকৃতিক বিস্ময়। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট উঁচু সুউচ্চ লাল মাটির টিলা, সুবিশাল শালবন, লেক, প্যাডেল বোটিং এবং টিলার ওপর নির্মিত সুদৃশ্য ওয়াচ টাওয়ারের কারণে এটি পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের উদ্যোগে লাল মাটির টিলার প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রেখে গড়ে তোলা এই পার্কটি পরিবার, শিক্ষার্থী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য রাজধানী ঢাকা থেকে এক দিনের চমৎকার ভ্রমণ ও পিকনিকের ঠিকানা। ⏱️ ভ্রমণের সময় ১ দিন (ডে-ট্যুর) 💰 জনপ্রতি বাজেট ৫০০ - ৮০০ টাকা 🌤️ সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ 🏡 ধরণ / ক্যাটাগরি প্রাকৃতিক টিলা ও ইকো-পার্ক 🚶 কঠিনতার মাত্রা সহজ টিলা আরোহণ (Mild) 👨👩👧👦 উপযুক্ত ভ্রমণকারী পরিবার, তরুণ ও পিকনিক দল 🌟 প্রধান আকর্ষণ লাল মাটির পাহাড় ও ওয়াচ টাওয়ার 📶 নেটওয়ার্ক কভারেজ সব অপারেটর (4G/5G) ১. সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্ক এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্কের ভৌগোলিক ভিত্তি গড়ে উঠেছে প্রাচীন প্লাইস্টোসিন যুগের ভূ-প্রাকৃতিক গঠনের ওপর। ভূতাত্ত্বিকভাবে এটি বৃহত্তর মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ের পূর্বাঞ্চলীয় শাখা টিলাময় ভূমির অংশ। সমতল নদীবাহিত গাঙ্গেয় অববাহিকার মাঝে প্রায় ৩০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই লাল মাটির উঁচু টিলাটি বহু প্রাচীনকাল থেকেই স্থানীয়দের কাছে একটি অনন্য স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০৮-২০০৯ সালের দিকে তৎকালীন স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ এবং সমাজসেবকদের উদ্যোগে প্রাকৃতিক এই লাল টিলাটিকে একটি সার্বজনীন বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে টিলার প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে এখানে সিঁড়িপথ, সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার (Watch Tower), বসার বেঞ্চ, কৃত্রিম লেক এবং শিশুদের বিনোদনের সামগ্রী স্থাপন করা হয়। এটি সরকারিভাবে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের নজরদারিতে একটি পরিবেশবান্ধব ইকো-পার্ক হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। ২. সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্ক কোথায় অবস্থিত সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্ক ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী নামক পাহাড়ি গ্রামে অবস্থিত। এটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কুন্দারপাড়া বা মরজাল মোড় থেকে কয়েক কিলোমিটার উত্তরে শিবপুর-মনোহরদী আঞ্চলিক সড়কের পাশে শান্ত ও সবুজে ঘেরা পরিবেশে অবস্থিত। নরসিংদী জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কিলোমিটার এবং রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান বা সায়েদাবাদ থেকে এর সড়ক দূরত্ব প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার। ৩. সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্ক কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ) লাল মাটির সুউচ্চ টিলা ও পাহাড়: সমতল সমভূমির মাঝে প্রায় ৫০-৬০ ফুট উঁচু লাল মাটির টিলায় আরোহণ করে পাহাড়ি রোমাঞ্চ উপভোগ করা যায়। সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার (Watch Tower): পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় নির্মিত পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে দূর-দূরান্তের সবুজ বনানী, ফসলের মাঠ এবং গ্রামীণ ল্যান্ডস্কেপের এক অনিন্দ্যসুন্দর প্যানোরামিক ভিউ দেখা যায়। সবুজ শালবন ও জীববৈচিত্র্য: টিলার চারপাশে রয়েছে সুদৃশ্য শাল-গজারির বন, মেহগনি ও ফলদ বৃক্ষ, যা এক প্রশান্তিময় ছায়াঘেরা অরণ্যের আবহ তৈরি করে। পাহাড়ি লেক ও প্যাডেল বোটিং: টিলার পাদদেশে খনন করা লেকে পরিবার বা বন্ধুদের সাথে প্যাডেল বোটে জলভ্রমণ করা যায়। খোলামেলা পিকনিক স্পট: শীত মৌসুমে বন্ধু, পরিবার বা অফিসিয়াল পিকনিকের জন্য পার্কের সমতল প্রান্তরে রান্নাবান্না ও সময় কাটানোর সুব্যবস্থা রয়েছে। শিশুদের ড্রিম কর্নার: শিশুদের জন্য দোলনা, স্লিপার ও সাধারণ রাইড যা শিশুদের আনন্দে ভরিয়ে রাখে। ৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট) ১ম ধাপ: দূরপাল্লার যাতায়াত: 🚌 ১. বাসে সরাসরি নরসিংদী / মরজাল / শিবপুর যাতায়াত: ঢাকা থেকে সড়কপথে সোনাইমুড়ী পার্কে যাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি রুট রয়েছে: রুট ১ (মহাখালী বাস টার্মিনাল হয়ে): মহাখালী থেকে কিশোরগঞ্জ বা মনোহরদীগামী বাসে (যেমন: অনন্যা ক্লাসিক, জলছত্র বা ঢাকা মেট্রো) উঠে সরাসরি শিবপুরের ইটাখোলা মোড় অথবা বাঘাব বাসস্ট্যান্ডে নামা যায়। ভাড়া ১২০-১৫০ টাকা। রুট ২ (সায়েদাবাদ / গুলিস্তান হয়ে): ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বা কিশোরগঞ্জগামী যেকোনো দূরপাল্লার বাসে উঠে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের 'ইটাখোলা মোড়' বা 'মরজাল বাসস্ট্যান্ড' নামতে হবে। ভাড়া ১২০-১৬০ টাকা। সিলেট / চট্টগ্রাম থেকে: সিলেট থেকে ঢাকাগামী বাসে সরাসরি মরজাল বা ইটাখোলা নামা যায়। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাসে মদনপুর নেমে কাঁচপুর হয়ে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে দিয়ে আসতে হবে। 🚆 ২. ট্রেনে যাতায়াত: ঢাকার কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেনে করে নরসিংদী বা মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনে নেমে সহজে সোনাইমুড়ী পার্কে যাওয়া যায়: ট্রেনের নাম ছাড়ার সময় (কমলাপুর) গন্তব্য স্টেশন ভাড়া ও কানেক্টিং রুট তিতাস কমিউটার সকাল ৯:৪৫ মি. নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন ৪০-৫০ টাকা (স্টেশন থেকে সিএনজিতে ইটাখোলা হয়ে পার্ক) এগারসিন্দুর প্রভাতী সকাল ৬:৪৫ মি. নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন ৯০-১৫০ টাকা (স্টেশন থেকে সিএনজি বা অটো) ✈️ ৩. আকাশপথ / প্রাইভেট কারে ড্রাইভ: শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DAC) বা উত্তরা থেকে কুড়িল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে ধরে কাঞ্চন ব্রিজ ও ভুলতা বাইপাস হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ইটাখোলা মোড় হয়ে নিজস্ব কার বা মাইক্রোবাসে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টায় সরাসরি সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্কের ফটকে পৌঁছানো যায়। ২য় ধাপ: স্থানীয় পয়েন্ট থেকে মূল গন্তব্য: ইটাখোলা মোড় থেকে: ইটাখোলা গোলচত্বর নেমে সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় শিবপুর বাজার হয়ে সোনাইমুড়ী পার্কে যাওয়া যায়। দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার, জনপ্রতি ভাড়া ৩০-৪০ টাকা। মরজাল বাসস্ট্যান্ড / শিবপুর বাজার থেকে: মরজাল থেকে অটোরিকশা বা সিএনজি রিজার্ভ নিলে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় সরাসরি সোনাইমুড়ী টিলার গেটে নামিয়ে দেয় (সময় লাগে প্রায় ১৫-২০ মিনিট)। ৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration) সোনাইমুড়ী টিলা আরোহণ, ওয়াচ টাওয়ারে বসে চারপাশের প্রকৃতি দর্শন, বোটিং এবং পুরো বন প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখতে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। সকালবেলা ঢাকা বা পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে রওনা দিয়ে এটি এক দিনের চমৎকার ডে-ট্যুর। এই ভ্রমণের সাথে একই দিনে বেলাবোর বিখ্যাত উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা অথবা লটকনের বাগান (সিজনে) যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্মৃতিমধুর ভ্রমণ সম্পন্ন করা যায়। ৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person) খাত বিবরণ আনুমানিক খরচ (টাকা) যাতায়াত ভাড়া (বাস ও স্থানীয় অটো) ঢাকা থেকে ইটাখোলা বাস এবং লোকাল সিএনজি/অটো (যাওয়া-আসা) ২৫০ - ৩৫০ টাকা প্রবেশ টিকিট পার্কে প্রবেশ ফি (জনপ্রতি) ২০ - ৩০ টাকা প্যাডেল বোটিং (ঐচ্ছিক) লেকে ২০-৩০ মিনিট বোট রাইডিং ৫০ - ১০০ টাকা খাবার ও জলখাবার দুপুরের দেশীয় খাবার, ডাব ও হালকা স্ন্যাক্স ১৫০ - ২৫০ টাকা সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (জনপ্রতি) ৳ ৫০০ - ৮০০ টাকা ৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্কে প্রবেশের জন্য কোনো পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন নেই। পার্কের প্রধান প্রবেশদ্বারে নামমাত্র মূল্যের টিকিট কেটে যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন। এটি একটি স্থানীয় ইকো-পার্ক হওয়ায় আলাদা কোনো পেশাদার গাইডের প্রয়োজন হয় না; সিঁড়িপথ ও নির্দেশিকা অনুসরণ করে টিলা ও ওয়াচ টাওয়ারে যাওয়া যায়। সার্বিক এলাকাটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও বন বিভাগের সুরক্ষায় পরিচালিত হওয়ায় পরিবার ও নারী পর্যটকদের জন্য পরিবেশ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ। ৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options) ঢাকা থেকে সকালবেলা এসে বিকেলে বা সন্ধ্যায় ফিরে যাওয়াই সবচেয়ে সুবিধাজনক। তবে কেউ যদি রাতে নরসিংদীতে অবস্থান করতে চান: শিবপুর উপজেলা সদর: শিবপুর সদরে উপজেলা ডাকবাংলো ও সাধারণ মানের গেস্টহাউস রয়েছে। নরসিংদী জেলা শহর: পার্ক থেকে মাত্র ১৮ কিমি দূরে নরসিংদী জেলা সদরে সার্কিট হাউজ, ড্রিম ক্যাফে অ্যান্ড গেস্টহাউজ এবং মাঝারি মানের বেশ কয়েকটি ভালো আবাসিক হোটেল রয়েছে। ড্রিম হলিডে পার্ক কটেজ: পাঁচদোনায় ড্রিম হলিডে পার্কের নিজস্ব চমৎকার বিলাসবহুল কটেজে রাত্রিযাপন করা যায়। ৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies) নরসিংদীর সুস্বাদু লটকন: শিবপুর ও বেলাবো এলাকা বাংলাদেশের প্রধান লটকন উৎপাদনের রাজধানী। জুন থেকে আগস্ট মাসে আসলে গাছপাকা টাটকা মিষ্টি লটকন চেখে দেখতে ভুলবেন না। অমৃত সাগর ও সবরি কলা: শিবপুরের স্থানীয় হাটগুলোতে বিখ্যাত খাঁটি অমৃত সাগর ও মনোহরদী-শিবপুরের সুমিষ্ট কলা পাওয়া যায়। ইটাখোলা মোড়ের হাইওয়ে রেস্তোরাঁ: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ইটাখোলা মোড়ের হোটেলগুলোতে সুস্বাদু দেশি মোরগ ভুনা, বাউশ ও নদীর মাছের ঝোল পাওয়া যায়। শিবপুরের স্পেশাল মিষ্টি: স্থানীয় শিবপুর বাজারের রসগোল্লা ও প্যারা সন্দেশ বেশ জনপ্রিয়। ১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist) গ্রিপযুক্ত আরামদায়ক জুতো: লাল মাটির টিলায় ওঠার জন্য স্নিকার্স বা ভালো গ্রিপযুক্ত জুতো পরিধান করা জরুরি। ক্যাপ ও ছাতা: টিলার চূড়ায় রোদের প্রকোপ থেকে বাঁচতে হ্যাট, সানগ্লাস বা ছাতা। পানির বোতল ও গ্লুকোজ: টিলায় ওঠার পর ক্লান্তি দূর করতে পর্যাপ্ত খাবার পানি। ক্যামেরা / মোবাইল ব্যাকআপ: ওয়াচ টাওয়ার থেকে মনোরম সবুজ প্রকৃতির ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা ও পাওয়ার ব্যাংক। নগদ অর্থ: স্থানীয় যানবাহন ও টিকেট কাউন্টারে ক্যাশ টাকার প্রয়োজন হবে। ১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা ⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি: বর্ষাকালে লাল মাটির পথ অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যায়, তাই সিঁড়ি বা টিলায় হাঁটার সময় সতর্ক থাকুন। ওয়াচ টাওয়ারের রেলিংয়ে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে সেলফি তোলা বা ধাক্কাধাক্কি করা সম্পূর্ণ অনুচিত। পাহাড়ের ক্ষয়রোধে লাল মাটির খাঁদ খুঁড়বেন না এবং কোনো গাছের ডালপালা ভাঙবেন না। প্লাস্টিক, চিপসের প্যাকেট বা পানির বোতল পাহাড়ে না ফেলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন। সন্ধ্যার আগেই পাহাড়ের চূড়া ও পার্ক চত্বর থেকে নেমে আসা নিরাপদ। ১২. সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্ক ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit) সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্ক ভ্রমণের সর্বোত্তম সময় হলো শীত ও বসন্তকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ মাস)। এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক ও নাতিশীতোষ্ণ থাকে এবং পাহাড়ে ওঠা সহজ ও মনোরম হয়। তবে আপনি যদি গাছে গাছে লটকনের থোকা এবং সবুজ প্রকৃতির রূপ দেখতে চান, তবে জুন-জুলাই মাসের বর্ষাকালও দারুণ, তবে সে সময় টিলা কিছুটা পিচ্ছিল থাকে বিধায় সাবধানে হাঁটতে হয়। দিনের বেলায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা অথবা দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়টি ঘুরে দেখার জন্য সবচেয়ে আদর্শ। ১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি) সকাল ৮:০০ - সকাল ৯:৩০: মহাখালী বা সায়েদাবাদ থেকে বাসে চেপে কাঁচপুর ও নরসিংদী বাইপাস হয়ে ইটাখোলা মোড়ে পৌঁছানো। সকাল ৯:৪৫ - সকাল ১০:১৫: ইটাখোলা মোড় থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় শিবপুরের সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্কের গেটে পৌঁছানো ও টিকিট সংগ্রহ। সকাল ১০:১৫ - দুপুর ১২:৩০: লাল মাটির টিলায় আরোহণ, ওয়াচ টাওয়ারে বসে সবুজ দিগন্ত অবলোকন ও ফটোগ্রাফি। দুপুর ১২:৩০ - দুপুর ১:১৫: পাহাড়ের পাদদেশের শান্ত লেকে প্যাডেল বোটিং ও শালবনে ছায়ায় বিশ্রাম। দুপুর ১:৩০ - দুপুর ২:৩০: শিবপুর বাজার বা ইটাখোলা হাইওয়ে রেস্তোরাঁয় ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে মধ্যাহ্নভোজ। বিকেল ৩:০০ - বিকেল ৪:৩০: নিকটস্থ উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নতাত্ত্বিক দুর্গ-নগরী ও প্রত্ন জাদুঘর পরিদর্শন। বিকেল ৫:০০: ইটাখোলা হাইওয়ে থেকে ঢাকাগামী ফিরতি বাসে উঠে সন্ধ্যার মধ্যেই রাজধানী ঢাকায় ফেরা। ১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots) উয়ারী-বটেশ্বর: বেলাবো উপজেলার প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক সভ্যতা ও দুর্গ-নগরী (সোনাইমুড়ী থেকে মাত্র ১০ কিমি দূরে)। অসমরাজার গড়: শিবপুর ও বেলাবোর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন ঐতিহাসিক মাটির দুর্গ প্রাচীর। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর: রায়পুরা উপজেলার রামনগরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের পৈতৃক বাড়ি ও সংগ্রহশালা। ড্রিম হলিডে পার্ক: পাঁচদোনায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট ও ওয়াটার পার্ক। ১৫. সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্ক সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ) প্রশ্ন ১: সোনাইমুড়ী বিনোদন পার্কের প্রবেশ টিকিট ফি কত? উত্তর: সাধারণত জনপ্রতি প্রবেশ টিকিট মূল্য মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকা নির্ধারিত থাকে। প্রশ্ন ২: পার্কটি প্রতিদিন কখন খোলে এবং কখন বন্ধ হয়? উত্তর: পার্কটি সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে সূর্যাস্ত (সন্ধ্যা ৬:০০ টা) পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য খোলা থাকে। প্রশ্ন ৩: সমতল জেলা নরসিংদীতে পাহাড় বা টিলা কীভাবে এলো? উত্তর: ভূতাত্ত্বিকভাবে এটি মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ের প্লাইস্টোসিন যুগের লাল মাটির উঁচু ভূ-প্রকৃতির একটি অংশ, যা শিবপুর ও মনোহরদী অঞ্চলজুড়ে টিলা আকারে বিস্তৃত। প্রশ্ন ৪: এখানে কি পিকনিক বা রান্নাবান্নার ব্যবস্থা আছে? উত্তর: হ্যাঁ, শীতের মৌসুমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও কর্পোরেট গ্রুপগুলোর জন্য পিকনিকের জন্য নির্দিষ্ট খোলামেলা শেড ও স্থান রয়েছে। প্রশ্ন ৫: টিলায় ওঠার জন্য কি পাহাড়ি ট্র্যাকিংয়ের অভিজ্ঞতা লাগে? উত্তর: একদমই না। টিলার উচ্চতা প্রায় ৫০-৬০ ফুট এবং উপরে ওঠার জন্য সুন্দর বাঁধানো সিঁড়িপথ রয়েছে, ফলে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরাও সহজে উঠতে পারেন।
ভ্রমণের সেরা সময়
দিনের বেলায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা অথবা দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়টি ঘুরে দেখার জন্য সবচেয়ে আদর্শ।