ড্রিম হলিডে পার্ক ভ্রমণ গাইড 2026 | খরচ ও যাওয়ার উপায়
ড্রিম হলিডে পার্ক (Dream Holiday Park) হলো বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এবং সর্ববৃহৎ পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র...
Dream Holiday Park (ড্রিম হলিডে পার্ক)
ড্রিম হলিডে পার্ক (Dream Holiday Park) হলো বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এবং সর্ববৃহৎ পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র ও অ্যামিউজমেন্ট থিম পার্ক। রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে নরসিংদী জেলার পাঁচদোনায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কোল ঘেঁষে প্রায় ৬০ একর সুবিশাল প্রাকৃতিক ও সবুজে ঘেরা ভূমির ওপর এটি গড়ে উঠেছে। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পার্কটিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ওয়াটার পার্ক, কৃত্রিম ঢেউ খেলানো ওয়েভ পুল, রোমাঞ্চকর রোলার কোস্টার, ক্যাবল কার, স্কাই ড্রাইভ, প্যাডেল বোটিং এবং শিশুদের জন্য রঙিন ড্রিমল্যান্ড। আধুনিক বিনোদন ও নান্দনিক প্রাকৃতিক রূপের অপূর্ব মেলবন্ধন থাকায় পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং স্কুল-কলেজ বা কর্পোরেট পিকনিকের জন্য এটি দেশের অন্যতম সেরা এক দিনের ভ্রমণ গন্তব্য (Day Tour Destination)। ⏱️ ভ্রমণের সময় ১ দিন (পূর্ণাঙ্গ ডে-ট্যুর) 💰 জনপ্রতি বাজেট ৮০০ - ১,৫০০ টাকা 🌤️ সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ 🏡 ধরণ / ক্যাটাগরি থিম ও ওয়াটার পার্ক 🚶 কঠিনতার মাত্রা খুব সহজ (Easy Walk) 👨👩👧👦 উপযুক্ত ভ্রমণকারী পরিবার, শিশু ও পিকনিক গ্রুপ 🌟 প্রধান আকর্ষণ ওয়েভ পুল ও রাইডসমূহ 📶 নেটওয়ার্ক কভারেজ সব অপারেটর (4G/5G) ১. ড্রিম হলিডে পার্ক এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য ড্রিম হলিডে পার্কের পেছনের মূল উদ্যোক্তা হলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সাহা। তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণ করে উপলব্ধি করেন যে, বাংলাদেশের মানুষের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য রাজধানী ঢাকার কাছে একটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব পারিবারিক থিম পার্কের দারুণ অভাব রয়েছে। এই দর্শনকে বাস্তবায়ন করতে তিনি নরসিংদীর পাঁচদোনায় ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের পাশে জমি অধিগ্রহণ করে পার্কটির পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কয়েক বছরের নিরলস নির্মাণযজ্ঞ শেষে ২০১১ সালের ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রিম হলিডে পার্ক সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রথম দিকে সাধারণ কয়েকটি রাইড ও বোট নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ধীরে ধীরে এটিতে আন্তর্জাতিক মানের ওয়েভ পুল, ওয়াটার স্লাইড, এয়ার বাইসাইকেল, ডুপ্লেক্স কটেজ এবং কনভেনশন সেন্টার সংযুক্ত করা হয়। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট থিম পার্কগুলোর অন্যতম প্রতীক হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। ২. ড্রিম হলিডে পার্ক কোথায় অবস্থিত ড্রিম হলিডে পার্ক ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের চৈতাব নামক এলাকায় অবস্থিত। পার্কটি একেবারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের (এন২) উত্তর পাশে অবস্থিত হওয়ায় যেকোনো যানবাহনেই সরাসরি পার্কের প্রধান ফটকের সামনে নামা যায়। ঢাকা জিরো পয়েন্ট (গুলিস্তান/সায়েদাবাদ) থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব প্রায় ৪১ থেকে ৪৫ কিলোমিটার এবং নরসিংদী জেলা সদর থেকে এটি মাত্র ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। ৩. ড্রিম হলিডে পার্ক কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ) বিশ্বমানের ওয়েভ পুল (Wave Pool): সমুদ্রের মতো উত্তাল কৃত্রিম ঢেউয়ের মাঝে মিউজিকের তালে তালে গোসল ও সাঁতার কাটার এক অনাবিল রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। ওয়াটার পার্ক ও স্লাইড: নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য পৃথক নিরাপদ ওয়াটার স্লাইড, স্প্ল্যাশ পুল ও কৃত্রিম ঝরনা। রোমাঞ্চকর ড্রাই রাইডস: আকাশচুম্বী রোলার কোস্টার, এয়ার বাইসাইকেল, ক্যাবল কার, পাইরেট শিপ, সুইং চেয়ার ও স্পিড বোট। নান্দনিক কৃত্রিম লেক ও প্যাডেল বোট: সবুজ গাছপালায় ঘেরা সুবিশাল লেকে শান্ত পরিবেশে বোটিং করার দারুণ সুযোগ। আইস ক্যাসেল ও ভুতুড়ে বাড়ি (Haunted House): শিশুদের কল্পনা ও সাহসের পরীক্ষা নিতে তৈরি আধুনিক প্রযুক্তির থিম হাউস। কটেজ ও পিকনিক স্পট: ডে-আউট বা কর্পোরেট পিকনিকের জন্য মায়াবী বাংলো, সুসজ্জিত পিকনিক শেড ও আধুনিক কনফারেন্স হল। ৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট) ১ম ধাপ: দূরপাল্লার যাতায়াত: 🚌 ১. বাসে সরাসরি ড্রিম হলিডে পার্কে যাতায়াত: ঢাকা থেকে সড়কপথে ড্রিম হলিডে পার্কে যাওয়া সবচেয়ে সহজ। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপরেই পার্কটি অবস্থিত হওয়ায় যেকোনো নরসিংদী, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বা সিলেটগামী বাসে সরাসরি পার্কের গেটে নামা যায়। সায়েদাবাদ / গুলিস্তান থেকে: মেঘালয় পরিবহন, বাদল পরিবহন, চলনবিল বা বিআরটিসি বাসে উঠে কন্ডাক্টরকে ড্রিম হলিডে পার্কের গেটে নামিয়ে দিতে বলবেন। ভাড়া ১০০-১৫০ টাকা। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে: নরসিংদীগামী পিপিএল (PPL), ঢাকা মেট্রো বা অন্য যেকোনো লোকাল/সিটিং বাসে কাঁচপুর-ভুলতা হয়ে সরাসরি পার্কের গেটে নামা যায়। ভাড়া ১২০-১৭০ টাকা। কুড়িল বিশ্বরোড / ৩০০ ফিট থেকে: কাঞ্চন ব্রিজ ও ভুলতা বাইপাস হয়ে চলাচলকারী লোকাল বাস বা প্রাইভেট মাইক্রোবাসে সহজেই যাওয়া যায়। 🚆 ২. ট্রেনে যাতায়াত: ঢাকার কমলাপুর বা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর অথবা লোকাল ট্রেনে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে নেমে খুব সহজেই পার্কে পৌঁছানো যায়: ট্রেনের নাম ছাড়ার সময় (কমলাপুর) গন্তব্য স্টেশন ভাড়া ও কানেক্টিং রুট তিতাস কমিউটার সকাল ৯:৪৫ মি. নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন ৪০-৫০ টাকা (স্টেশন থেকে সিএনজি/বাসে পার্ক) এগারসিন্দুর প্রভাতী / জয়ন্তিকা সকাল ৬:৪৫ / ১১:১৫ মি. নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন ৯০-১৫০ টাকা (স্টেশন থেকে রিকশা নিয়ে বাসস্ট্যান্ড) ✈️ ৩. আকাশপথ / নিজস্ব গাড়ি বা হাইওয়ে ড্রাইভ: বিদেশ বা দূরবর্তী জেলা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DAC)-এ নেমে কুড়িল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে ধরে কাঞ্চন ব্রিজ ও ঢাকা বাইপাস দিয়ে ভুলতা হয়ে সরাসরি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ওঠা যায়। নিজস্ব প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসে ঢাকা থেকে পার্কে যেতে সময় লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। ২য় ধাপ: স্থানীয় পয়েন্ট থেকে মূল গন্তব্য: মহাসড়কের বাস থেকে: বাসগুলো সরাসরি ড্রিম হলিডে পার্কের ১ ও ২ নম্বর ফটকের সামনেই যাত্রী নামিয়ে দেয়, ফলে কোনো অভ্যন্তরীণ বাহনের প্রয়োজন হয় না। নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন / শহর থেকে: নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন বা জেলখানা মোড় থেকে সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় পাঁচদোনা মোড় হয়ে ড্রিম হলিডে পার্কের গেটে যাওয়া যায়। সিএনজিতে জনপ্রতি ভাড়া ৩০-৪০ টাকা (রিজার্ভ নিলে ১৫০-২০০ টাকা)। ৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration) ড্রিম হলিডে পার্কের সম্পূর্ণ পরিবেশ, রাইডসমূহ এবং ওয়াটার পার্কের ওয়েভ পুলের আনন্দ পরিপূর্ণ উপভোগ করতে অন্তত ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। সকাল ১০টার দিকে প্রবেশ করে সারাদিন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাটিয়ে বিকেল ৫টায় অনায়াসেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া যায়। তাই এটি একটি পারফেক্ট পূর্ণাঙ্গ ডে-ট্যুর বা এক দিনের পারিবারিক ভ্রমণ। ৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person) খাত বিবরণ আনুমানিক খরচ (টাকা) যাতায়াত ভাড়া ঢাকা থেকে নরসিংদী পাঁচদোনা বাস (যাওয়া-আসা) ২৫০ - ৩৫০ টাকা পার্কে প্রবেশ টিকিট সাধারণ প্রবেশ ফি (জনপ্রতি) ৩৫০ টাকা ওয়াটার পার্ক / ওয়েভ পুল ফি ওয়েভ পুল ও লাইভ ডিজে ওয়াটার ওয়ার্ল্ড (ঐচ্ছিক) ৩০০ - ৩৫০ টাকা রাইড টিকিট (২-৩টি রাইড) ক্যাবল কার, রোলার কোস্টার ইত্যাদি (প্রতিটি ৬০-১০০ টাকা) ১৫০ - ২৫০ টাকা খাবার ও জলখাবার পার্কের ভেতরে বুফে বা সাধারণ রেস্তোরাঁর খাবার ২৫০ - ৪০০ টাকা সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (জনপ্রতি) ৳ ১,৩০০ - ১,৫০০ টাকা ৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি ড্রিম হলিডে পার্কে প্রবেশের জন্য কোনো বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয় না। প্রবেশদ্বারের মূল টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে যে কেউ পার্কে প্রবেশ করতে পারেন। পার্কজুড়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা, প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা কর্মী এবং লাইফগার্ড মোতায়েন থাকে (বিশেষ করে ওয়াটার পুল এলাকায়)। ফলে পরিবার ও নারী দর্শনার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। আলাদা কোনো গাইডের প্রয়োজন নেই; নির্দেশক সাইনবোর্ড দেখে সব রাইড খুঁজে পাওয়া যায়। ৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options) সাধারণত পর্যটকরা ডে-ট্যুরেই ঢাকায় ফিরে যান। তবে পরিবার নিয়ে রাতে থাকার চমৎকার ব্যবস্থাও পার্কের ভেতরে ও আশেপাশে রয়েছে: পার্কের নিজস্ব রিসোর্ট ও কটেজ: ড্রিম হলিডে পার্কের ভেতর মনোরম লেকের পাড়ে আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডুপ্লেক্স ও সুপার ডিলাক্স কটেজ রয়েছে (বুকিং করতে হয় আগে থেকে)। নরসিংদী শহর: নরসিংদী সদরে সার্কিট হাউস, ড্রিম ক্যাফে অ্যান্ড গেস্টহাউস এবং হোটেল নরসিংদী ইন্টারন্যাশনালে স্বল্প খরচে থাকা যায়। ঢাকা সিটি: ঢাকা মাত্র ১ ঘণ্টার দূরত্বে হওয়ায় ঢাকার যেকোনো হোটেলে থাকা সবচেয়ে সুবিধাজনক। ৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies) পার্কের অভ্যন্তরীণ রেস্তোরাঁ: পার্কের অভ্যন্তরে বাংলা, চাইনিজ ও ফাস্টফুডের জন্য ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে। এখানে সেট মেনু ও দেশীয় খাবার পাওয়া যায়। নরসিংদীর অমৃত সাগর কলা ও লটকন: স্থানীয় সুস্বাদু অমৃত সাগর কলা এবং মৌসুমকালীন বিখ্যাত সুমিষ্ট ফল নরসিংদীর লটকন। পাঁচদোনার মিষ্টি: স্থানীয় মিষ্টির দোকানগুলোর খাঁটি ছানার মিষ্টি ও রসকদম বেশ প্রশংসিত। হাইওয়ে ইন ও উজানভাটি: হাইওয়েতে অবস্থিত অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোতে সুস্বাদু বিরিয়ানি ও ঐতিহ্যবাহী নানা পদের ভর্তা-ভাত পাওয়া যায়। ১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist) অতিরিক্ত শুকনা পোশাক ও তোয়ালে: ওয়াটার পার্ক বা ওয়েভ পুলে নামলে অবশ্যই বাড়তি জামাকাপড় ও তোয়ালে সঙ্গে নিতে হবে। সুইমিং কস্টিউম / টি-শার্ট: পুলে নামার জন্য সুতি বা সিন্থেটিক হালকা পোশাক। স্মার্টফোন ওয়াটারপ্রুফ পাউচ: পানিতে নেমে ছবি তোলার সময় মোবাইল সুরক্ষিত রাখার জন্য ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ। রোদচশমা ও সানস্ক্রিন: খোলা রোদে ত্বক বাঁচাতে সানগ্লাস ও সানস্ক্রিন লোশন। নগদ টাকা: পার্কের ভেতরে বিভিন্ন রাইড ও ফুড কোর্টে নগদ টাকার প্রয়োজন হয়। ১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা ⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি: ওয়েভ পুলে যখন কৃত্রিম ঢেউ শুরু হয়, তখন ছোট শিশুদের একা নামতে দেবেন না এবং লাইফগার্ডদের সংকেত মেনে চলুন। হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের রোলার কোস্টারের মতো উচ্চ রোমাঞ্চকর রাইড পরিহার করা উচিত। বাইরে থেকে ভারী খাবার ভেতরে নিয়ে যাওয়া নিষেধ (শিশুখাদ্য ও পানির বোতল ছাড়া)। লকার ব্যবহারের সময় মূল্যবান অলংকার ও মানিব্যাগ নিজ দায়িত্বে রাখুন এবং লকারের চাবি সুরক্ষিত রাখুন। ছুটির দিনে ব্যাপক ভিড় থাকায় টিকিট লাইনের সময় বাঁচাতে সকাল সকাল পার্কে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। ১২. ড্রিম হলিডে পার্ক ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit) ড্রিম হলিডে পার্ক পরিদর্শনের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস (শীতকালীন মৌসুম)। এ সময় মনোরম রোদ ও শীতল আবহাওয়ায় উন্মুক্ত উদ্যানে হেঁটে রাইড উপভোগ করা দারুণ আরামদায়ক। তবে আপনি যদি তীব্র গরমের দিনে ওয়েভ পুল ও ওয়াটার পার্কের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে চান, তবে এপ্রিল থেকে আগস্টের গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালেও প্রচুর পর্যটক আসেন। শান্ত পরিবেশ চাইলে শুক্র ও শনিবার বাদে সপ্তাহের অন্য কর্মদিবসে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি) সকাল ৮:০০ - সকাল ৯:৩০: ঢাকা সায়েদাবাদ বা কুড়িল বিশ্বরোড থেকে নরসিংদী বা ভৈরবগামী বাসে ওঠা এবং কাঁচপুর-ভুলতা বাইপাস হয়ে পাঁচদোনা ড্রিম হলিডে পার্কের গেটে পৌঁছানো। সকাল ৯:৪৫ - সকাল ১০:০০: কাউন্টার থেকে প্রবেশ ও রাইডের টিকিট সংগ্রহ করে পার্কে প্রবেশ। সকাল ১০:০০ - দুপুর ১২:৩০: ক্যাবল কার, এয়ার বাইসাইকেল, রোলার কোস্টার এবং সুইং চেয়ারসহ আকর্ষণীয় ড্রাই রাইডগুলো উপভোগ করা ও ছবি তোলা। দুপুর ১২:৩০ - দুপুর ১:৩০: পার্কের ভেতরে অবস্থিত মনোরম রেস্তোরাঁয় দুপুরের আহার ও কিছু সময় বিশ্রাম। দুপুর ১:৪৫ - বিকেল ৩:৪৫: ওয়াটার পার্ক ও ওয়েভ পুলে কৃত্রিম ঢেউয়ের তালে সংগীতের সাথে জলকেলিতে মেতে ওঠা। বিকেল ৪:০০ - বিকেল ৫:১৫: পোশাক পরিবর্তন শেষে লেকে প্যাডেল বোটিং করা, আইস ক্যাসেল দর্শন এবং বিকালের স্ন্যাক্স খাওয়া। বিকেল ৫:৩০: পার্কের গেটের সামনে থেকে ঢাকাগামী ফিরতি বাসে উঠে সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকায় ফেরা। ১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots) উয়ারী-বটেশ্বর: বেলাবো উপজেলায় অবস্থিত প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক দুর্গ-নগরী ও সভ্যতার নিদর্শন। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর: রায়পুরা উপজেলার রামনগরে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের পৈতৃক ভিটা ও জাদুঘর। মনোহরদী জমিদার বাড়ি ও গিরদা মসজিদ: প্রাচীন ইতিহাস বিজড়িত ঐতিহাসিক জমিদার স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মেঘনা নদীর মোহনা (নরসিংদী ঘাট): নরসিংদী শহর সংলগ্ন মেঘনা নদীর বিশাল জলরাশি ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য। ১৫. ড্রিম হলিডে পার্ক সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ) প্রশ্ন ১: ড্রিম হলিডে পার্কের প্রবেশ টিকিট মূল্য কত? উত্তর: সাধারণত বড়দের জন্য প্রবেশ টিকিট ৩৫০ টাকা এবং শিশুদের (উচ্চতা ৩ ফুটের নিচে) জন্য প্রবেশ টিকিট বিনামূল্যে বা ২০০ টাকা নির্ধারিত থাকে। প্রশ্ন ২: পার্কটি প্রতিদিন কখন খোলে এবং কখন বন্ধ হয়? উত্তর: ড্রিম হলিডে পার্ক সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ১০:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রশ্ন ৩: ওয়াটার পার্ক বা ওয়েভ পুলের জন্য কি আলাদা টিকিট লাগে? উত্তর: হ্যাঁ, মূল প্রবেশ টিকিটের সাথে ওয়াটার পার্ক অন্তর্ভুক্ত নয়। ওয়েভ পুল ও ওয়াটার স্লাইডে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি আলাদাভাবে প্রায় ৩০০-৩৫০ টাকার টিকিট ক্রয় করতে হয়। প্রশ্ন ৪: বাইরে থেকে দুপুরের খাবার ভেতরে নিয়ে যাওয়া যাবে কি? উত্তর: না, পার্কের নিয়ম অনুযায়ী বাইরে থেকে ভারী খাবার ভেতরে নেওয়া নিষিদ্ধ। তবে ছোট বাচ্চাদের খাবার এবং পানির বোতল সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি রয়েছে। প্রশ্ন ৫: পিকনিক বা গ্রুপ ট্যুরের জন্য কি স্পট বুকিং করা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্পোরেট পিকনিকের জন্য পার্কের নিজস্ব বিশাল পিকনিক শেড, কটেজ ও কনভেনশন হল রয়েছে যা আগে থেকে বুকিং করা যায়।
ভ্রমণের সেরা সময়
সকাল ১০:০০ - বিকেল ৬:০০ (সারা বছর)