ঘোড়াশাল সার কারখানা ভ্রমণ গাইড 2026 | খরচ ও যাওয়ার উপায়
ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা (Ghorashal Palash Urea Fertilizer Factory - GPUFP) হলো বাংলাদেশের শিল্পায়ন, আধুনিক রাসায়নিক প্রযুক্তি এবং...
Ghorashal Fertilizer Factory (ঘোড়াশাল সার কারখানা)
ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা (Ghorashal Palash Urea Fertilizer Factory - GPUFP) হলো বাংলাদেশের শিল্পায়ন, আধুনিক রাসায়নিক প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার অন্যতম প্রধান জাতীয় প্রতীক। নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে সুদৃশ্য শীতলক্ষা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত এই মেগা কারখানাটি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এবং অত্যাধুনিক পরিবেশবান্ধব গ্রিন ইউরিয়া সার কারখানা। ১৯৬৯-৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক ঘোড়াশাল সার কারখানা ও পরবর্তীতে পলাশ সার কারখানাকে আধুনিকায়ন করে প্রায় ১১০ একর জমির ওপর সর্বাধুনিক জাপানি প্রযুক্তিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই শিল্প কমপ্লেক্স। চোখ জুড়ানো পাইপলাইন নেটওয়ার্ক, সুবিশাল গ্রানুলেশন কুলিং টাওয়ার, শীতলক্ষা নদীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া শিল্পশহর এবং সংলগ্ন দৃষ্টিনন্দন টাউনশিপের মনোরম আবহ শিল্প পর্যটন (Industrial Tourism) ও শিক্ষাসফরের জন্য এটিকে এক অনন্য দর্শনীয় স্থানে রূপান্তর করেছে। ⏱️ ভ্রমণের সময় ১ দিন (হাফ/ডে-ট্যুর) 💰 জনপ্রতি বাজেট ৪০০ - ৭০০ টাকা 🌤️ সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ 🏡 ধরণ / ক্যাটাগরি শিল্প পর্যটন ও আধুনিক মেগাপ্রকল্প 🚶 কঠিনতার মাত্রা খুব সহজ (Easy Walk) 👨👩👧👦 উপযুক্ত ভ্রমণকারী শিক্ষার্থী, গবেষক ও পরিবার 🌟 প্রধান আকর্ষণ আধুনিক মেগা কারখানা ও নদীরূপ 📶 নেটওয়ার্ক কভারেজ সব অপারেটর (4G/5G) ১. ঘোড়াশাল সার কারখানা এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য ঘোড়াশাল সার কারখানার যাত্রা শুরু হয় ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগে। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের প্রাকৃতিক গ্যাসকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশে কৃষির আধুনিকায়নে ইউরিয়া সারের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীনে ১৯৬৯ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৯৭০ সালে এটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়। এটি তৎকালীন পূর্ববঙ্গের অন্যতম প্রধান বৃহৎ ভারী শিল্প কারখানা ছিল, যা মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। পরবর্তীতে পুরানো ঘোড়াশাল ও পলাশ সার কারখানা দুটি দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে জরাজীর্ণ ও গ্যাস অপচয়কারী হয়ে পড়লে সরকার এই স্থানে পরিবেশবান্ধব একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৮ সালে 'ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প (GPUFP)' নামে নতুন মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। জাপান ও চীনের শীর্ষ প্রকৌশলীদের সহায়তায় এটি দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ একক সার কারখানায় রূপান্তরিত হয়, যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন, যা আধুনিক বাংলাদেশের শিল্প ঐতিহ্যের মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ২. ঘোড়াশাল সার কারখানা কোথায় অবস্থিত ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় অবস্থিত। এটি রাজধানী ঢাকার খুব কাছে শীতলক্ষা নদীর পূর্ব পাড়ে গড়ে ওঠা ঘোড়াশাল শিল্পাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। ঢাকা জিরো পয়েন্ট (গুলিস্তান) কিংবা বিমানবন্দর এলাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার। টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়ক কিংবা কুড়িল-কাঞ্চন ব্রিজ হয়ে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। ৩. ঘোড়াশাল সার কারখানা কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ) দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মেগা ফার্টিলাইজার প্ল্যান্ট: সুবিশাল প্রিসিপিটেশন টাওয়ার, আধুনিক পাইপলাইনের জ্যামিতিক নকশা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সার উৎপাদন পদ্ধতির চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা। পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক গ্রিন টেকনোলজি: বাংলাদেশে প্রথম কার্বন ক্যাপচার রিকভারি (CCR) প্রযুক্তির ব্যবহার, যা বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করে। শীতলক্ষা নদীর নৈসর্গিক পাড় ও জেটি: কারখানার কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষা নদী, সার পরিবহনের বিশেষ কার্গো জাহাজ এবং শান্ত নদীতীরবর্তী পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। নান্দনিক ঘোড়াশাল টাউনশিপ ও সবুজ কলোনি: কারখানা সংলগ্ন অফিসার্স কলোনি, সুবিন্যস্ত পিচঢালা রাস্তা, প্রাচীন বটবৃক্ষ ও পরিচ্ছন্ন উদ্যান এক শান্ত ও অভিজাত আবহের সৃষ্টি করে। ঘোড়াশাল রেলওয়ে ব্রিজ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র: সার কারখানার পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং শীতলক্ষা নদীর ওপর সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক রেলওয়ে সেতু। ৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট) ১ম ধাপ: দূরপাল্লার যাতায়াত: 🚌 ১. বাসে সরাসরি ঘোড়াশালে যাতায়াত: ঢাকা থেকে সড়কপথে খুব সহজেই কালীগঞ্জ বা পাঁচদোনা হয়ে ঘোড়াশালে পৌঁছানো যায়: মহাখালী / টঙ্গী থেকে: জলছত্র পরিবহন, সম্রাট বা চলনবিল বাসে চড়ে টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়ক দিয়ে সরাসরি ঘোড়াশাল বাসস্ট্যান্ডে নামা যায়। ভাড়া ৬০-৮০ টাকা। গুলিস্তান / সায়েদাবাদ থেকে: নরসিংদীগামী বাসে উঠে পাঁচদোনা মোড় নামতে হবে (ভাড়া ৭০-৯০ টাকা)। সেখান থেকে সিএনজি বা বাসে মাত্র ১০ কিমি দূরে ঘোড়াশাল। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে: ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে কাঞ্চন ব্রিজ পেরিয়ে লোকাল সিএনজি বা বাসে কালীগঞ্জ হয়ে ঘোড়াশালে সরাসরি পৌঁছানো যায়। 🚆 ২. ট্রেনে যাতায়াত (সবচেয়ে আরামদায়ক ও দ্রুততম): ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সরাসরি ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ রেলওয়ে স্টেশন অথবা ঘোড়াশাল স্টেশনে নামা সবচেয়ে উপভোগ্য ও যানজটহীন মাধ্যম: ট্রেনের নাম ছাড়ার সময় (কমলাপুর) গন্তব্য স্টেশন ভাড়া ও কানেক্টিং রুট তিতাস কমিউটার সকাল ৯:৪৫ মি. ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ স্টেশন ৩০ - ৩৫ টাকা (স্টেশন থেকে রিকশায় মাত্র ৫ মিনিট) কর্ণফুলী কমিউটার / ঢাকা কমিউটার সকাল ও দুপুর নিয়মিত ঘোড়াশাল রেলওয়ে স্টেশন ২৫ - ৩০ টাকা (স্টেশন থেকে অটোতে সার কারখানা) ✈️ ৩. আকাশপথ / প্রাইভেট কারে ড্রাইভ: শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DAC) থেকে বিমানবন্দর রেলগেট পেরিয়ে আব্দুল্লাহপুর-কালীগঞ্জ সড়ক ধরে অথবা কুড়িল ৩০০ ফিট হয়ে নিজস্ব প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসে মাত্র ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে সরাসরি ঘোড়াশাল সার কারখানা ক্যাম্পাসে পৌঁছানো যায়। ২য় ধাপ: স্থানীয় পয়েন্ট থেকে মূল গন্তব্য: ঘোড়াশাল রেলওয়ে স্টেশন / বাসস্ট্যান্ড থেকে: বাসস্ট্যান্ড বা ফ্ল্যাগ স্টেশন নেমে রিকশা অথবা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটে পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা ১ নম্বর গেট বা কলোনি মোড়ে পৌঁছানো যায় (ভাড়া ১৫-২৫ টাকা)। পাঁচদোনা মোড় থেকে: পাঁচদোনা থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় ঘোড়াশাল সার কারখানা গেট পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা (রিজার্ভ ১৫০-১৮০ টাকা)। ৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration) সার কারখানা কমপ্লেক্সের বাইরের রূপ, টাউনশিপ, শীতলক্ষার তীর ও রেলওয়ে ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় যথেষ্ট। ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে এসে মাত্র আধা বেলার (হাফ-ডে) মধ্যেই পুরো এলাকা উপভোগ করে ফিরে যাওয়া যায়। পুরো দিনের ট্যুর প্ল্যানে ঘোড়াশালের সাথে নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্ক, উয়ারী-বটেশ্বর কিংবা পাঁচদোনা দেওয়ানবাগ মসজিদ অনায়াসেই সংযুক্ত করা যায়। ৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person) খাত বিবরণ আনুমানিক খরচ (টাকা) যাতায়াত ভাড়া (ট্রেন / বাস ও লোকাল অটো) ঢাকা থেকে ট্রেন/বাস এবং স্থানীয় রিকশা (যাওয়া-আসা) ১২০ - ২০০ টাকা প্রবেশ টিকিট বাইরের চত্বর ও ক্যাম্পাসে প্রবেশে কোনো ফি নেই ০ টাকা খাবার ও জলখাবার দুপুরের দেশীয় খাবার, চা ও মিষ্টি ২০০ - ৩৫০ টাকা নৌকা ভ্রমণ / অন্যান্য শীতলক্ষা নদীতে ট্রলারে বা নৌকায় অল্প সময় ঘোরা ৮০ - ১৫০ টাকা সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (জনপ্রতি) ৳ ৪০০ - ৭০০ টাকা ৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি ঘোড়াশাল সার কারখানা একটি জাতীয় 'কেপিআই' (Key Point Installation) বা অতীব গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত স্থাপনা। কারখানার বাইরের আবাসিক এলাকা, টাউনশিপ ও নদীর পাড় সকলের জন্য উন্মুক্ত হলেও মূল কারখানার অভ্যন্তরীণ প্রোডাকশন ইউনিটে প্রবেশের জন্য বিসিআইসি (BCIC) বা কারখানা কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন আবশ্যক। বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক বা রিসার্চ গ্রুপের জন্য আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষিত প্রকৌশলী গাইডসহ কারখানা পরিদর্শনের অনুমতি প্রদান করে। সাধারণ পর্যটকদের জন্য বাইরের ক্যাম্পাস, সেতু ও নদীর পাড় অত্যন্ত নিরাপদ ও মনোরম। ৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options) ঢাকা থেকে অত্যন্ত কাছে হওয়ায় পর্যটকরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভ্রমণ শেষ করে ফিরে যান। তবে রাতে থাকতে চাইলে: কারখানা রেস্ট হাউজ: সরকারি কর্মকর্তা বা অফিশিয়াল পরিদর্শকদের জন্য সার কারখানার নিজস্ব ভিআইপি রেস্ট হাউজ ও অফিসার্স ক্লাব রয়েছে। নরসিংদী জেলা শহর: ঘোড়াশাল থেকে ১৫ কিমি পূর্বে নরসিংদী জেলা সদরে সার্কিট হাউজ, ড্রিম ক্যাফে অ্যান্ড গেস্ট হাউজ এবং মাঝারি মানের বেশ কয়েকটি ভালো হোটেল রয়েছে। রিসোর্ট: কালীগঞ্জ বা পূর্বাচল এলাকায় বেশ কিছু জনপ্রিয় বিলাসবহুল ডে-রিসোর্ট রয়েছে। ৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies) ঘোড়াশালের বিখ্যাত মিষ্টি ও চমচম: ঘোড়াশাল রেলস্টেশন বাজার ও পলাশ বাজারের প্রাচীন মিষ্টির দোকানগুলোর খাঁটি ছানার চমচম ও রসগোল্লা জেলাজুড়ে সমাদৃত। শীতলক্ষা নদীর তাজা মাছ: স্থানীয় হোটেলগুলোতে শীতলক্ষা নদীর সুস্বাদু বাইম, আইড় ও রুই মাছের ঝোল পাওয়া যায়। নরসিংদীর কলা ও লটকন: বিখ্যাত অমৃত সাগর কলা ও মৌসুমে গাছপাকা তাজা লটকন স্থানীয় হাট থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। ১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist) জাতীয় পরিচয়পত্র / স্টুডেন্ট আইডি: সংরক্ষিত এলাকায় পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য এনআইডি বা আইডি কার্ড সাথে রাখা আবশ্যক। অফিশিয়াল অনুমতির কপি: কারখানার ভেতরে শিক্ষাসফরে প্রবেশের অনুমতি থাকলে তার প্রিন্ট কপি সাথে রাখুন। ক্যাপ ও রোদচশমা: নদীর পাড়ে ও খোলা ক্যাম্পাসে হাঁটার জন্য রোদচশমা ও টুপি। আরামদায়ক জুতো: ক্যাম্পাস ও আশপাশে হাঁটার উপযোগী আরামদায়ক স্নিকার্স। ১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা ⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি: এটি একটি কেপিআই সংরক্ষিত এলাকা, তাই মূল গেটের সামনে বা নো-ফটোগ্রাফি জোনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করা থেকে বিরত থাকুন। অনুমতি ছাড়া মূল প্ল্যান্টে ঢোকার চেষ্টা করবেন না; সার্বক্ষণিক সশস্ত্র আনসার ও নিরাপত্তা বাহিনী পাহারায় থাকে। রেলওয়ে ব্রিজে হাঁটার সময় ট্রেনের সময়সূচির ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকুন এবং ঝুঁকি নিয়ে সেলফি তুলবেন না। শীতলক্ষা নদীর গভীর ও স্রোতস্বিনী অংশে সাঁতার কাটা থেকে বিরত থাকুন। ১২. ঘোড়াশাল সার কারখানা ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit) ঘোড়াশাল ও পলাশ শিল্পাঞ্চল ভ্রমণের সেরা সময় হলো শীতকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ মাস)। এ সময় রোদের তাপ কম থাকে, নদীর নির্মল বাতাস উপভোগ করা যায় এবং টাউনশিপের গাছপালায় স্নিগ্ধ পরিবেশ বিরাজ করে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা অথবা বিকেল ৩টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টি ঘুরে দেখার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। ১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি) সকাল ৮:৩০ - সকাল ৯:৪৫: ঢাকা কমলাপুর বা বিমানবন্দর থেকে ট্রেনে চড়ে নদী ও গ্রামীণ দৃশ্য উপভোগ করে ঘোড়াশাল স্টেশনে পৌঁছানো। সকাল ১০:০০ - সকাল ১০:২০: স্টেশন থেকে ইজিবাইকে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা প্রধান গেট ও টাউনশিপে পৌঁছানো। সকাল ১০:২০ - দুপুর ১২:৩০: কারখানা এলাকা, আধুনিক গ্রিন প্ল্যান্টের অবয়ব, আবাসিক কলোনি ও শীতলক্ষা নদীর কার্গো জেটি পরিদর্শন। দুপুর ১২:৪৫ - দুপুর ১:৪৫: স্টেশন সংলগ্ন স্থানীয় রেস্তোরাঁয় নদীর তাজা মাছ ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি দিয়ে মধ্যাহ্নভোজ। দুপুর ২:০০ - বিকেল ৩:৩০: শীতলক্ষা নদীর ওপর ঐতিহাসিক ঘোড়াশাল রেলওয়ে ব্রিজ পরিদর্শন ও নৌকায় কিছু সময় রিভার ক্রুজ। বিকেল ৩:৪৫ - বিকেল ৫:০০: নিকটস্থ ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা ঘুরে দেখা অথবা সরাসরি ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরতি ট্রেন/বাস ধরা। ১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots) ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র: দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র (সার কারখানার খুব কাছেই)। ঐতিহাসিক ঘোড়াশাল রেল ব্রিজ: শীতলক্ষা নদীর বুকে ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত দৃষ্টিনন্দন দীর্ঘ লোহার রেলওয়ে সেতু। ড্রিম হলিডে পার্ক: পাঁচদোনায় অবস্থিত দেশের অন্যতম সেরা থিম পার্ক (ঘোড়াশাল থেকে সিএনজিতে মাত্র ২০ মিনিট)। দেওয়ানবাগ মসজিদ: মদনপুর-ঘোড়াশাল সংযোগ সড়কের সন্নিকটে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রাচীন মসজিদ। ১৫. ঘোড়াশাল সার কারখানা সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ) প্রশ্ন ১: সাধারণ মানুষ কি কারখানার ভেতরে ঢুকতে পারে? উত্তর: এটি একটি সংরক্ষিত কেপিআই এলাকা হওয়ায় সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মূল উৎপাদন ইউনিটের ভেতর প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত। তবে অফিশিয়াল অনুমতি বা শিক্ষাসফরের অনুমোদন সাপেক্ষে ভেতরে ঢোকা যায়। কারখানার বাইরের চত্বর ও টাউনশিপ উন্মুক্ত। প্রশ্ন ২: নতুন এই কারখানাটির বিশেষত্ব কী? উত্তর: এটি দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ একক ইউরিয়া সার কারখানা এবং বাংলাদেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব 'গ্রিন ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি', যেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড রিসাইকেল করে সার উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। প্রশ্ন ৩: ঢাকা থেকে যাতায়াতের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম কোনটি? উত্তর: ঢাকা বিমানবন্দর বা কমলাপুর থেকে কমিউটার ট্রেনযোগে যাওয়া সবচেয়ে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও উপভোগ্য (সময় লাগে মাত্র ৩৫ থেকে ৪৫ মিনিট)। প্রশ্ন ৪: পরিবার বা বাচ্চাদের নিয়ে কি এখানে বেড়াতে যাওয়া যায়? উত্তর: হ্যাঁ, নদী তীরবর্তী খোলামেলা ও শান্ত পরিবেশ হওয়ায় পরিবার নিয়ে শীতলক্ষা নদীর রূপ ও আধুনিক শিল্পায়ন উপভোগ করার জন্য এটি একটি চমৎকার ডে-আউট লোকেশন। প্রশ্ন ৫: শিক্ষাসফরের অনুমতির জন্য কার সাথে যোগাযোগ করতে হয়? উত্তর: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্যাডে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD), ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প অথবা চেয়ারম্যান, বিসিআইসি বরাবর আবেদন করতে হয়।
ভ্রমণের সেরা সময়
বিকেল ও সন্ধ্যাবেলা