সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর ভ্রমণ গাইড 2026 | যাওয়ার...

সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর (Sonargaon Folk Art and Craft Museum) বা বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয...

Bangladesh Folk Arts and Crafts Museum (সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর)

সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর (Sonargaon Folk Art and Craft Museum) বা বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত বাঙালি জাতির আবহমান লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কারুশিল্পের এক অনন্য জীবন্ত দলিল। ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের দূরদর্শী উদ্যোগে প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁওয়ের প্রায় দেড়শো বিঘা সবুজ প্রাকৃতিক চত্বরে এই ঐতিহ্যবাহী জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সুবিশাল শান্ত দীঘি, ছায়াঘেরা সুপ্রাচীন বৃক্ষরাজি এবং তার মাঝে অবস্থিত উনিশ শতকের দৃষ্টিনন্দন ঐতিহাসিক ‘বড় সর্দার বাড়ি’ প্রাসাদ ও জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা নিয়ে এটি গড়ে উঠেছে। কাঠখোদাই, জামদানি ও মসলিন শাড়ি, শোলাশিল্প, কাঁসা-পিতলের তৈজসপত্র, মৃৎশিল্প এবং নকশিকাঁথাসহ বাংলার চিরায়ত গ্রামীণ জীবনের সহস্রাধিক দুর্লভ নিদর্শন এই জাদুঘরে পরম মমতায় সংরক্ষিত রয়েছে। ⏱️ ভ্রমণের সময় ২ - ৩ ঘণ্টা (অর্ধদিন) 💰 জনপ্রতি বাজেট ৩০০ - ৭০০ টাকা 🌤️ সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ (মেলাকাল) 🏡 ধরণ / ক্যাটাগরি লোকশিল্প জাদুঘর ও ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদ 🚶 কঠিনতার মাত্রা একদম সহজ (পায়ে হাঁটা) 👨‍👩‍👧‍👦 উপযুক্ত ভ্রমণকারী পরিবার, শিশু, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমী 🌟 প্রধান আকর্ষণ বড় সর্দার বাড়ি ও কারুপল্লী 📶 নেটওয়ার্ক কভারেজ সব অপারেটরের ৪জি ফুল ১. সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সোনারগাঁও ছিল মধ্যযুগের স্বাধীন সুলতানি বাংলার গর্বিত রাজধানী এবং বারো ভূঁইয়ার প্রধান বীর ঈসা খাঁর প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র। পরবর্তীকালে মুঘল আমলে রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত হলে সোনারগাঁওয়ের রাজনৈতিক জৌলুস কমলেও এর সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি ও কারুশিল্পের ঐতিহ্য অম্লান ছিল। আধুনিককালে বাঙালির বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পুনরুজ্জীবিত ও সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে বরেণ্য চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯৭৫ সালে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন। জাদুঘরটির প্রধান কেন্দ্রস্থল হিসেবে বেছে নেওয়া হয় ১৯০১ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত স্থানীয় ধনাঢ্য হিন্দু জমিদার সনাতন পালের বিলাসবহুল ‘বড় সর্দার বাড়ি’ প্রাসাদটি। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে কোরিয়ান ইয়াংওয়ান কর্পোরেশনের সহায়তায় এই রাজপ্রাসাদটিকে তার আদি রূপে অবিকল সংস্কার করা হয়, যা আজ দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদের মর্যাদা পেয়েছে। ২. সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর কোথায় অবস্থিত সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক সোনারগাঁও উপজেলার আনন্দবাজার এলাকায় অবস্থিত। এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের সোনারগাঁও মোগরাপাড়া ক্রসিং থেকে উত্তর দিকে মাত্র ২.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থল (গুলিস্তান) থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব মাত্র ২৭ কিলোমিটার। ৩. সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ) ঐতিহাসিক বড় সর্দার বাড়ি প্রাসাদ: নিও-ক্লাসিক্যাল ও ইউরোপীয় প্লাস্টার কারুকাজে মোড়ানো ৮৫টি কক্ষবিশিষ্ট একটি রাজকীয় দ্বিতল প্রাসাদ। প্রাসাদের সম্মুখের সুদৃশ্য খিলান, রঙিন মোজাইক এবং শ্বেতশুভ্র ভাস্কর্য এক অপরূপ রাজকীয় অনুভূতি এনে দেয়। জয়নুল আবেদিন স্মৃতি জাদুঘর ভবন: আধুনিক দোতলা জাদুঘর ভবনে গ্রামবাংলার বিলুপ্ত লোকশিল্পের দশটি সমৃদ্ধ গ্যালারি—যার মধ্যে রয়েছে কাঠের নকশাদার আসবাব, শোলাশিল্প, ধাতব অলংকার, তামা-পিতলের জিনিসপত্র, বাঁশ-বেতের সামগ্রী এবং প্রাচীন গ্রামীণ জীবনের নানা পুতুল ও মুখোশ। ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা ও জামদানি গ্যালারি: সুই-সুতায় বোনা শতবর্ষী দুর্লভ নকশিকাঁথা, মসলিনের ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং সোনারগাঁওয়ের বিশ্ববিখ্যাত জামদানি শাড়ির আদি বুনন প্রদর্শন। জীবন্ত কারুপল্লী (Craft Village): জাদুঘর চত্বরে ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পীরা সরাসরি তাঁতে জামদানি শাড়ি তৈরি, কাঠের পুতুল খোদাই, মাটির পাত্র ও শোলার খেলনা বানিয়ে বিক্রি করেন। দর্শনার্থীরা সরাসরি শিল্পীদের হাতের কাজ দেখার সুযোগ পান। মনোরম লেক ও ডিঙি নৌকায় প্যাডেলিং: প্রাসাদের পেছনে বিশাল মনোরম লেক, যেখানে টিকিট কেটে কাঠের ডিঙি নৌকায় বা প্যাডেল বোটে চড়ে লেকের জলে ভেসে বেড়ানো ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরার আনন্দ নেওয়া যায়। মাসব্যাপী জাতীয় লোককারুশিল্প মেলা: প্রতি বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় দেশের বৃহত্তম ঐতিহ্যবাহী লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব। ৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট) ১ম ধাপ: ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ড: 🚌 ১. ঢাকা থেকে সরাসরি দূরপাল্লার ও লোকাল বাসে আগমন: ঢাকা গুলিস্তান ও সায়দাবাদ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে যেকোনো বাসে সরাসরি সোনারগাঁও মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় নামা যায়। সরাসরি বাস: গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া বা গোলাপ শাহ মাজার থেকে স্বদেশ পরিবহন, বোরাক পরিবহন, সোনারগাঁও এক্সপ্রেস ও দোয়েল বাস (ভাড়া ৬০ - ৮০ টাকা)। সায়দাবাদ থেকে: কুমিল্লা বা চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ড (ভাড়া ৭০ - ১০০ টাকা)। ভ্রমণ সময়: যানজট না থাকলে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার পেরিয়ে মাত্র ৩৫ থেকে ৪৫ মিনিট। 🚆 ২. ট্রেনে নারায়ণগঞ্জ হয়ে যাতায়াত সংযোগ: ঢাকা কমলাপুর থেকে লোকাল ট্রেনে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে নেমে সেখান থেকে চাষাড়া হয়ে সহজেই সোনারগাঁওয়ে যাওয়া যায়। ট্রেন / রুট ছাড়ার স্টেশন গন্তব্য স্টেশন কানেকশন ও ভাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ কমিউটার কমলাপুর (প্রতি ৪০ মিনিট পরপর) নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল ট্রেন ভাড়া ২০ টাকা। চাষাড়া থেকে মোগরাপাড়াগামী বাসে ভাড়া ৪০-৫০ টাকা। পূর্বাঞ্চল আন্তঃনগর ট্রেন চট্টগ্রাম / কক্সবাজার / সিলেট ঢাকা (কমলাপুর) কমলাপুর নেমে গুলিস্তান হয়ে সরাসরি বাসে সোনারগাঁও যাত্রা। 🚗 ৩. ব্যক্তিগত গাড়ি বা উবার/পাঠাও রুট: ঢাকা যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার পার হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর সেতু পেরিয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে বামের সংযোগ সড়ক ধরে সরাসরি জাদুঘরের প্রধান গেটের গাড়ি পার্কিংয়ে পৌঁছানো যায় (সময় মাত্র ৩৫-৪৫ মিনিট)। ২য় ধাপ: মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর: মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নেমে মহাসড়কের উত্তর পাশের সংযোগ সড়ক দিয়ে রিকশা বা অটোরিকশায় সহজে জাদুঘরের গেটে পৌঁছানো যায়: ব্যাটারিচালিত অটো / সিএনজি: মোগরাপাড়া মোড় থেকে শেয়ারিং অটোতে সরাসরি জাদুঘর গেট (ভাড়া জনপ্রতি ২০ - ২৫ টাকা)। ঐতিহ্যবাহী রিকশা (রিজার্ভ): মোগরাপাড়া থেকে গ্রামীণ ছায়াঘেরা পথ ধরে রিকশায় সরাসরি জাদুঘরের ফটক (ভাড়া ৫০ - ৬০ টাকা, সময় ১০-১৫ মিনিট)। ৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration) জাদুঘর চত্বরের বড় সর্দার বাড়ি প্রাসাদ, জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা, কারুপল্লী এবং লেক চত্বর উপভোগ করতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় যথেষ্ট। তবে এর সাথে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরবর্তী প্রাচীন পানাম নগরী ও গোয়ালদী মসজিদ যুক্ত করে ১ দিনের একটি পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক ডে-ট্যুর সম্পন্ন করা যায়। ৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person) খাত বিবরণ আনুমানিক খরচ (টাকা) ঢাকা ↔ মোগরাপাড়া বাস যাতায়াত গুলিস্তান থেকে সরাসরি বাস (আপ-ডাউন) ১২০ - ১৬০ টাকা মোগরাপাড়া ↔ জাদুঘর রিকশা / অটো লোকাল অটো বা রিকশা ভাড়া (আপ-ডাউন) ৪০ - ৬০ টাকা জাদুঘর প্রবেশ টিকিট ফি বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন নির্ধারিত টিকিট ৫০ টাকা লেকে নৌভ্রমণ / বোট প্যাডেলিং (ঐচ্ছিক) প্যাডেল বোট বা নৌকার টিকিট (ভাগাভাগি) ৫০ - ১০০ টাকা খাবার ও পানীয় মোগরাপাড়া বা জাদুঘর ক্যাফেটেরিয়ায় দুপুরের খাবার ২০০ - ৩৫০ টাকা সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (ডে-ট্যুর জনপ্রতি) ৪৬০ - ৮২০ টাকা ৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি জাদুঘর চত্বরটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কর্তৃক অত্যন্ত চমৎকারভাবে পরিচালিত ও সুরক্ষিত। প্রবেশমুখে অফিশিয়াল টিকিট কাউন্টার রয়েছে। পুরো চত্বরে ট্যুরিস্ট পুলিশ, আনসার ও সিসিটিভি ক্যামেরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করে। আলাদা কোনো গাইডের প্রয়োজন হয় না; প্রতিটি গ্যালারির নিদর্শনের পাশে বাংলা ও ইংরেজিতে পূর্ণাঙ্গ তথ্যফলক লিপিবদ্ধ রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভিডিও বা চলচ্চিত্রায়নের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালকের পূর্বানুমতি ও নির্দিষ্ট ফি প্রদান বাধ্যতামূলক। ৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options) ঢাকা থেকে কাছে হওয়ায় দর্শনার্থীরা সাধারণত একই দিনে ভ্রমণ শেষ করে ফিরে যান। তবে অবস্থান করতে চাইলে নিকটস্থ থাকার বিকল্প: সোনারগাঁও সংলগ্ন রিসোর্ট: সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্ট, সুবর্ণগ্রাম রিসোর্ট (ভাড়া ২,৫০০ - ৫,৫০০ টাকা প্রতি রাত)। নারায়ণগঞ্জ শহর ও ঢাকা: নারায়ণগঞ্জ শহরের হোটেল মেহেরান, হোটেল সোনালী বা ঢাকার মতিঝিল এলাকার তারকা ও বাজেট হোটেলসমূহ (ভাড়া ১,০০০ - ৪,৫০০ টাকা)। ৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies) সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী দই ও মিষ্টি: মোগরাপাড়া বাজারের প্রাচীন মিষ্টির দোকানে ঘন দুধের পাতিল দই ও রসগোল্লা। মেলায় লোকজ ঐতিহ্যবাহী খাবার: মেলার মৌসুমে গুড়ের জিলাপি, বাতাসা, মুড়ির মোয়া, খই, তিলের খাজা ও ভাপা পিঠা। মেঘনা নদীর তাজা মাছ: মোগরাপাড়ার হাইওয়ে রেস্তোরাঁগুলোতে মেঘনার আইড়, বোয়াল ও রুই মাছের সুস্বাদু ঝোল। জাদুঘর চত্বরের ফুচকা ও ডাব: ছায়াঘেরা লেকের পাড়ে বসে ফুচকা, চটপটি ও কচি ডাবের পানি উপভোগ। ১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist) ক্যামেরা / স্মার্টফোন: বড় সর্দার বাড়ির ঐতিহাসিক প্লাস্টার ভাস্কর্য, লেক ও কারুপল্লীর ছবি তোলার জন্য। হালকা সুতি পোশাক ও আরামদায়ক জুতো: ১৫০ বিঘা বিস্তৃত বাগানে দীর্ঘ পথ স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটার জন্য। ছাতা ও সানগ্লাস: রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে চত্বরে ঘোরার সময় সুরক্ষার জন্য। ক্যাশ টাকা: কারুপল্লী থেকে ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি, মাটির পাত্র ও কাঠের শিল্পকর্ম কেনার জন্য। ১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা ⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি: সাপ্তাহিক ছুটির দিন খেয়াল রাখা: জাদুঘরটি প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার পূর্ণ দিবস বন্ধ থাকে (সরকারি ছুটির দিনেও বিশেষ সূচী থাকে)। বাকি দিনগুলোতে সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। গ্যালারির ভেতরে ছবি তোলার নিয়ম: জাদুঘরের অভ্যন্তরীণ প্রদর্শনীর নিদর্শনে কোনো প্রকার স্পর্শ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কিছু নির্দিষ্ট গ্যালারিতে ফ্ল্যাশ ফটোগ্রাফি নিয়ন্ত্রিত। লেকের পাড়ে শিশুদের খেয়াল রাখা: জাদুঘরের অভ্যন্তরে বিশাল লেক ও পুকুর রয়েছে যার গভীরতা বেশ বেশি; শিশুদের কখনোই লেকের পাড়ে একা যেতে দেবেন না। পরিচ্ছন্নতা রক্ষা: চত্বরে চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল বা বর্জ্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন। ১২. সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit) জাদুঘরটি পরিদর্শনের সবচেয়ে সোনালী সময় হলো শীতকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ মাস)। বিশেষ করে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যখন ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী জমকালো ‘জাতীয় লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়, তখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শত শত লোকশিল্পী তাঁদের পসরা নিয়ে আসেন এবং পুরো এলাকা বাউল গান ও লোকজ উৎসবে মুখরিত হয়ে ওঠে। ১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি) সকাল ০৯:০০ টা: ঢাকার গুলিস্তান বা সায়দাবাদ থেকে সরাসরি স্বদেশ বা বোরাক বাসে চড়ে সোনারগাঁও মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় পৌঁছানো (সময় প্রায় ৪৫ মিনিট)। সকাল ১০:০০ টা - দুপুর ০১:০০ টা: মোগরাপাড়া থেকে রিকশায় লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর ফটকে পৌঁছানো। টিকিট কেটে সংস্কারকৃত রূপকথার মতো সুন্দর ‘বড় সর্দার বাড়ি’ প্রাসাদ দর্শন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালার ১০টি লোকশিল্প গ্যালারি ঘুরে দেখা, কারুপল্লীতে শিল্পীদের তাঁত ও কাঠের কাজ উপভোগ এবং লেকের পাড়ে বিশ্রাম। দুপুর ০১:১৫ টা - দুপুর ০২:১৫ টা: জাদুঘর সংলগ্ন রেস্তোরাঁয় বা মোগরাপাড়া বাজারে এসে দুপুরের খাবার গ্রহণ এবং ঐতিহ্যবাহী দই-মিষ্টি উপভোগ। দুপুর ০২:৩০ টা - বিকেল ০৫:০০ টা: জাদুঘর থেকে রিকশায় মাত্র ৫ মিনিটে প্রাচীন হারানো নগরী ‘পানাম সিটি’ গমন। ৫২টি প্রাচীন ঔপনিবেশিক ভবনের নিস্তব্ধ রাজপথে হাঁটা এবং ফেরার পথে সুলতানি আমলের গোয়ালদী মসজিদ দর্শন। সন্ধ্যায় মোগরাপাড়া থেকে বাসে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন। ১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots) পানাম নগরী (The Lost City): ৫২টি ইউরোপীয় ধাঁচের সুরম্য প্রাচীন অট্টালিকা সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক শহর (দূরত্ব মাত্র ১ কিমি)। গোয়ালদী হোসেন শাহী মসজিদ: ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত সুলতানি আমলের অনিন্দ্যসুন্দর এক গম্বুজ মসজিদ। ঈসা খাঁর কেল্লা ও দরগাহবাড়ি: ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ের প্রাচীন প্রশাসনিক স্মৃতিচিহ্ন। মেঘনা ঘাট ও চর মায়াদ্বীপ: মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ বুকে নৌভ্রমণ ও শান্ত চরের উন্মুক্ত বাতাস। বাংলার তাজমহল ও পিরামিড: পেরাব এলাকায় অবস্থিত আগ্রার তাজমহলের প্রতিরূপ কমপ্লেক্স। ১৫. সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ) প্রশ্ন ১: জাদুঘরটি সপ্তাহের কোন কোন দিন বন্ধ থাকে? উত্তর: সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে বন্ধ থাকে। শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রশ্ন ২: জাদুঘরের প্রবেশ টিকিটের মূল্য কত? উত্তর: ফাউন্ডেশন চত্বরের প্রবেশ টিকিট মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা (বাংলাদেশি দর্শনার্থী) এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য ১০০ টাকা। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশ্ন ৩: বড় সর্দার বাড়ির ভেতরে কি প্রবেশ করা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক মানের সংস্কারকাজের পর বড় সর্দার বাড়ি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা প্রাসাদের সুদৃশ্য অলিন্দ, উঠান ও অভ্যন্তরীণ প্রদর্শনী কক্ষগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। প্রশ্ন ৪: জাদুঘর চত্বর থেকে কি আসল জামদানি শাড়ি কেনা সম্ভব? উত্তর: হ্যাঁ, জাদুঘরের কারুপল্লীতে ঐতিহ্যবাহী তাঁতিরা সরাসরি তাঁত বসিয়ে জামদানি শাড়ি বোনেন। দর্শনার্থীরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি তাঁতীদের কাছ থেকে খাঁটি জামদানি শাড়ি ও হস্তশিল্প ক্রয় করতে পারেন। প্রশ্ন ৫: জাদুঘর চত্বরে কি পিকনিক করার অনুমতি আছে? উত্তর: হ্যাঁ, জাদুঘরের সুবিশাল প্রাকৃতিক চত্বরে নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে স্কুল-কলেজ বা পারিবারিক পিকনিক আয়োজনের সুযোগ রয়েছে (এর জন্য কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি প্রয়োজন)।

ভ্রমণের সেরা সময়

জাদুঘরটি পরিদর্শনের সবচেয়ে সোনালী সময় হলো শীতকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ মাস)।