লালকুঠি ভ্রমণ গাইড 2026 | খরচ ও যাওয়ার উপায়

লালকুঠি (Lalkuthi) বা ঐতিহাসিক নর্থব্রুক হল (Northbrook Hall) পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত উনিশ শতকের শেষভাগের এক অনন্য স্থাপত্য ক...

Lalkuthi (লালকুঠি)

লালকুঠি (Lalkuthi) বা ঐতিহাসিক নর্থব্রুক হল (Northbrook Hall) পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত উনিশ শতকের শেষভাগের এক অনন্য স্থাপত্য কীর্তি ও সাংস্কৃতিক স্মারক। তৎকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় লর্ড নর্থব্রুকের ঢাকা আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৮৭৪ সালে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বি কে দাশ রোডে লাল ইটের ওপর এই জমকালো ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ইন্দো-সারাসেনিক (মুসলিম-ইউরোপীয় সংমিশ্রণ) স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই লাল রঙের সুরম্য অট্টালিকাটি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত প্রিয় 'লালকুঠি' নামে পরিচিতি লাভ করে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পর ১৯২৬ সালে ঢাকা পৌরসভার পক্ষ থেকে তাঁকে এখানেই ঐতিহাসিক নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছিল। ⏱️ ভ্রমণের সময় ১-২ ঘণ্টা (হাফ ডে) 💰 জনপ্রতি বাজেট ২০০ - ৫০০ টাকা 🌤️ সেরা সময় অক্টোবর - মার্চ 🏡 ধরণ / ক্যাটাগরি ঐতিহাসিক টাউন হল ও ঐতিহ্য 🚶 কঠিনতার মাত্রা একেবারেই সহজ 👨‍👩‍👧‍👦 উপযুক্ত ভ্রমণকারী ইতিহাসপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও গবেষক 🌟 প্রধান আকর্ষণ ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্য ও লাল ইটের খিলান 📶 নেটওয়ার্ক কভারেজ সব সিমের হাই-স্পিড 4G/5G ১. লালকুঠি এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য লালকুঠির ইতিহাস ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ১৮৭৪ সালে ভারতের ভাইসরয় থমাস জর্জ ব্যারিং (লর্ড নর্থব্রুক) ঢাকা সফরে আসেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক সফরকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং নগরবাসীর জন্য একটি সম্মিলিত মিলনকেন্দ্র ও টাউন হল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ঢাকার ধনাঢ্য জমিদার ও বিশিষ্ট নাগরিকরা চাঁদা তুলে এই ভবনটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ঢাকার তৎকালীন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব নবাব আব্দুল গণি, জমিদার ব্রজেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী এবং রাজা শ্রীনাথ রায়সহ স্থানীয় অভিজাতদের অর্থায়নে ১৮৭৯ সালে মূল ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ১৮৮০ সালে বাংলার তৎকালীন লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার অ্যাশলে ইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে নর্থব্রুক হলের উদ্বোধন করেন। লাল পোড়ামাটির সুরম্য ইটের আবরণের কারণে এটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে 'লালকুঠি' নাম লাভ করে। ১৮৮২ সালে লালকুঠির দক্ষিণ-পূর্ব অংশে একটি সমৃদ্ধ পাবলিক লাইব্রেরি যুক্ত করা হয়, যা 'নর্থব্রুক হল পাবলিক লাইব্রেরি' নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ১৮৮৭ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়ার সুবর্ণজয়ন্তী স্মরণে এর সাথে একটি জাঁকজমকপূর্ণ টাউন হল মিলনায়তন যোগ করা হয়, যার নাম রাখা হয়েছিল 'জুবিলি ক্লাব'। বিশ শতকের সূচনালগ্নে লালকুঠি হয়ে উঠেছিল ঢাকার সাহিত্য, সংস্কৃতি, নাটক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার প্রাণকেন্দ্র। ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঢাকা পৌরসভা এবং নগরবাসীর পক্ষ থেকে এই লালকুঠি প্রাঙ্গণেই বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। ২. লালকুঠি কোথায় অবস্থিত লালকুঠি রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক পুরান ঢাকার কোতোয়ালী থানাধীন ওয়াইজঘাট এলাকায় অবস্থিত। সুনির্দিষ্টভাবে এটি বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরের বাঁধ সড়ক ঘেঁষে এবং বিখ্যাত বি কে দাশ রোড (ব্রজেন্দ্র কুমার দাশ রোড)-এর প্রবেশমুখে অবস্থিত। এর ঠিক দক্ষিণেই রয়েছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং কয়েকশ মিটার পশ্চিমে অবস্থিত আহসান মঞ্জিল জাদুঘর। ৩. লালকুঠি কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ) ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্য শৈলী: লালকুঠির খিলান, কার্নিশ ও মিনারে মুঘল স্থাপত্য এবং ইউরোপীয় গথিক রীতির নিখুঁত সংমিশ্রণ দেখা যায়। রক্তিম রঙের ইটের গাঁথুনি এবং অর্ধবৃত্তাকার অশ্বক্ষুরাকৃতি খিলানগুলো স্থাপত্যপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণ: নোবেলজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য এই প্রাঙ্গণ বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়কে জীবন্ত করে তোলে। বুড়িগঙ্গা নদীর উপকূলীয় আবহ: একসময় লালকুঠির সিঁড়ি সরাসরি বুড়িগঙ্গার জলে গিয়ে মিলত। নদীর মুক্ত বাতাস এবং পুরান ঢাকার শতবর্ষী ঐতিহ্যের ঘ্রাণ একসাথে অনুভব করা যায়। ঐতিহাসিক জুবিলি থিয়েটার ও লাইব্রেরি: তৎকালীন ঢাকার উচ্চাঙ্গ সংগীত, নাট্যচর্চা ও ইংরেজি সাহিত্যের দুর্লভ বই সংগ্রহের অন্যতম প্রাচীন ভিত্তি ছিল এই স্থান। পুরান ঢাকার হেরিটেজ ওয়াক: লালকুঠিকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিল, শাঁখারীবাজার, তারা মসজিদ ও রূপলাল হাউসের সমন্বয়ে অসাধারণ হেরিটেজ ওয়াক সম্পন্ন করা যায়। ৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট) ১ম ধাপ: ঢাকা শহরের মূল পয়েন্ট বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যাতায়াত: 🚌 ১. ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিটি বাসে: মিরপুর, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, ফার্মগেট কিংবা শাহবাগ থেকে সদরঘাটগামী যেকোনো সিটি বাসে উঠে সরাসরি সদরঘাট বা বাহাদুর শাহ পার্ক (ভিক্টোরিয়া পার্ক) মোড়ে নামতে হবে। জনপ্রিয় সিটি বাস: তানজিল পরিবহন, ভিক্টর ক্ল্যাসিক, আজমেরী গ্লোরি, সুপ্রভাত, বিহঙ্গ পরিবহন। ভাড়া: রুটভেদে ৩৫ থেকে ৫৫ টাকা। গন্তব্য স্টপ: বাহাদুর শাহ পার্ক অথবা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল মোড়। 🚆 ২. মেট্রোরেল ও ট্রেন সংযোগ: উত্তরা বা মিরপুর থেকে এমআরটি লাইন-৬ (মেট্রোরেল)-এ চড়ে মতিঝিল স্টেশনে নামুন। মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে রিকশা বা সিএনজিতে মাত্র ১৫-২০ মিনিটে ওয়াইজঘাট লালকুঠিতে পৌঁছানো যায়। এছাড়া ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকেও রিকশাযোগে সরাসরি আসা যায়। প্রারম্ভিক পয়েন্ট বাহন গন্তব্য সংযোগ আনুমানিক সময় উত্তরা / মিরপুর মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬) মতিঝিল স্টেশন (সেখান থেকে রিকশা) ৪৫ - ৫৫ মিনিট কমলাপুর রেল স্টেশন রিকশা / সিএনজি ওয়াইজঘাট লালকুঠি ২০ - ৩০ মিনিট 🚢 ৩. নৌপথ সংযোগ (লঞ্চ ও খেয়ানৌকা): বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর বা পটুয়াখালী থেকে লঞ্চে সদরঘাটে নেমে পূর্বদিকে মাত্র ৫-৭ মিনিট হেঁটে সহজেই লালকুঠিতে পৌঁছানো যায়। কেরানীগঞ্জ বা জিঞ্জিরা থেকে খেয়ানৌকায় ওয়াইজঘাট বা বাদামতলী ঘাটে নামলেই সামনে লালকুঠির দেখা মেলে। ২য় ধাপ: বাহাদুর শাহ পার্ক বা সদরঘাট থেকে লালকুঠি: বাহাদুর শাহ পার্ক বা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে লালকুঠির দূরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার। পায়ে হেঁটে: বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে শাঁখারীবাজারের মুখ বা আহসান মঞ্জিলের পাশ দিয়ে ওয়াইজঘাটের বি কে দাশ রোড ধরে ৮-১০ মিনিট হাঁটলেই লালকুঠিতে পৌঁছানো যায়। ঐতিহ্যবাহী রিকশা: পার্ক মোড় বা সদরঘাট টার্মিনাল থেকে রিকশাযোগে লালকুঠির সামনে নামতে ভাড়া লাগে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। ৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration) লালকুঠির মূল ভবন ও সম্মুখ চত্বর ঘুরে দেখতে ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময়ই যথেষ্ট। তবে পুরান ঢাকার সার্বিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে আহসান মঞ্জিল, তারা মসজিদ ও শাঁখারীবাজার সহ ঘুরতে হাফ-ডে বা সম্পূর্ণ ১ দিনের ডে-ট্যুর পরিকল্পনা করা শ্রেয়। ৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person) খাত বিবরণ আনুমানিক খরচ (টাকা) যাতায়াত (ঢাকা শহরের ভেতর) সিটি বাস / মেট্রোরেল ও রিকশা ভাড়া ১০০ - ২৫০ প্রবেশ ফি বর্তমানে লালকুঠিতে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ফি নেই (উন্মুক্ত চত্বর) ০ পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার বিউটি লাচ্ছি, কাচ্চি বিরিয়ানি ও বাকরখানি ১৫০ - ৩৫০ নৌভ্রমণ (ঐচ্ছিক) বুড়িগঙ্গায় খেয়ানৌকায় স্বল্প সময়ের জন্য ঘুরে দেখা ৫০ - ১০০ বিবিধ ও চা-পানি মিনারেল ওয়াটার ও জলখাবার ৫০ সর্বমোট আনুমানিক বাজেট ৳ ৩৫০ - ৭৫০ টাকা ৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি লালকুঠি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন একটি ঐতিহাসিক সম্পত্তি। ভবনের বহির্ভাগ ও চত্বর দেখার জন্য কোনো পূর্বানুমতি বা টিকিটের প্রয়োজন নেই। তবে ভবনের ভেতরের সংরক্ষিত মিলনায়তন বা সংস্কারাধীন অংশে প্রবেশের জন্য উপস্থিত কেয়ারটেকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। পেশাদার সিনেমা শুটিং বা বাণিজ্যিক ভিডিওগ্রাফির ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের পূর্বানুমতি আবশ্যক। ৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options) ঢাকার বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের জন্য পুরান ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বিভিন্ন বাজেটের আবাসিক সুবিধা রয়েছে: সদরঘাট ও বাবুবাজার এলাকা: লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন বেশ কিছু মাঝারি ও সাধারণ মানের বাজেট হোটেল রয়েছে (ভাড়া: ৫০০ থেকে ১,২০০ টাকা)। গুলিস্তান ও মতিঝিল (দূরত্ব ২-৩ কিমি): ভালো মানের পরিবেশের জন্য পুরানা পল্টন ও মতিঝিলের হোটেল এশিয়া, হোটেল অরনেট এবং ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসের মতো ৩-তারকা ও স্ট্যান্ডার্ড মানের হোটেল বেছে নিতে পারেন (ভাড়া: ১,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা)। ৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies) বিউটি লাচ্ছি ও ফালুদা (জনসন রোড): লালকুঠির কাছেই অবস্থিত ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিউটি লাচ্ছির স্পেশাল লেমনেড, ঠান্ডা লাচ্ছি ও ঘন ক্ষীরের ফালুদা এক দারুণ তৃপ্তি এনে দেয়। পুরান ঢাকার খাঁটি বাকরখানি: লালকুঠির আশপাশের অলিগলির তন্দুর থেকে গরম ও মচমচে খাঁটি ঘি ও পনিরের বাকরখানি সংগ্রহ করতে ভুলবেন না। শাহী কাচ্চি বিরিয়ানি ও বোরহানি: নাজিরাবাজার বা রায়সাহেব বাজারের ঐতিহ্যবাহী কাচ্চি বিরিয়ানি ও জাফরানি বোরহানির স্বাদ অতুলনীয়। রয়েলের পেস্তা বাদামের শরবত: সময় থাকলে লালবাগ মোড়ের রয়েল রেস্তোরাঁ থেকে স্পেশাল পেস্তা বাদামের শরবত চেখে দেখতে পারেন। ১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist) পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি গলিতে হেঁটে চলার জন্য আরামদায়ক হাঁটার জুতো বা কেডস। লাল ইটের স্থাপত্য ও সূক্ষ্ম অলংকরণের ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা ও পাওয়ার ব্যাংক। ধুলোবালি ও যানজট থেকে বাঁচতে মাস্ক এবং রোদের জন্য রোদচশমা। সুপেয় পানির বোতল। ১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা ⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি: পুরান ঢাকার বি কে দাশ রোড ও ওয়াইজঘাট অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা; তাই ব্যক্তিগত মানিব্যাগ ও মোবাইল সাবধানে রাখুন। শতবর্ষী প্রাচীন এই ভবনের সংস্কার কাজ বা কোনো জরাজীর্ণ কার্নিশের নিচে অহেতুক দাঁড়িয়ে থাকবেন না। প্রাচীন লাল ইটের দেয়াল বা স্তম্ভে কোনো দাগ দেওয়া, নাম লেখা বা ময়লা ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বুড়িগঙ্গার তীরে চলাচলের সময় এবং ঘাটে নৌকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। ১২. লালকুঠি ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit) লালকুঠি পরিদর্শনের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস (শীত ও বসন্তকাল)। এ সময় রোদের তাপ কম থাকে এবং পুরান ঢাকার অলিগলিতে হেঁটে হেরিটেজ ট্যুর করা অত্যন্ত আনন্দদায়ক হয়। বিশেষ করে শুক্রবার বা শনিবার সকালের দিকে পুরান ঢাকায় যানজট ও বাণিজ্যিক ব্যস্ততা তুলনামূলক কম থাকায় শান্তিতে ছবি তোলা ও ঘুরে বেড়ানো যায়। ১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি) সকাল ০৯:০০ - সকাল ০৯:৩০: পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক (ভিক্টোরিয়া পার্ক) মোড়ে আগমন এবং ঐতিহাসিক পার্কের স্মৃতিস্তম্ভ দর্শন। সকাল ০৯:৩০ - সকাল ১১:০০: ওয়াইজঘাটের বি কে দাশ রোড ধরে হেঁটে লালকুঠিতে (নর্থব্রুক হল) পৌঁছানো; লাল ইটের ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্য, আর্চ ও রবীন্দ্র স্মৃতি চত্বর পরিদর্শন এবং ছবি তোলা। সকাল ১১:০০ - দুপুর ১২:৩০: লালকুঠি থেকে মাত্র কয়েক মিনিট হেঁটে বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত অষ্টাদশ শতকের রাজকীয় প্রাসাদ আহসান মঞ্জিল জাদুঘর পরিদর্শন। দুপুর ১২:৩০ - দুপুর ০১:৩০: বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের প্রাচীন রূপলাল হাউসের অবশিষ্টাংশ এবং বাদামতলী নদী ঘাট অবলোকন। দুপুর ০১:৩০ - দুপুর ০২:৩০: রায়সাহেব বাজার বা নাজিরাবাজারে গিয়ে সুস্বাদু কাচ্চি বিরিয়ানি ও বিউটি লাচ্ছির স্পেশাল ফালুদা দিয়ে দুপুরের ভূরিভোজ। দুপুর ০২:৩০ - বিকাল ০৪:৩০: ঐতিহ্যবাহী শাঁখারীবাজারের শাঁখা শিল্প ও প্রাচীন মন্দির দর্শন অথবা লালবাগ কেল্লা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে চমৎকার ডে-ট্যুর সমাপ্তি। ১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots) আহসান মঞ্জিল: লালকুঠির অতি সন্নিকটে বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত ঢাকার নবাবদের স্মৃতিবিজড়িত গোলাপি রঙের সুরম্য প্রাসাদ ও জাতীয় জাদুঘর। রূপলাল হাউস: শ্যামবাজারের কাছে উনিশ শতকের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রূপলাল দের নির্মিত গ্রিক-রোমান স্থাপত্যের সুরম্য অট্টালিকা। বাহাদুর শাহ পার্ক: ১৮৫৭ সালের প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের (সিপাহী বিদ্রোহ) শহিদদের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া পার্ক। শাঁখারীবাজার: শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শাঁখা শিল্পীদের কর্মচঞ্চল প্রাচীন গলি ও হিন্দু মন্দিরসমূহ। তারা মসজিদ ও লালবাগ কেল্লা: পুরান ঢাকার মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী কেল্লা ও মোজাইক খচিত তারা মসজিদ। ১৫. লালকুঠি সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ) প্রশ্ন ১: নর্থব্রুক হলকে 'লালকুঠি' কেন বলা হয়? উত্তর: ভবনটি উজ্জ্বল লাল রঙের খাঁটি পোড়ামাটির ইট দিয়ে নির্মিত এবং এর রক্তিম আভার কারণে স্থানীয় জনগণ ভালোবেসে এটিকে 'লালকুঠি' নামে ডাকতে শুরু করে। প্রশ্ন ২: লালকুঠিতে কি কোনো প্রবেশ টিকিট লাগে? উত্তর: না, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য লালকুঠির বহির্ভাগ ও চত্বর দেখার জন্য কোনো প্রকার টিকিট বা ফি লাগে না। প্রশ্ন ৩: ভবনটির সাথে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কী স্মৃতি রয়েছে? উত্তর: ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঢাকা পৌরসভা ও নগরবাসীর পক্ষ থেকে এই নর্থব্রুক হল মিলনায়তনেই বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছিল। প্রশ্ন ৪: লালকুঠি ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত দিন কোনটি? উত্তর: শুক্রবার ও শনিবার সকালে পুরান ঢাকায় যানজট এবং বাণিজ্যিক কোলাহল অনেক কম থাকে, তাই ছুটির দিনের সকালবেলা শান্তিতে লালকুঠি পরিদর্শনের সবচেয়ে আদর্শ সময়। প্রশ্ন ৫: লালকুঠির বর্তমান অভিভাবক কর্তৃপক্ষ কারা? উত্তর: লালকুঠি ভবনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন ও সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা।

ভ্রমণের সেরা সময়

লালকুঠি পরিদর্শনের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস (শীত ও বসন্তকাল)। এ সময় রোদের তাপ কম থাকে এবং পুরান ঢাকার অলিগলিতে হেঁটে হেরিটেজ ট্যুর করা অত্যন্ত আনন্দদায়ক হয়।