নুহাশ পল্লী ভ্রমণ গাইড 2026 | খরচ ও যাওয়ার উপায়

গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত নুহাশ পল্লী (Nuhash Polli) বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং নান্দনিক একটি পর্যটন কেন্দ্র। এটি জনপ্...

Nuhash Polli (নুহাশ পল্লী)

গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত নুহাশ পল্লী (Nuhash Polli) বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং নান্দনিক একটি পর্যটন কেন্দ্র। এটি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বাগানবাড়ি এবং শুটিং স্পট। প্রায় ৪০ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই নন্দনকাননটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর শৈল্পিক স্থাপত্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।🌿 প্রধান আকর্ষণহুমায়ূন আহমেদের শিল্পমনা মনের ছোঁয়া নুহাশ পল্লীর প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে আছে:ভাস্কর্য ও শিল্পকর্ম: নুহাশ পল্লীতে প্রবেশের পরই চোখে পড়বে মা ও শিশুর চমৎকার একটি ভাস্কর্য। এছাড়াও এখানে রয়েছে ভূত বিলাস, বৃষ্টি বিলাস এবং বিভিন্ন বিচিত্র সব স্থাপত্যকর্ম।ঔষধি গাছের বাগান: এখানে তিন শতাধিক প্রজাতির ঔষধি ও দুর্লভ গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছের গায়ে নামফলক লাগানো আছে, যা উদ্ভিদপ্রেমীদের জন্য দারুণ একটি অভিজ্ঞতার জায়গা।দিঘি ও শাপলা পুকুর: নুহাশ পল্লীর মাঝখানে একটি বড় দিঘি রয়েছে, যার ওপর একটি দৃষ্টিনন্দন কাঠের ব্রিজ আছে। এছাড়া একটি শাপলা পুকুর রয়েছে, যেখানে পাথরের তৈরি বিশালাকার একটি ব্যাঙের ভাস্কর্য পর্যটকদের নজর কাড়ে।ট্রি-হাউস (গাছবাড়ি): বাচ্চাদের জন্য তৈরি করা আধুনিক ট্রি-হাউসটি এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।হুমায়ূন আহমেদের সমাধি: নুহাশ পল্লীর এক কোণে শায়িত আছেন এই মহান কারিগর। তাঁর ভক্তরা এখানে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। লিচু তলার এই সমাধিটি অত্যন্ত শান্ত ও গাম্ভীর্যপূর্ণ।চিত্রা ও অন্যান্য কটেজ: শুটিংয়ের জন্য ব্যবহৃত চমৎকার সব কটেজ এবং টিনের ঘরের কারুকার্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।⏰ ভ্রমণের সেরা সময়সব ঋতুতে: নুহাশ পল্লী বছরের যেকোনো সময় ভ্রমণ করা যায়। তবে বর্ষাকালে এর সবুজ প্রকৃতি এবং 'বৃষ্টি বিলাস' কটেজের পরিবেশ এক অন্যরকম রূপ পায়।শীতকাল: পিকনিক বা ভ্রমণের জন্য শীতকাল সবচেয়ে আরামদায়ক।সময়সূচী: সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।💰 টিকিট ও প্রবেশ মূল্যপ্রবেশ ফি: ১২ বছর বা তার ওপরের সবার জন্য জনপ্রতি ২০০ টাকা (সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে)।অন্যান্য: ১০ বছরের নিচে শিশু, ড্রাইভার ও প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রবেশ মূল্য সাধারণত লাগে না।📍 যাতায়াত ব্যবস্থাএটি ঢাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এবং গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।১. ঢাকা থেকে বাসে: ঢাকা (মহাখালী বা আবদুল্লাহপুর) থেকে ময়মনসিংহ বা কাপাসিয়াগামী বাসে (যেমন: এনা, শৌখিন বা অনন্যা) উঠে 'হোতাপাড়া' বাস স্ট্যান্ডে নামতে হবে।২. হোতাপাড়া থেকে: বাস স্ট্যান্ড থেকে ইজি-বাইক, সিএনজি বা হিউম্যান হলারে (লেগুনা) করে সরাসরি নুহাশ পল্লীর গেটে পৌঁছানো যায়।৩. নিজস্ব গাড়িতে: ঢাকা থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা হয়ে ময়মনসিংহ রোডে হোতাপাড়া গিয়ে বাঁয়ে মোড় নিলেই পিরুজালী গ্রাম ও নুহাশ পল্লী পাওয়া যাবে।💡 কিছু জরুরি টিপসখাবার: নুহাশ পল্লীর ভেতরে বড় কোনো রেস্টুরেন্ট নেই, তবে ছোট ক্যান্টিন আছে। হোতাপাড়া বাজারে বা গাজীপুর শহরে ভালো মানের অনেক হোটেল পাওয়া যায়। পিকনিকের জন্য গেলে খাবার বাইরে থেকে অর্ডার করে নিয়ে যাওয়া ভালো।শুটিং ও অনুষ্ঠান: অনেক সময় নাটক বা চলচ্চিত্রের শুটিং থাকলে নির্দিষ্ট কিছু অংশে প্রবেশাধিকার সীমিত হতে পারে।পরিবেশ রক্ষা: এটি একটি সংরক্ষিত বাগান এবং সাহিত্যিকের প্রিয় স্থান। তাই কোনো গাছ বা ফুলের ক্ষতি করবেন না এবং কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলবেন না।শান্তি বজায় রাখুন: সমাধি এলাকায় উচ্চস্বরে কথা বলা বা হইচই করা থেকে বিরত থাকুন।

ভ্রমণের সেরা সময়

সকাল থেকে বিকেল