মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম এন্ড মিনি চিড়িয়াখানা (Modern Fantasy Kingdom and Mini Zoo) শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় অবস্থিত দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের...
মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম এন্ড মিনি চিড়িয়াখানা (Modern Fantasy Kingdom and Mini Zoo) শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় অবস্থিত দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্র, ইকো-পার্ক এবং পারিবারিক পিকনিক স্পট। প্রায় ৫০ একরের সুবিশাল ও সবুজে ঘেরা মনোরম প্রাকৃতিক প্রান্তরে প্রতিষ্ঠিত এই থিম পার্কটিতে রয়েছে রোমাঞ্চকর সব আধুনিক রাইডস, কৃত্রিম ঢেউ খেলানো ওয়াটার পার্ক, ক্যাবল কার, প্যাডেল বোটিং সমৃদ্ধ বিশাল লেক এবং দেশি-বিদেশি পশুপাখির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি মনোমুগ্ধকর মিনি চিড়িয়াখানা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে ঢাকা থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় ডে-ট্যুর বা পারিবারিক ভ্রমণের জন্য এটি এখন অন্যতম শীর্ষ আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।
⏱️
ভ্রমণের সময়
৪ - ৫ ঘণ্টা (ডে ট্যুর)
💰
জনপ্রতি বাজেট
৮০০ - ১,৫০০ টাকা
🌤️
সেরা সময়
অক্টোবর থেকে মার্চ
🏡
ধরণ / ক্যাটাগরি
থিম পার্ক ও মিনি জু
🚶
কঠিনতার মাত্রা
সহজ (সবার উপযোগী)
👨👩👧👦
উপযুক্ত ভ্রমণকারী
পরিবার, শিশু ও বন্ধুবান্ধব
🌟
প্রধান আকর্ষণ
ওয়াটার কিংডম ও রাইডস
📶
নেটওয়ার্ক কভারেজ
সব অপারেটরের ৪জি
১. মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম এন্ড মিনি চিড়িয়াখানা এর ইতিহাস ও পরিচিতি
শরীয়তপুর জেলা ও বৃহত্তর পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের সুস্থ বিনোদন এবং পর্যটন শিল্পের প্রসারে ২০১১ সালে এই বিনোদন কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। মডার্ন হারবাল গ্রুপের স্বত্বাধিকারী ও খ্যাতনামা সমাজসেবক ডা. আলমগীর মতির নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় ৫০ একর সুপরিসর জমির ওপর এটি গড়ে তোলা হয়। ইট-পাথরের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি কাটিয়ে গ্রামীণ নির্মল পরিবেশে সব বয়সের দর্শনার্থীদের জন্য আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করাই ছিল এই পার্কের মূল লক্ষ্য। সময়ের সাথে সাথে পার্কটিতে নতুন নতুন আন্তর্জাতিক মানের রাইড, সুইমিং পুল, কৃত্রিম লেক এবং মিনি চিড়িয়াখানা সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমানে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বনভোজন ও পারিবারিক গেট-টুগেদারের জন্য এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ডেস্টিনেশন।
২. মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম এন্ড মিনি চিড়িয়াখানা কোথায় অবস্থিত
মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম এন্ড মিনি চিড়িয়াখানাটি ঢাকা বিভাগের শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার অন্তর্গত কোলুকাঠি গ্রামে অবস্থিত। এটি নড়িয়া উপজেলা পরিষদ ও নড়িয়া পৌর শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং শরীয়তপুর জেলা সদর (মনোহর বাজার / তুলাতলী) থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে মনোরম গ্রামীণ আবহে গড়ে উঠেছে। পদ্মা সেতু প্রান্ত (জাজিরা জংশন) থেকে নড়িয়ার মূল সড়ক ধরে মাত্র ৩০-৩৫ মিনিটের মধ্যেই পার্কে পৌঁছানো যায়।
৩. মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম এন্ড মিনি চিড়িয়াখানা কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ)
- রোমাঞ্চকর এম्यूजমেন্ট রাইডস: পার্কটিতে রয়েছে সুপার চেয়ার, মনোরেল ট্রেন, বিশালাকার ওয়ান্ডার হুইল (নাগরদোলা), মেরি-গো-রাউন্ড, সোয়ান রাইড, ক্যাবল কার, জিপলাইন ও স্পিডবোটিং।
- ওয়াটার ওয়ার্ল্ড ও ওয়েভ পুল: কৃত্রিম ঢেউ ও ওয়াটার স্লাইড সমৃদ্ধ বড় সুইমিং পুল, যা বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এবং শিশু-কিশোর ও তরুণদের জলকেলির জন্য এক অনাবিল আনন্দের উৎস।
- সমৃদ্ধ মিনি চিড়িয়াখানা: পার্কের অভ্যন্তরে একটি সুন্দর মিনি জু রয়েছে, যেখানে হরিণ, খরগোশ, বানর, অজগর সাপ, বনবিড়াল, ময়ূর, উটপাখি ও নানা দুর্লভ জাতের দেশি-বিদেশি পাখি রাখা হয়েছে।
- প্রাকৃতিক লেক ও বোটিং সুবিধা: পার্কের মাঝখানে তৈরি কৃত্রিম বিশাল লেকে রয়েছে প্যাডেল বোট ও রাজহাঁস আকৃতির বোট, যাতে চড়ে পুরো লেকে পরিবারসহ ভেসে বেড়ানো যায়।
- পিকনিক স্পট ও ফুড জোন: সুবিশাল ছায়াঘেরা শেড, সুসজ্জিত বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ এবং দেশীয় ও ফাস্টফুড খাবারের মানসম্মত রেস্তোরাঁ সুবিধা।
৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট)
১ম ধাপ: দূরপাল্লার যাতায়াত:
🚌 ১. সরাসরি দূরপাল্লার বাসে যাতায়াত (পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে):
ঢাকার সায়েদাবাদ, ধোলাইপাড় এবং যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নড়িয়া ও শরীয়তপুরগামী সরাসরি এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করে।
- বাসের কাউন্টার: সায়েদাবাদ জনপথ মোড়, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার সংলগ্ন এবং ধোলাইপাড় কাউন্টার।
- জনপ্রিয় বাস কোম্পানি: শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস, নড়িয়া পরিবহন, গ্লোরি ট্রাভেলস ও প্রচেষ্টা পরিবহন।
- ভাড়া ও সময়: নন-এসি বাস ভাড়া ২৫০ - ৩০০ টাকা; এসি বাসের ভাড়া ৪০০ - ৫০০ টাকা। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু হয়ে নড়িয়া পৌঁছাতে মাত্র ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে।
🚆 ২. ট্রেনে যাতায়াত (পদ্মা সেতু রেল সংযোগ):
ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পদ্মা রেল লিঙ্ক হয়ে চলাচলকারী আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনে পদ্মা স্টেশন বা ভাঙ্গা জংশনে পৌঁছে সেখান থেকেও সরাসরি নড়িয়া আসা যায়।
| ট্রেনের নাম |
ছাড়ার স্থান ও সময় (কমলাপুর) |
গন্তব্য স্টেশন |
কানেক্টিং রুট ও ভাড়া |
| সুন্দরবন / বেনাপোল এক্সপ্রেস |
সকাল ০৮:১৫ / রাত ১১:৪৫ |
পদ্মা স্টেশন (জাজিরা) / ভাঙ্গা |
ট্রেন ভাড়া ৩৫০-৪৫০ টাকা; পদ্মা স্টেশন থেকে সিএনজিতে নড়িয়া মাত্র ২৫ মিনিট। |
✈️ ৩. আকাশপথ / বিমান সংযোগ:
বিদেশ বা দেশের দূরপ্রান্ত থেকে আসতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকায় অবতরণ করে নিজস্ব গাড়ি বা অ্যাপভিত্তিক রেন্ট-এ-কারে পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে সরাসরি নড়িয়া কোলুকাঠিতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায় চলে আসা যায়।
২য় ধাপ: স্থানীয় পয়েন্ট থেকে মূল গন্তব্য:
ঢাকা থেকে আসা বাসে নড়িয়া বাজার বা মুলফৎগঞ্জ মোড়ে নামতে হবে। সেখান থেকে প্রচুর ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (অটোরিকশা), ভ্যান ও সিএনজি চলাচল করে। নড়িয়া বাজার থেকে কোলুকাঠি মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডমের দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটার। লোকাল অটোতে জনপ্রতি ভাড়া মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা (রিজার্ভ নিলে ৬০ থেকে ৮০ টাকা)। আবার যদি শরীয়তপুর জেলা সদরে নামেন, তবে সদর থেকে নড়িয়াগামী বাসে বা সিএনজিতে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় নড়িয়া নেমে অটোতে সরাসরি পার্কের মূল ফটকে পৌঁছে যাবেন।
৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration)
পার্কের বিভিন্ন রাইড উপভোগ, ওয়াটার পুলে সময় কাটানো, লেকে প্যাডেল বোটিং এবং মিনি চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার জন্য ন্যূনতম ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। সকাল ১০টায় পার্কে প্রবেশ করে দুপুর ও বিকেল পর্যন্ত আনন্দময় সময় কাটিয়ে সন্ধ্যার আগেই ফিরতি পথ ধরা যায়। ঢাকা থেকে এটি পরিদর্শনের জন্য একটি চমৎকার পূর্ণাঙ্গ ১ দিনের ডে-ট্যুর পরিকল্পনা করা আদর্শ।
৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person)
| খাত |
বিবরণ |
আনুমানিক খরচ (টাকা) |
| ঢাকা - নড়িয়া যাতায়াত (বাস আসা-যাওয়া) |
নন-এসি বা এসি বাস উভয়মুখী ভাড়া |
৳ ৫০০ - ৮০০ টাকা |
| লোকাল ট্রান্সপোর্ট (নড়িয়া বাজার - পার্ক) |
ইজিবাইক / অটোরিকশা আসা-যাওয়া |
৳ ৩০ - ৫০ টাকা |
| পার্কের প্রবেশ টিকিট (Entry Fee) |
মূল ফটকের সাধারণ প্রবেশ টিকেট (৩ বছরের ঊর্ধ্বে) |
৳ ১০০ টাকা |
| রাইডস ও সুইমিং পুল খরচ |
৩-৪টি প্রধান রাইড, বোট ও ওয়াটার পার্ক |
৳ ১৫০ - ৩০০ টাকা |
| খাবার ও দুপুরের আহার |
পার্কের ভেতরের রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ ও রিফ্রেশমেন্ট |
৳ ২০০ - ৩৫০ টাকা |
| সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (জনপ্রতি) |
৳ ৯৮০ - ১,৬০০ টাকা |
৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি
পার্কে প্রবেশের জন্য কোনো বিশেষ সরকারি অনুমতির প্রয়োজন নেই; প্রধান ফটকের টিকেট কাউন্টার থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকার টিকিট কেটে সরাসরি প্রবেশ করা যায়। পার্ক প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরী ও সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে। রাইডগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ অপারেটর ও ওয়াটার পুলে উদ্ধারকর্মী/লাইফগার্ড মোতায়েন থাকে। বড় পিকনিক দলের ক্ষেত্রে অগ্রিম স্পট বুকিং করা সুবিধাজনক।
৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options)
যেহেতু পার্কটি প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে, তাই পর্যটকরা সাধারণত দিনব্যাপী ভ্রমণ শেষ করে ঢাকায় ফিরে যান। তবে পরিবার নিয়ে রাতযাপন করতে চাইলে নড়িয়া উপজেলা সদরে সীমিত পরিসরের গেস্টহাউস অথবা ১২ কিমি দূরে শরীয়তপুর জেলা শহরে মানসম্মত আধুনিক হোটেলে থাকা যায়। উল্লেখযোগ্য হোটেলের মধ্যে রয়েছে জেলা শহরের হোটেল নূর ইন্টারন্যাশনাল ও হোটেল আল-আমিন। রুম ভাড়া প্রতি রাত ১,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে।
৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies)
- পার্কের রেস্তোরাঁ: পার্কের অভ্যন্তরে পরিবার নিয়ে দুপুরের খাবারের জন্য বাংলা সেট মেন্যু (ভাত, মুরগির মাংস, মাছ, ডাল) এবং ফাস্টফুড যেমন বার্গার, চিকেন ফ্রাই ও আইসক্রিম পাওয়া যায়।
- পদ্মার টাটকা ইলিশ: নড়িয়ার পদ্মা তীরবর্তী মাছঘাট ও স্থানীয় বাজারে পদ্মার টাটকা ভাজা ইলিশ ও বিভিন্ন পদের দেশি ভর্তা অত্যন্ত বিখ্যাত।
- মুলফৎগঞ্জের বিখ্যাত মিষ্টি: নড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী খাঁটি ছানার মিষ্টি, চমচম ও দুধের সরের মালাই চা পথচলতি পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় খাবার।
১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist)
- ওয়াটার পার্কের সুইমিং পুলে নামার জন্য অতিরিক্ত সুতি বা নাইলনের সাঁতারের পোশাক ও তোয়ালে।
- ৫০ একরের বিশাল পার্কে হাঁটার সুবিধার জন্য আরামদায়ক কেডস বা স্লিপার।
- রোদে চলাচলের সুবিধার্থে রোদচশমা (সানগ্লাস), ক্যাপ বা হ্যাট এবং ছাতা।
- স্মার্টফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য ব্যাকআপ পাওয়ার ব্যাংক।
- শিশুদের জন্য হালকা শুকনো খাবার ও নিজস্ব পানির বোতল।
১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা
⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি:
- উচ্চগতির রোমাঞ্চকর রাইডগুলোতে (যেমন সুপার চেয়ার বা জায়ান্ট হুইল) ওঠার আগে নিরাপত্তামূলক সিটবেল্ট সঠিকভাবে বেঁধে নিন এবং হার্টের রোগী ও গর্ভবতীদের এসব রাইড পরিহার করা উচিত।
- মিনি চিড়িয়াখানার খাঁচার অতিরিক্ত কাছে যাবেন না এবং বন্য পশুপাখিকে বাইরে থেকে অস্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- ওয়াটার পুলে ও লেকে বোটিং করার সময় শিশুদের সার্বক্ষণিক বড়দের নজরদারিতে রাখুন এবং লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন।
- পার্কের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে যত্রতত্র প্লাস্টিকের বোতল বা চিপসের প্যাকেট না ফেলে নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলুন।
১২. মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম এন্ড মিনি চিড়িয়াখানা ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit)
মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম ভ্রমণের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস (শীত ও বসন্তকাল)। শীতের মনোরম রোদে পার্কের বিশাল খোলামেলা প্রান্তর ও চিড়িয়াখানায় হাঁটাচলা অত্যন্ত আরামদায়ক হয়। তবে আপনি যদি ওয়াটার পার্কের সুইমিং পুল ও ওয়েভ পুলে জলকেলি উপভোগ করতে চান, তবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের যেকোনো রৌদ্রোজ্জ্বল দিন সবচেয়ে উপভোগ্য। পার্কটি সপ্তাহে সাত দিনই সকাল ৯:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি)
সকাল ০৭:০০ - ০৯:৩০: ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সরাসরি নড়িয়াগামী বাসে চেপে এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু পার হয়ে নড়িয়ায় পৌঁছানো।
সকাল ০৯:৪৫ - ১০:০০: নড়িয়া বাজার থেকে ইজিবাইকে চড়ে মাত্র ১৫ মিনিটে কোলুকাঠি মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডমে আগমন ও টিকিট সংগ্রহ।
সকাল ১০:০০ - ১২:০০: পার্কের ভেতরে প্রবেশ করে ক্যাবল কার, মনো ট্রেন, সোয়ান রাইড ও মিনি চিড়িয়াখানার পশুপাখি অবলোকন।
দুপুর ১২:০০ - ০১:৩০: ওয়াটার পার্কের সুইমিং পুলে আনন্দময় জলকেলি ও লেকে প্যাডেল বোটিং উপভোগ।
দুপুর ০১:৩০ - ০২:৩০: পার্কের ফুড কোর্টে দুপুরের সুস্বাদু খাবার গ্রহণ ও একটু বিশ্রাম।
দুপুর ০২:৪৫ - ০৪:৩০: পার্ক থেকে বের হয়ে অটোতে নড়িয়ার সন্নিকটে পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ ও সুরেশ্বর দরবার শরীফে মনোরম সূর্যাস্ত দর্শন।
বিকাল ০৫:০০: নড়িয়া কাউন্টার থেকে ফিরতি বাসে আরোহণ করে সন্ধ্যার মধ্যে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন।
১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots)
- সুরেশ্বর দরবার শরীফ: নড়িয়ার পদ্মা নদীর উপকণ্ঠে অবস্থিত প্রায় দেড়শত বছরের পুরোনো উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুফি সাধক মাওলানা সৈয়দ আহমদ আলী ওরফে জানশরীফ শাহ সুরেশ্বরী (রহ.)-এর মাজার।
- পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ (নড়িয়া রিভার ভিউ): নড়িয়ার পদ্মার ভাঙন রোধে নির্মিত নান্দনিক বাঁধ সংলগ্ন দৃষ্টিনন্দন নদীর পাড়, যা এখন স্থানীয়দের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় সান্ধ্যকালীন বিনোদন কেন্দ্র।
- রুদ্রকর মঠ (বাবুবাড়ি মঠ): শরীয়তপুর সদরের রুদ্রকরে অবস্থিত দেড়শত বছরের প্রাচীন পঞ্চরত্ন ধাঁচের ঐতিহাসিক সুউচ্চ মঠ।
- পদ্মা সেতু (জাজিরা পয়েন্ট): দেশের সবচেয়ে গর্বের স্থাপনা পদ্মা সেতু এবং জাজিরা প্রান্তের নদীশাসন ও টোল প্লাজা সংলগ্ন রিভারভিউ এলাকা।
১৫. মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম এন্ড মিনি চিড়িয়াখানা সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: পার্কে প্রবেশের সাধারণ টিকেট মূল্য কত?
উত্তর: মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডমে প্রবেশের সাধারণ টিকিট ফি জনপ্রতি ১০০ টাকা (৩ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী সবার জন্য প্রযোজ্য)। তবে ভেতরের রাইডস এবং ওয়াটার পুলের জন্য পৃথক টিকেট কাটতে হয়।
প্রশ্ন ২: পার্কটি কি সপ্তাহের সব দিন খোলা থাকে এবং সময়সূচি কী?
উত্তর: হ্যাঁ, পার্কটি সপ্তাহের সাত দিনই (কোনো সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া) প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
প্রশ্ন ৩: এখানে কি পরিবারসহ পিকনিক বা বনভোজনের ব্যবস্থা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা পারিবারিক ও করপোরেট পিকনিকের জন্য এখানে বিশালাকার সুসজ্জিত স্পট ও রান্নার শেড রয়েছে। তবে বড় দলের ক্ষেত্রে আগে থেকেই কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বুকিং দেওয়া ভালো।
প্রশ্ন ৪: বাইরে থেকে খাবার নিয়ে পার্কে ঢোকা যায় কি?
উত্তর: সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বাইরে থেকে ভারী খাবার নিয়ে প্রবেশ করা নিরুৎসাহিত করা হয়, কারণ পার্কের ভেতরে নিজস্ব রেস্তোরাঁ ও ফুড স্টল রয়েছে। তবে শিশুখাদ্য ও পানির বোতল সঙ্গে নেওয়া যায়।
প্রশ্ন ৫: ঢাকা থেকে কীভাবে সবচেয়ে দ্রুত পৌঁছানো যায়?
উত্তর: সায়েদাবাদ বা যাত্রাবাড়ী থেকে পদ্মা সেতু হয়ে নড়িয়াগামী সরাসরি বাসে উঠে নড়িয়া বাজার নামবেন। সেখান থেকে মাত্র ১৫-২০ টাকার অটো ভাড়ায় কোলুকাঠি পার্কে পৌঁছাতে মোট সময় লাগবে প্রায় ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা।
মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম ভ্রমণের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস (শীত ও বসন্তকাল)। শীতের মনোরম রোদে পার্কের বিশাল খোলামেলা প্রান্তর ও চিড়িয়াখানায় হাঁটাচলা অত্যন্ত আরামদায়ক হয়।