কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি (Kartikpur Zamindar Bari), যা স্থানীয়ভাবে কার্তিকপুর চৌধুরী বাড়ি নামেও পরিচিত, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় অবস...
কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি (Kartikpur Zamindar Bari), যা স্থানীয়ভাবে কার্তিকপুর চৌধুরী বাড়ি নামেও পরিচিত, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত শতাব্দীর প্রাচীন এক ঐতিহাসিক অভিজাত মুসলিম জমিদারি প্রাসাদ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মুঘল শাসনামলে গোড়াপত্তন হওয়া দক্ষিণ বিক্রমপুর পরগনার এই প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের সাথে ঢাকার নবাব খাজা আহসানউল্লাহ ও খাজা সলিমুল্লাহ, করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী, বগুড়ার নবাব আলতাব আলী খান এবং ফরায়েজী আন্দোলনের মহান সংস্কারক হাজী শরীয়তউল্লাহর পরিবারের প্রত্যক্ষ আত্মীয়তার যোগসূত্র ছিল। প্রাচীন মুঘল ও ইন্দো-ইউরোপীয় নির্মাণশৈলীর মিশেলে তৈরি সুদৃশ্য দ্বিতল প্রাসাদ, রাজকীয় প্রবেশতোরণ ও সুবিশাল শানবাঁধানো দীঘি আজও ভ্রমণপিপাসু ও ইতিহাসপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।
⏱️
ভ্রমণের সময়
১ - ২ ঘণ্টা (ডে ট্যুর)
💰
জনপ্রতি বাজেট
৮০০ - ১,৫০০ টাকা
🌤️
সেরা সময়
অক্টোবর থেকে মার্চ
🏡
ধরণ / ক্যাটাগরি
ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি
🚶
কঠিনতার মাত্রা
সহজ (সবার উপযোগী)
👨👩👧👦
উপযুক্ত ভ্রমণকারী
পরিবার, শিক্ষার্থী ও প্রত্নপ্রেমী
🌟
প্রধান আকর্ষণ
দ্বিতল রাজপ্রাসাদ ও স্তম্ভসমূহ
📶
নেটওয়ার্ক কভারেজ
সব অপারেটরের ৪জি
১. কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য
কার্তিকপুর জমিদার বাড়ির ইতিহাস কয়েক শতকের প্রাচীন। ১৬০৩ খ্রিস্টাব্দে বিক্রমপুরের পরাক্রমশালী বারোভুঁইয়া শাসক চাঁদ রায় ও কেদার রায়ের পতনের পর বিশাল বিক্রমপুর পরগনা বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে কার্তিকপুরের জমিদারি লাভ করেন শেখ কালু। পরবর্তীতে মুঘল সেনাপতি ফতেহ মুহাম্মদ (যিনি পর্তুগিজ জলদস্যু বিতাড়নে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন) তাঁর উত্তরসূরিদের সাথে শেখ কালুর একমাত্র কন্যা নূরুন্নেসার বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এর মাধ্যমে কার্তিকপুরে শক্তিশালী মুসলিম জমিদারি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বংশের প্রখ্যাত উত্তরসূরি মুন্সি ইমামুদ্দীন ও নাঈমুদ্দীনের আমলে জমিদারিটি আরো বিস্তার লাভ করে এবং তাঁরা সমাজে 'মুন্সি' ও 'চৌধুরী' উপাধিতে ভূষিত হন। এই জমিদার বংশের সাথে তৎকালীন বাংলার শীর্ষ অভিজাত মুসলিম পরিবার—যেমন ঢাকার নবাব পরিবার, করটিয়ার পন্নী পরিবার ও হাজী শরীয়তউল্লাহর বংশধরদের বৈবাহিক আত্মীয়তা ছিল। কালের পরিক্রমায় জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও কার্তিকপুরের সুউচ্চ দালানকোঠা ও নান্দনিক খিলানযুক্ত প্রাসাদটি সেই ঐতিহাসিক গৌরবের জ্বলন্ত স্মারক হিসেবে টিকে রয়েছে।
২. কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি কোথায় অবস্থিত
ঐতিহাসিক এই জমিদার বাড়িটি ঢাকা বিভাগের শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার তারাবুনিয়া/কার্তিকপুর এলাকায় অবস্থিত (যা নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত)। শরীয়তপুর জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব পূর্ব দিকে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ কিলোমিটার এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার। প্রাসাদটির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক হলো অক্ষাংশ ২৩.২৫২৪° উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৯০.৪৭৩০° পূর্ব। নড়িয়া বা ভেদরগঞ্জ দুই দিক থেকেই পিচঢালা চমৎকার গ্রামীণ সড়ক ধরে সরাসরি জমিদার বাড়িতে পৌঁছানো যায়।
৩. কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ)
- কারুকার্যখচিত দ্বিতল প্রাসাদ: চুন-সুরকি ও পোড়া ইটের সমন্বয়ে নির্মিত সুবিশাল মূল প্রাসাদ ভবন, যার সম্মুখভাগে রয়েছে রাজকীয় স্তম্ভ, অলংকৃত বারান্দা ও অর্ধবৃত্তাকার খিলান।
- নান্দনিক সীমানা মিনার ও স্তম্ভ: মূল সড়ক থেকে জমিদার বাড়ির প্রবেশপথ পর্যন্ত রাস্তার দুধারে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচু কারুকার্যময় প্রাচীন স্তম্ভ ও মিনার রয়েছে, যা বাংলায় অত্যন্ত বিরল একটি স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য।
- বিশাল শানবাঁধানো দীঘি: জমিদার বাড়ির ঠিক পাশেই রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন সুপরিসর একটি দীঘি, যার পাকা ঘাট তৎকালীন জমিদার ও পরিবারের সদস্যদের স্নান ও বিশ্রামের জন্য ব্যবহৃত হতো।
- অভিজাত ঐতিহ্যের পদচিহ্ন: ঢাকার নবাব এবং ফরায়েজী আন্দোলনের নেতাদের স্মৃতিবিজড়িত পারিবারিক ইতিহাস ও প্রাচীন সামগ্রীর স্মৃতি অবলোকন।
- মনোরম গ্রামীণ ও ছায়াঘেরা পরিবেশ: শতবর্ষী আম, কাঁঠাল ও বটবৃক্ষে ঘেরা কোলাহলমুক্ত শান্ত গ্রামীণ পরিবেশ পর্যটকদের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট)
১ম ধাপ: দূরপাল্লার যাতায়াত:
🚌 ১. সরাসরি দূরপাল্লার বাসে যাতায়াত (পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে):
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা থেকে শরীয়তপুর ও ভেদরগঞ্জ যাতায়াত এখন অত্যন্ত দ্রুত ও আরামদায়ক। ঢাকার সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী বা ধোলাইপাড় কাউন্টার থেকে ভেদরগঞ্জ/নড়িয়াগামী বাসে ওঠা সবচেয়ে সুবিধাজনক।
- বাসের কাউন্টার: সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, জনপথ মোড় ও যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের গোড়া।
- জনপ্রিয় বাস কোম্পানি: শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস, গ্লোরি ট্রাভেলস (এসি), প্রচেষ্টা পরিবহন ও আনন্দ পরিবহন।
- ভাড়া ও সময়: নন-এসি বাস ভাড়া ২৫০ - ৩০০ টাকা; এসি বাসে ৪০০ - ৫০০ টাকা। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু পার হয়ে ভেদরগঞ্জ বা শরীয়তপুর সদর পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা।
🚆 ২. ট্রেনে যাতায়াত (পদ্মা সেতু রেল সংযোগ):
ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পদ্মা রেল লিঙ্ক হয়ে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনে পদ্মা স্টেশন বা ভাঙ্গা জংশন হয়েও সহজে আসা যায়।
| ট্রেনের নাম |
ছাড়ার স্থান ও সময় (কমলাপুর) |
গন্তব্য স্টেশন |
কানেক্টিং রুট ও ভাড়া |
| সুন্দরবন / বেনাপোল এক্সপ্রেস |
সকাল ০৮:১৫ / রাত ১১:৪৫ |
পদ্মা স্টেশন (জাজিরা) / ভাঙ্গা |
ট্রেন ভাড়া ৩৫০-৪৫০ টাকা; পদ্মা স্টেশন থেকে সিএনজিতে শরীয়তপুর হয়ে ভেদরগঞ্জ। |
✈️ ৩. আকাশপথ / বিমান সংযোগ:
আকাশপথে আসতে চাইলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে নিজস্ব গাড়ি বা রেন্ট-এ-কারে পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে সরাসরি কার্তিকপুর জমিদার বাড়িতে আড়াই থেকে পৌনে তিন ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়।
২য় ধাপ: স্থানীয় পয়েন্ট থেকে মূল গন্তব্য:
ঢাকা থেকে আসা বাসে শরীয়তপুর সদর (মনোহর বাজার / তুলাতলী) অথবা ভেদরগঞ্জ উপজেলা সদরে নামবেন। ভেদরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে কার্তিকপুরগামী নিয়মিত সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক পাওয়া যায়। ভেদরগঞ্জ থেকে কার্তিকপুর বাজারের দূরত্ব প্রায় ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার। লোকাল সিএনজি বা অটোতে জনপ্রতি ভাড়া মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা (পুরো অটো রিজার্ভ নিলে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা)। কার্তিকপুর বাজারে নেমে পায়ে হেঁটে মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিটে সরাসরি চৌধুরী বাড়ি বা জমিদার বাড়ির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করা যায়।
৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration)
কার্তিকপুর জমিদার বাড়ির মূল ভবন, প্রাচীন প্রবেশ স্তম্ভ, দীঘি ও সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখতে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। তবে এর সাথে নিকটবর্তী ঐতিহাসিক রুদ্রকর মঠ, সুরেশ্বর দরবার শরীফ ও পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ যুক্ত করে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার একটি সমৃদ্ধ ডে-ট্যুর পরিকল্পনা করা সবচেয়ে চমৎকার। ঢাকা থেকে সকাল ৭টায় রওনা দিলে সারাদিন এসব ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকায় ফিরে যাওয়া যায়।
৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person)
| খাত |
বিবরণ |
আনুমানিক খরচ (টাকা) |
| ঢাকা - ভেদরগঞ্জ বাস ভাড়া (উভয়মুখী) |
সরাসরি নন-এসি বা এসি বাস আসা-যাওয়া |
৳ ৫০০ - ৮০০ টাকা |
| স্থানীয় যাতায়াত (ভেদরগঞ্জ - কার্তিকপুর) |
লোকাল সিএনজি বা অটোরিকশা আসা-যাওয়া |
৳ ৬০ - ১০০ টাকা |
| খাবার ও দুপুরের আহার |
স্থানীয় রেস্তোরাঁয় তাজা মাছ, দেশি মুরগি ও ভাত |
৳ ২০০ - ৩৫০ টাকা |
| হালকা জলখাবার ও মিষ্টি |
কার্তিকপুর বাজারের বিখ্যাত রসগোল্লা ও চা |
৳ ৫০ - ১০০ টাকা |
| প্রবেশ ফি / গাইড চার্জ |
জমিদার বাড়িতে প্রবেশের কোনো টিকেট নেই |
৳ ০ টাকা (সম্পূর্ণ ফ্রি) |
| সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (জনপ্রতি) |
৳ ৮১০ - ১,৩৫০ টাকা |
৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি
কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি পরিদর্শনের জন্য কোনো প্রকার সরকারি বা প্রশাসনিক অনুমতির প্রয়োজন নেই। এটি একটি উন্মুক্ত ঐতিহাসিক পল্লী। জমিদার বংশের বর্তমান উত্তরসূরিদের কয়েকজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এখানে বসবাস করেন। পর্যটকরা গেলে তাঁরা অত্যন্ত ভদ্রতা ও আন্তরিকতার সাথে জমিদার বাড়ির অতীত ইতিহাস তুলে ধরেন। তবে ব্যক্তিগত বাসভবন এলাকায় প্রবেশের সময় তাঁদের অনুমতি নেওয়া এবং পরিবারের গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা বাঞ্ছনীয়।
৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options)
কার্তিকপুর গ্রামে সরাসরি কোনো বাণিজ্যিক আবাসিক হোটেল নেই। তবে ডে-ট্যুর শেষে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঢাকায় ফিরে যেতে পারেন। রাতে থাকার পরিকল্পনা থাকলে মাত্র ৩৫-৪০ মিনিট দূরে শরীয়তপুর জেলা শহরে হোটেল নূর ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল আল-আমিন কিংবা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবেশে থাকা যায়। সিঙ্গেল ও ডাবল রুমের ভাড়া সাধারণত ৮০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে।
৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies)
- কার্তিকপুর ও ভেদরগঞ্জের খাঁটি ছানার মিষ্টি: এখানকার মিষ্টির দোকানগুলোর রসগোল্লা, চমচম ও কাঁচাগোল্লা খাঁটি গাভীর দুধের ছানা দিয়ে তৈরি হওয়ায় অত্যন্ত সুস্বাদু।
- পদ্মা ও মেঘনার তাজা মাছ: স্থানীয় হোটেলগুলোতে নদীর তাজা আইড়, পাঙ্গাশ ও ইলিশ মাছের ঝোল দিয়ে গরম ভাত খাওয়ার অভিজ্ঞতা চমৎকার।
- দেশি হাঁসের মাংস ও ভুনা খিচুড়ি: শীতকালে এখানকার ঘরোয়া হোটেলগুলোতে হাঁসের মাংস ও খিচুড়ি বিশেষভাবে পরিবেশন করা হয়।
১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist)
- প্রাচীন ভবনে হাঁটার জন্য সুবিধাজনক স্নিকার্স বা ফ্ল্যাট জুতো।
- ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও প্রাচীন মিনারের নিখুঁত ছবি তোলার জন্য ভালো ক্যামেরা বা স্মার্টফোন।
- রোদে চলাচলের জন্য টুপি, রোদচশমা ও ব্যক্তিগত পানির বোতল।
- স্থানীয় সিএনজি, অটো ও বাজারের খরচের জন্য পর্যাপ্ত নগদ ক্যাশ টাকা।
১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা
⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি:
- যেহেতু প্রাসাদটি প্রাচীন এবং সংস্কারের অভাবে কিছু অংশের পলেস্তারা ও ইট খসে পড়ছে, তাই ভবনের জরাজীর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ছাদে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
- প্রাচীন দেয়াল বা স্তম্ভের গায়ে নাম লেখা বা ক্ষয়ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকুন।
- দীঘির পাড়ে চলাচলের সময় পা পিচলে যাওয়া এড়াতে সাবধানে হাঁটুন।
- স্থানীয় অধিবাসীদের শান্তি নষ্ট হয় এমন উচ্চবাচ্য বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ পরিহার করুন।
১২. কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit)
কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি পরিদর্শনের জন্য সবচেয়ে আদর্শ সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস (শীত ও বসন্তকাল)। এ সময় মৃদু মিষ্টি রোদ আর সুশীতল হাওয়ায় গ্রামীণ মেঠোপথ ধরে হেঁটে জমিদার বাড়ি ও দীঘির পাড়ে সময় কাটানো অত্যন্ত উপভোগ্য হয়। দিনের বেলা সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা এবং বিকেল ৩টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টি আলোকচিত্র ধারণের জন্য সবচেয়ে সেরা।
১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি)
সকাল ০৭:১৫ - ০৯:৩০: ঢাকার সায়েদাবাদ বা যাত্রাবাড়ী থেকে এসি/নন-এসি বাসে পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর বা ভেদরগঞ্জে আগমন।
সকাল ০৯:৪৫ - ১০:২০: ভেদরগঞ্জ থেকে সিএনজি বা ইজিবাইক নিয়ে কার্তিকপুর জমিদার বাড়িতে পৌঁছানো।
সকাল ১০:৩০ - ১২:০০: প্রাচীন দ্বিতল প্রাসাদ, মিনার ও দীঘি ঘুরে দেখা, ইতিহাস উপলব্ধি ও ফটোগ্রাফি।
দুপুর ১২:১৫ - ০১:১৫: কার্তিকপুর বা ভেদরগঞ্জ বাজারে তাজা দেশি খাবারের মধ্যাহ্নভোজ ও স্থানীয় রসগোল্লার স্বাদ গ্রহণ।
দুপুর ০১:৩০ - ০৩:৩০: নিকটবর্তী ঐতিহাসিক রুদ্রকর মঠ (বাবুবাড়ি মঠ) অথবা নড়িয়ার পদ্মার বেড়িবাঁধ পরিদর্শন।
বিকাল ০৪:০০: বাস কাউন্টারে এসে ঢাকার ফিরতি বাসে আরোহণ।
সন্ধ্যা ০৬:৩০: সফল ও আনন্দময় ভ্রমণ শেষে রাজধানীতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন।
১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots)
- রুদ্রকর মঠ (বাবুবাড়ি মঠ): শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকরে অবস্থিত দেড়শত বছরের প্রাচীন পঞ্চরত্ন শিখর মন্দির।
- সুরেশ্বর দরবার শরীফ: নড়িয়ায় পদ্মা নদীর উপকণ্ঠে অবস্থিত সুফি সাধক হযরত জান শরীফ শাহ সুরেশ্বরী (রহ.)-এর মাজার।
- মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম: কোলুকাঠিতে অবস্থিত প্রায় ৫০ একরের আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট ও ওয়াটার পার্ক।
- পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ (নড়িয়া পয়েন্ট): পদ্মা নদীর ঢেউ ও মুক্ত বাতাস উপভোগের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পর্যটন এলাকা।
১৫. কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: কার্তিকপুর জমিদার বাড়িটি কখন এবং কাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: সপ্তদশ শতকে মুঘল আমলে বিক্রমপুর পরগনা বিভক্ত হওয়ার পর শেখ কালু এবং পরবর্তীকালে মুঘল সেনাপতি ফতেহ মুহাম্মদের উত্তরসূরিদের বৈবাহিক সূত্রে এই জমিদারি প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ২: কার্তিকপুর জমিদার বাড়িতে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট ফি আছে কি?
উত্তর: না, এখানে প্রবেশের জন্য কোনো প্রবেশ ফি বা টিকেটের প্রয়োজন নেই; এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।
প্রশ্ন ৩: এখানে কি এখনও জমিদার বংশের কেউ বাস করেন?
উত্তর: হ্যাঁ, জমিদার পরিবারের কিছু উত্তরসূরি এখনও এই প্রাচীন ভবনের একাংশে এবং এর সংলগ্ন বাড়িঘরে বসবাস করছেন।
প্রশ্ন ৪: ঢাকা থেকে দিনে গিয়ে দিনে কি ফিরে আসা সম্ভব?
উত্তর: অবশ্যই, পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের সুবাদে ঢাকা থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে ডে-ট্যুর সম্পন্ন করে একই দিনে ঢাকায় ফেরা যায়।
প্রশ্ন ৫: ভেদরগঞ্জ বা শরীয়তপুর সদর থেকে কীভাবে কার্তিকপুর যাব?
উত্তর: ভেদরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি বা ইজিবাইকে জনপ্রতি ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় মাত্র ১৫-২০ মিনিটে সরাসরি কার্তিকপুর বাজারে যাওয়া যায়।
কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি পরিদর্শনের জন্য সবচেয়ে আদর্শ সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস (শীত ও বসন্তকাল)।