কদম রসূল দরগাহ ভ্রমণ গাইড 2026 | খরচ ও যাওয়ার উপায়

কদম রসূল দরগাহ (Kadam Rasul Dargah) হলো বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক, সুপ্রাচীন...

Kadam Rasul Dargah (কদম রসূল দরগাহ)

কদম রসূল দরগাহ (Kadam Rasul Dargah) হলো বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক, সুপ্রাচীন ও পরম মর্যাদাপূর্ণ ইসলামিক তীর্থস্থান ও স্মারক সৌধ। জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক তথ্যমতে, এই দরগাহের মূল মূল প্রকোষ্ঠে সংরক্ষিত রয়েছে একটি কালো মার্বেল পাথরের ফলক, যার ওপর শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র পদচিহ্ন (কদম মোবারক) মুদ্রিত রয়েছে। বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর মসনদ-ই-আলা ঈসা খাঁ ষোড়শ শতাব্দীতে আফগান সেনানায়কের কাছ থেকে এই মূল্যবান পাথরটি সংগ্রহ করে এখানে স্থাপন করেন। পরবর্তীতে সুবেদার ইসলাম খাঁ এবং সম্রাট শাহজাহানের আমলে এখানে দৃষ্টিনন্দন মাজার ও সুউচ্চ প্রবেশতোরণ নির্মাণ করা হয়। শীতলক্ষা নদীর স্নিগ্ধ হাওয়া, সুপ্রাচীন মুঘল স্থাপত্যশৈলী এবং আধ্যাত্মিক আবহ মিলে এই স্থানটি ইতিহাসপ্রেমী ও পুণ্যার্থীদের জন্য এক অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান। ⏱️ ভ্রমণের সময় ১ দিন (হাফ ডে ট্যুর) 💰 জনপ্রতি বাজেট ৩০০ - ৬০০ টাকা 🌤️ সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ 🏡 ধরণ / ক্যাটাগরি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্মারক 🚶 কঠিনতার মাত্রা খুব সহজ (Easy Walk) 👨‍👩‍👧‍👦 উপযুক্ত ভ্রমণকারী পরিবার ও ইতিহাস অনুরাগী 🌟 প্রধান আকর্ষণ রাসূল (সা.)-এর পদচিহ্ন ও তোরণ 📶 নেটওয়ার্ক কভারেজ সব অপারেটর (4G/5G) ১. কদম রসূল দরগাহ এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য কদম রসূল দরগাহের ইতিহাস বাংলার মধ্যযুগীয় রাজনীতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইতিহাসবিদদের বিবরণ অনুযায়ী, ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে বারো ভুঁইয়াদের প্রধান নেতা মসনদ-ই-আলা ঈসা খাঁ জনৈক আফগান সেনাপতি মাসুম খাঁ কাবুলির কাছ থেকে আরব দেশ থেকে নিয়ে আসা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পদচিহ্ন সংবলিত একটি পবিত্র কালো মার্বেল পাথর সংগ্রহ করেন। তিনি পাথরটি পরম শ্রদ্ধার সাথে শীতলক্ষা নদীর পূর্ব তীরের বন্দর নামক স্থানে একটি উঁচু টিলার ওপর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে মুঘল সুবেদার ইসলাম খাঁ চিশতির সময় এবং সম্রাট শাহজাহানের আমলে এটিকে কেন্দ্র করে একটি সুদৃঢ় স্মৃতিসৌধ বা দরগাহ ভবন তৈরি করা হয়। ১৭১৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার নায়েব-ই-নাজিম নবাব নুসরাত জং দরগাহের সামনে একটি অত্যন্ত জমকালো ও নান্দনিক দুই স্তরবিশিষ্ট বিশাল প্রবেশতোরণ (Gatehouse) নির্মাণ করেন। পরে ১৮১৪ সালে কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম নবী দরগাহ ভবনের আধুনিক সংস্কার ও বর্তমান কাঠামো সুসংহত করেন। শত শত বছর ধরে এটি বাংলার মুসলিম ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও মুঘল স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ২. কদম রসূল দরগাহ কোথায় অবস্থিত কদম রসূল দরগাহ ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় অবস্থিত। এটি নারায়ণগঞ্জ মূল শহরের বিপরীত দিকে শীতলক্ষা নদীর পূর্ব পাড়ে নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এবং বন্দর খেয়াঘাটের মাঝামাঝি একটি প্রাকৃতিক উঁচু ভূমিতে অবস্থিত। ঢাকা জিরো পয়েন্ট (গুলিস্তান) থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব প্রায় ২৫ থেকে ২৮ কিলোমিটার। শীতলক্ষা নদী পার হয়ে বন্দর অংশে উঠলেই অল্প দূরত্বের মধ্যে এই প্রাচীন দরগাহ কমপ্লেক্সটির দেখা মেলে। ৩. কদম রসূল দরগাহ কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ) রাসূল (সা.)-এর পবিত্র পদচিহ্ন ফলক: একটি বিশেষ পাত্রে গোলাপজল মেশানো পানিতে সংরক্ষিত পবিত্র পদচিহ্ন সংবলিত মার্বেল পাথরের প্রতিচ্ছবি দেখা পুণ্যার্থীদের জন্য পরম আধ্যাত্মিক অনুভূতির সৃষ্টি করে। মুঘল আমলের রাজকীয় প্রবেশতোরণ: নবাব নুসরাত জং কর্তৃক ১৭১৪ সালে নির্মিত দুই তলা বিশিষ্ট সুউচ্চ প্রবেশ ফটকটি মুঘল স্থাপত্যের খিলান ও অলঙ্করণের এক অতুলনীয় উদাহরণ। গম্বুজবিশিষ্ট মূল দরগাহ ভবন: সুদৃশ্য একক গম্বুজ, খাঁজকাটা দেওয়াল ও মার্বেল মেঝের নিখুঁত সমন্বয় প্রাচীন ইসলামী স্থাপত্যের গভীর নান্দনিকতা প্রকাশ করে। শীতলক্ষা নদীর নৈসর্গিক রূপ: দরগাহটি নদীর তীরে উঁচু টিলায় অবস্থিত হওয়ায় ওপর থেকে শীতলক্ষা নদীর বহমান রূপ ও নৌকার আনাগোনা মনোরম দেখায়। ঐতিহাসিক সোনাকান্দা দুর্গের নৈকট্য: এই দরগাহের মাত্র ১.৫ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে মুঘল সুবেদার মীর জুমলা কর্তৃক নির্মিত বিখ্যাত জলদুর্গ 'সোনাকান্দা ফোর্ট'। ৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট) ১ম ধাপ: দূরপাল্লার যাতায়াত: 🚌 ১. বাসে সরাসরি নারায়ণগঞ্জ শহরে যাতায়াত: ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে পৌঁছানোর একাধিক বাস সার্ভিস রয়েছে: গুলিস্তান/যাত্রাবাড়ী থেকে: শীতল এসি বাস, বন্ধন পরিবহন, আনন্দ কিংবা উৎসব পরিবহনে চড়ে সরাসরি নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া বা ২ নম্বর রেলগেট/লঞ্চঘাট নামা যায়। ভাড়া ৫৫-৮০ টাকা। দূরপাল্লার বাস (চট্টগ্রাম/সিলেট থেকে): চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার বাসে আসলে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের মদনপুর স্ট্যান্ডে নেমে মদনপুর-বন্দর রোড দিয়ে সরাসরি সিএনজিতে দরগাহে আসা যায়। 🚆 ২. ট্রেনে যাতায়াত: ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ২০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানো সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও যানজটমুক্ত মাধ্যম: ট্রেনের নাম ছাড়ার স্টেশন ও সময় গন্তব্য স্টেশন ভাড়া ও কানেক্টিং রুট ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ কমিউটার কমলাপুর (সারাদিন নিয়মিত ব্যবধানে) নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন ১৫ - ২০ টাকা (স্টেশন সংলগ্ন ৫ নম্বর ঘাট থেকে নৌকা/ট্রলারে পারাপার) আন্তঃনগর সুবর্ণ / তূর্ণা নিশীথা চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ঢাকা কমলাপুর ৪৫০ - ১,১০০ টাকা (কমলাপুর থেকে লোকাল ট্রেনে নারায়ণগঞ্জ) ✈️ ৩. আকাশপথ / বিমান সংযোগ: বিদেশ বা দূরবর্তী বিমানবন্দর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DAC)-এ নেমে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার অথবা ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড দিয়ে খুব সহজেই প্রাইভেট কার বা ট্যাক্সিতে ১ ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টায় কদম রসূল ঘাটে পৌঁছানো যায়। ২য় ধাপ: স্থানীয় পয়েন্ট থেকে মূল গন্তব্য: নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট / ৫ নম্বর ঘাট থেকে: নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে ৫ নম্বর ঘাট বা সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে গিয়ে মাত্র ২ থেকে ৫ টাকায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা নৌকায় শীতলক্ষা নদী পার হয়ে বন্দর ঘাটে নামতে হবে। ঘাট থেকে রিকশা বা পায়ে হেঁটে মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটে কদম রসূল দরগাহে পৌঁছানো যায় (রিকশা ভাড়া ১৫-২০ টাকা)। মদনপুর স্ট্যান্ড থেকে সরাসরি স্থলপথে: নদী পার হতে না চাইলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মদনপুর-বন্দর সংযোগ সড়কে সিএনজি বা অটোরিকশায় সরাসরি কদম রসূল দরগাহের সামনে আসা যায়। দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার, ভাড়া জনপ্রতি ৩০-৪০ টাকা। ৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration) কদম রসূল দরগাহ কমপ্লেক্স, ঐতিহাসিক তোরণ এবং মাজার এলাকা ঘুরে দেখতে সাধারণত ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে হাফ-ডে বা সম্পূর্ণ দিনের ট্যুর প্ল্যানে কদম রসূলের পাশাপাশি নিকটস্থ সোনাকান্দা দুর্গ, নবীগঞ্জ ঘাট এবং শীতলক্ষার অপর পাড়ের হাজীগঞ্জ দুর্গ ও বিবি মরিয়মের মাজার একসাথে মিলিয়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার এক অনন্য ঐতিহাসিক ট্যুর সম্পন্ন করা যায়। ৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person) খাত বিবরণ আনুমানিক খরচ (টাকা) যাতায়াত (বাস / ট্রেন ও লোকাল ট্রলার) ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ বাস/ট্রেন, খেয়া পারাপার ও রিকশা (যাওয়া-আসা) ১০০ - ১৫০ টাকা প্রবেশ টিকিট দরগাহে কোনো প্রবেশ ফি নেই (উন্মুক্ত) ০ টাকা খাবার ও পানীয় দুপুরের খাবার ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ১৫০ - ৩০০ টাকা দান ও বিবিধ দরগাহে স্বেচ্ছায় দান ও জুতো রাখার খরচ ২০ - ৫০ টাকা সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (জনপ্রতি) ৳ ৩০০ - ৬০০ টাকা ৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি কদম রসূল দরগাহে প্রবেশের জন্য কোনো অনুমতি বা প্রশাসনিক পাসের প্রয়োজন নেই। এটি ওয়াকফ এস্টেট ও স্থানীয় কমিটির পরিচালনায় পরিচালিত একটি উন্মুক্ত আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। দরগাহের খাদেমগণ দর্শনার্থীদের পবিত্র পদচিহ্ন দর্শনে সহায়তা করে থাকেন। সাধারণ পর্যটক ও পরিবারের সদস্যদের জন্য পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও নিরাপদ। ৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options) ঢাকা থেকে অত্যন্ত কাছে হওয়ায় সাধারণত পর্যটকরা দিনে দিনেই ভ্রমণ শেষ করে ফিরে যান। তবে রাত্রিকালীন অবস্থানের প্রয়োজন হলে: নারায়ণগঞ্জ শহর: চাষাড়া ও ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় হোটেল মেহেরান, হোটেল সোনারগাঁও ইন্টারন্যাশনাল ও ধানসিঁড়ি গেস্টহাউস রয়েছে। রিসোর্ট: কাঁচপুর বা মেঘনা ঘাট এলাকায় লা রিভ ড্রিম রিসোর্ট বা কাছাকাছি রিভারভিউ রিসোর্টে থাকা যায়। ঢাকা সিটি: মতিঝিল বা পুরান ঢাকার হোটেলগুলোতে অবস্থান করা অত্যন্ত সহজ। ৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies) নারায়ণগঞ্জের বিখ্যাত মিষ্টি ও রসগোল্লা: নারায়ণগঞ্জের প্রাচীন মিষ্টির দোকান এবং মিনা সুইটস ও ভগবতী মিষ্টান্ন ভান্ডারের রসগোল্লা ও প্যারা সন্দেশ বিখ্যাত। নদী পারের তাবাররুক ও শিরনি: দরগাহ সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ দিনে ঐতিহ্যবাহী তেহারি ও জিলাপি পাওয়া যায়। চাষাড়ার ঐতিহ্যবাহী কাচ্চি বিরিয়ানি: নারায়ণগঞ্জ শহরে সুপরিচিত নবাব বিরিয়ানি ও স্থানীয় হোটেলগুলোর কাচ্চি ও মোরগ পোলাও অত্যন্ত উপাদেয়। ১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist) শালীন পোশাক ও ওড়না/টুপি: দরগাহ একটি ধর্মীয় ও পবিত্র স্থান, তাই শালীন পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। নারীদের জন্য মাথায় স্কার্ফ বা ওড়না এবং পুরুষদের জন্য টুপি রাখা আবশ্যক। জুতো খোলার ব্যাগ: মাজারে প্রবেশের পূর্বে জুতো খুলতে হয়, সহজে বহনযোগ্য জুতো বা স্লিপার পরা ভালো। নগদ অর্থ: ট্রলারের ভাড়া ও ছোটখাটো খরচের জন্য পর্যাপ্ত খুচরা টাকা সঙ্গে রাখুন। ক্যামেরা / ফোন: প্রাচীন স্থাপত্য ও তোরণের ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা (তবে মূল পদচিহ্ন কক্ষে ছবি তোলার ক্ষেত্রে খাদেমদের অনুমতি মেনে চলুন)। ১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা ⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি: শীতলক্ষা নদী পারাপারের সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা ভালো এবং অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় চড়া এড়িয়ে চলুন। দরগাহের অভ্যন্তরে উচ্চস্বরে কথা বলা বা হইচই করা থেকে বিরত থাকুন এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখুন। ঐতিহাসিক মুঘল তোরণ বা প্রাচীরে কোনো প্রকার দাগ কাটা বা নাম লেখা সম্পূর্ণ অনুচিত। ভিড়ের মধ্যে নিজের ব্যাগ, মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রীর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। ১২. কদম রসূল দরগাহ ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit) বছরের যেকোনো সময়ই কদম রসূল দরগাহ পরিদর্শন করা যায়। তবে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত শীতের সময় আবহাওয়া স্নিগ্ধ থাকে এবং নদীর শীতল হাওয়া ভ্রমণকে অত্যন্ত উপভোগ্য করে তোলে। প্রতি বছর মিলাদুন্নবী (সা.) এবং বিশেষ ধর্মীয় উৎসবগুলোতে এখানে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম ঘটে। ভিড় এড়াতে চাইলে সপ্তাহের স্বাভাবিক দিনগুলোতে সকালের দিকে ভ্রমণ করা সবচেয়ে উত্তম। ১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি) সকাল ৮:৩০ - সকাল ৯:৩০: ঢাকা কমলাপুর থেকে ট্রেনে অথবা গুলিস্তান থেকে বাসে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া/স্টেশনে পৌঁছানো। সকাল ৯:৪৫ - সকাল ১০:১৫: ৫ নম্বর খেয়াঘাট থেকে শীতলক্ষা নদী পার হয়ে বন্দর ঘাটে নামা এবং রিকশায় কদম রসূল দরগাহে পৌঁছানো। সকাল ১০:১৫ - সকাল ১১:৩০: ঐতিহাসিক মুঘল তোরণ পরিদর্শন, দরগাহ জিয়ারত এবং পবিত্র পদচিহ্ন অবলোকন। সকাল ১১:৪৫ - দুপুর ১:০০: অটোরিকশায় নিকটস্থ সোনাকান্দা জলদুর্গ (Sonakanda Fort) পরিদর্শন ও নদীর পাড়ে সময় কাটানো। দুপুর ১:৩০ - দুপুর ২:৩০: নদী পার হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে ফিরে স্থানীয় রেস্তোরাঁয় ঐতিহ্যবাহী মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করা। বিকেল ৩:০০ - বিকেল ৪:৩০: শহরের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ দুর্গ ও বিবি মরিয়মের মাজার ঘুরে দেখা। বিকেল ৫:০০: বাস বা ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া। ১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots) সোনাকান্দা জলদুর্গ: মুঘল আমলে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের প্রতিহত করতে নির্মিত নদীর পাড়ের ঐতিহাসিক অষ্টভুজাকার দুর্গ (কদম রসূল থেকে মাত্র দেড় কিমি দূরে)। হাজীগঞ্জ জলদুর্গ: শীতলক্ষার পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত একই সময়ের আরেকটি ঐতিহাসিক মুঘল দুর্গ। বিবি মরিয়মের মাজার ও মসজিদ: মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খাঁর কন্যা তুরুক দুখত (বিবি মরিয়ম)-এর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক সমাধি। পানাম নগর ও সোনারগাঁও: বন্দর থেকে সিএনজিযোগে মাত্র ৩০ মিনিটে প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও ও কারুশিল্প জাদুঘরে যাওয়া যায়। ১৫. কদম রসূল দরগাহ সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ) প্রশ্ন ১: কদম রসূল দরগাহে কি কোনো প্রবেশ টিকিট লাগে? উত্তর: না, কদম রসূল দরগাহে প্রবেশের জন্য কোনো ফি বা টিকিটের প্রয়োজন হয় না, এটি সকলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। প্রশ্ন ২: পবিত্র পদচিহ্নটি কি সবসময় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে? উত্তর: সাধারণত প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে খাদেমদের উপস্থিতিতে পুণ্যার্থীদের এটি দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ করে জোহর থেকে আসরের মধ্যবর্তী সময়ে এটি সহজে দর্শন করা যায়। প্রশ্ন ৩: মহিলারা কি দরগাহে প্রবেশ করতে পারেন? উত্তর: হ্যাঁ, শালীন পোশাক ও পর্দা বজায় রেখে নারী দর্শনার্থীরা দরগাহের নির্দিষ্ট অংশে যেতে পারেন এবং জিয়ারত করতে পারেন। প্রশ্ন ৪: নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে কদম রসূল দরগাহে যেতে নদী পার হওয়া কি বাধ্যতামূলক? উত্তর: নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে নদী পার হওয়া সবচেয়ে দ্রুততম মাধ্যম (মাত্র ৩-৫ মিনিট)। তবে চাইলে ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু (বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নাসিম ওসমান সেতু) অথবা কাঁচপুর-মদনপুর রোড দিয়ে সম্পূর্ণ স্থলপথেও সড়কপথে পৌঁছানো যায়। প্রশ্ন ৫: কদম রসূল দরগাহের ঐতিহাসিক প্রবেশ তোরণটি কে নির্মাণ করেছিলেন? উত্তর: ১৭১৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার নায়েব-ই-নাজিম নবাব নুসরাত জং এই মনোরম সুউচ্চ দুই স্তরবিশিষ্ট প্রবেশতোরণটি নির্মাণ করেন।

ভ্রমণের সেরা সময়

প্রতি বছর মিলাদুন্নবী (সা.) এবং বিশেষ ধর্মীয় উৎসবগুলোতে এখানে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম ঘটে। ভিড় এড়াতে চাইলে সপ্তাহের স্বাভাবিক দিনগুলোতে সকালের দিকে ভ্রমণ করা সবচেয়ে উত্তম।