বারো আউলিয়া মাজার ভ্রমণ গাইড 2026 | খরচ ও যাওয়ার উপায়
বারো আউলিয়া মাজার শরীফ (Baro Aulia Mazar Sharif) বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি অত্যন্ত...
Baro Aulia Mazar (বারো আউলিয়া মাজার)
বারো আউলিয়া মাজার শরীফ (Baro Aulia Mazar Sharif) বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি অত্যন্ত পবিত্র, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক সুফি তীর্থস্থান। সপ্তদশ শতাব্দীতে এ অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও মানবকল্যাণের মহান ব্রত নিয়ে সুদূর মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগমন করেছিলেন বারোজন মহান সুফি দরবেশ ও অলি-আউলিয়া। প্রায় ৪৭ একরের সুবিশাল ও নিবিড় শান্ত সবুজ ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মাজার কমপ্লেক্সটিতে রয়েছে ১১টি স্থানে সমাহিত দরবেশদের মাজার, একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং স্বচ্ছ পানির বিস্তীর্ণ দিঘি। শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস, আধ্যাত্মিক আবহ এবং লোকগাথার অপূর্ব সমন্বয়ে বারো আউলিয়া মাজার শরীফ উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত। ⏱️ ভ্রমণের সময় ১ দিন (ডে ট্যুর) 💰 জনপ্রতি বাজেট ৳ ১,৫০০ – ৳ ৩,৫০০ 🌤️ সেরা সময় অক্টোবর – মার্চ ও বৈশাখ 🏡 ধরণ / ক্যাটাগরি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় মাজার 🚶 কঠিনতার মাত্রা অত্যন্ত সহজ ও সুগম 👨👩👧👦 উপযুক্ত ভ্রমণকারী সব বয়সের পরিবার ও ভক্ত 🌟 প্রধান আকর্ষণ ১১টি মাজার ও সুবিশাল প্রাঙ্গণ 📶 নেটওয়ার্ক কভারেজ শক্তিশালী ৪জি নেটওয়ার্ক ১. বারো আউলিয়া মাজার এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য বারো আউলিয়া মাজারের ইতিহাস প্রায় চার শতক পুরনো। জনশ্রুতি অনুযায়ী, আনুমানিক সপ্তদশ শতাব্দীতে মধ্যপ্রাচ্যের পবিত্র ভূমি থেকে বারোজন সুফি সাধক ইসলাম ধর্মের শান্তির বাণী প্রচারের জন্য তৎকালীন বাংলায় পদার্পণ করেন। তাঁরা সমুদ্রপথে প্রথমে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আসেন এবং পরবর্তীতে ইসলাম প্রচার করতে করতে উত্তরবঙ্গের এই শান্ত পল্লি অঞ্চলে পৌঁছান। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় তাঁরা আস্তানা গাড়েন ও একনিষ্ঠভাবে মানবসেবা ও আধ্যাত্মিক সাধনায় নিয়োজিত হন। এই মহান সাধকদের ওফাতের পর এই পুণ্যভূমিতেই তাঁদের সমাহিত করা হয়। প্রায় ৪৭ একর বিস্তৃত জমিতে মোট ১১টি স্থানে তাঁদের ১২ জনের সমাধি রয়েছে (একটিতে দুইজন সাধক পাশাপাশি শায়িত আছেন)। লোকবিশ্বাস ও লোকগাথা রয়েছে যে, অতীতে ভক্তদের অগাধ শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে এই মাজার প্রাঙ্গণ হিংস্র বাঘ ও বিষধর সর্প দ্বারা অলৌকিকভাবে পাহারারত থাকত। ১৯৯০ সালে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের বিশেষ উদ্যোগে মাজারগুলো আধুনিক পাকা কাঠামোতে রূপান্তর করা হয় এবং একটি সুশৃঙ্খল চত্বর গড়ে তোলা হয়। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়া ঐতিহ্যবাহী ওরসে দূরদূরান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অগণিত ভক্তের সমাগম ঘটে। ২. বারো আউলিয়া মাজার কোথায় অবস্থিত বারো আউলিয়া মাজার শরীফ বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বার আউলিয়া গ্রামে অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে এটি প্রায় ২৬°১৬' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°২৬' পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এটি পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে মাত্র ৯ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে এবং আটোয়ারী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এছাড়া বিখ্যাত মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন 'মির্জাপুর শাহী মসজিদ' এই মাজার থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ৩. বারো আউলিয়া মাজার কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ) আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জিয়ারত: উত্তরবঙ্গের প্রাচীনতম সুফি দরবেশদের পবিত্র পদচিহ্নধন্য এই স্থানে দোয়া, মোনাজাত ও জিয়ারতের মাধ্যমে মনে গভীর মানসিক ও আধ্যাত্মিক শান্তি অনুভূত হয়। ৪৭ একরের ছায়াঘেরা সুবিশাল চত্বর: বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সবুজ বৃক্ষরাজি, বাঁশঝাড়, সুপারি বাগান এবং ফুলের গাছ মাজার প্রাঙ্গণে এক অপার্থিব শান্ত ও মনোরম পরিবেশ তৈরি করেছে। ১১টি ভিন্ন সমাধিস্থল ও স্থাপত্যশৈলী: সবুজ প্রান্তরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা সুফি সাধকদের পাকা সমাধিগুলো পর্যটক ও গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ঐতিহাসিক প্রাচীন দীঘি ও জামে মসজিদ: মাজার কমপ্লেক্সে রয়েছে অজু ও গোসলের জন্য ব্যবহৃত সুবিশাল প্রাচীন দীঘি এবং মুসল্লিদের ইবাদতের জন্য সুন্দর একটি জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা-এতিমখানা। ঐতিহ্যবাহী ওরস মোবারক ও মেলা: বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বার্ষিক ওরসে গ্রামীণ হস্তশিল্প, মিষ্টির দোকান ও আধ্যাত্মিক মাহফিলের এক বিশাল মিলনমেলা সৃষ্টি হয়। মির্জাপুর শাহী মসজিদের নিকটবর্তী অবস্থান: মাজার দর্শনের সাথে সাথেই একই ট্রিপে কয়েক শতাব্দীর পুরনো তিন গম্বুজ বিশিষ্ট বিখ্যাত মির্জাপুর শাহী মসজিদও একসঙ্গে পরিদর্শন করা যায়। ৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট) ১ম ধাপ: দূরপাল্লার যাতায়াত: 🚌 ১. সরাসরি দূরপাল্লার বাসে যাতায়াত: ঢাকা থেকে পঞ্চগড় জেলা সদর অথবা সরাসরি আটোয়ারী উপজেলা সদরের বাস পাওয়া যায়। বাসের কাউন্টার: গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আব্দুল্লাহপুর ও মহাখালী টার্মিনাল। জনপ্রিয় বাস কোম্পানি: নাবিল পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী এন.আর, বাবলু এন্টারপ্রাইজ এবং তানজিল ট্রাভেলস। সরাসরি আটোয়ারীর বাস রয়েছে নাবিল ও বাবলু পরিবহনে। ভাড়া: নন-এসি বাস ৮০০ – ৯০০ টাকা; এসি বাস ১,৩০০ – ১,৯০০ টাকা। সময় লাগে সাধারণত ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা। 🚆 ২. ট্রেনে যাতায়াত: ঢাকা কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে সরাসরি পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন অথবা কিশামত রেলওয়ে স্টেশন হয়ে ট্রেনে যাতায়াত করা যায়: ট্রেনের নাম ছাড়ার সময় (ঢাকা) গন্তব্য স্টেশন ছুটির দিন / কানেক্টিং রুট পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (৭৯৩) রাত ১১:৩০ মি. পঞ্চগড় স্টেশন ছুটি নেই (প্রতিদিন চলাচল করে) একতা এক্সপ্রেস (৭০৫) সকাল ১০:১৫ মি. পঞ্চগড় / কিশামত মঙ্গলবার বন্ধ দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৭) রাত ০৮:০০ মি. পঞ্চগড় স্টেশন বুধবার বন্ধ কাঞ্চন এক্সপ্রেস পার্বতীপুর হতে নিয়মিত রুহিয়া / পঞ্চগড় লোকাল কানেক্টিং ট্রেন ট্রেনের ভাড়া: শোভন চেয়ার ৬৯৫ টাকা, স্নিগ্ধা ১,৩২৯ টাকা। ✈️ ৩. আকাশপথ / বিমান সংযোগ: ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দর (সময় ৫০ মিনিট, ভাড়া ৩,৫০০ – ৬,৫০০ টাকা)। সৈয়দপুর থেকে মাইক্রোবাস বা সিএনজিযোগে বোদা-আটোয়ারী হয়ে সরাসরি বারো আউলিয়া মাজারে আসা যায় (দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিমি, সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা)। ২য় ধাপ: স্থানীয় পয়েন্ট থেকে মূল গন্তব্য: পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে: পঞ্চগড় চৌরঙ্গী মোড় বা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে আটোয়ারীগামী লোকাল বাস বা সিএনজিতে উঠে মির্জাপুর বাজারে নামতে হবে (ভাড়া ৩০ – ৪০ টাকা)। এরপর মির্জাপুর বাজার থেকে ব্যাটারিচালিত ভ্যান বা ইজিবাইকে মাত্র ৫ মিনিটে বারো আউলিয়া মাজার শরীফে পৌঁছানো যায় (ভাড়া ১০ – ১৫ টাকা)। পঞ্চগড় থেকে সরাসরি অটো রিজার্ভ নিলে ভাড়া পড়বে ২০০ – ২৫০ টাকা। আটোয়ারী উপজেলা সদর থেকে: আটোয়ারী বাসস্ট্যান্ড থেকে মির্জাপুর হয়ে সিএনজি বা অটোতে মাজার শরীফে যাওয়া যায় (দূরত্ব ৮ কিমি, ভাড়া ২৫ – ৩০ টাকা)। ৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration) বারো আউলিয়া মাজার শরীফ এবং এর সংলগ্ন ঐতিহাসিক মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও ইমামবাড়া ঘুরে দেখার জন্য ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় যথেষ্ট। তবে পঞ্চগড় জেলার মূল ট্যুর প্ল্যানে (তেঁতুলিয়া চা বাগান, ডাকবাংলো ও বাংলাবান্ধা) এটি অন্তর্ভুক্ত করলে পুরো পঞ্চগড় পরিদর্শনের জন্য ২ দিন ১ রাত সময় নির্ধারণ করাই সর্বোত্তম। ৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person) খাত বিবরণ আনুমানিক খরচ (টাকা) দূরপাল্লার যাতায়াত (আসা-যাওয়া) ঢাকা-পঞ্চগড় নন-এসি বাস বা ট্রেনের শোভন চেয়ার ১,৪০০ – ১,৮০০ টাকা লোকাল যাতায়াত পঞ্চগড় সদর থেকে মির্জাপুর ও মাজার শরীফ যাতায়াত (সিএনজি/অটো) ১০০ – ২০০ টাকা খাবার খরচ দুপুর ও সন্ধ্যার খাবার এবং চা-নাস্তা ৩০০ – ৫০০ টাকা দান-সদকা ও অন্যান্য মাজারের এতিমখানা/মসজিদে ঐচ্ছিক অনুদান ও ব্যক্তিগত খরচ ১০০ – ৩০০ টাকা সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (ডে ট্যুর) ৳ ১,৯০০ – ৳ ২,৮০০ টাকা ৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি বারো আউলিয়া মাজার শরীফ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের জন্য কোনো প্রবেশ ফি বা বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয় না। মাজার পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় খাদেমগণ দর্শনার্থীদের আন্তরিকভাবে সহায়তা করেন। কোনো বাণিজ্যিক গাইডের প্রয়োজন নেই, স্থানীয় লোকজন ও খাদেমদের কাছ থেকেই মাজারের ইতিহাস বিশদভাবে জানা যায়। মাজার এলাকায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় পুলিশ ও আনসার সদস্য তদারকি করেন। ৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options) মির্জাপুর বা মাজার সংলগ্ন এলাকায় পর্যটকদের থাকার মতো বাণিজ্যিক হোটেল নেই। তবে মাজারের নিজস্ব মুসাফিরখানায় ভক্তদের জন্য সাধারণ বিশ্রামাগার রয়েছে। ভালো মানের হোটেল ও কটেজে থাকার জন্য পঞ্চগড় জেলা সদর অথবা তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবস্থান করা শ্রেয়: পঞ্চগড় জেলা সদরের হোটেল: হোটেল মৌচাক (01712-429988), হোটেল সেন্ট্রাল, হোটেল ইসলাম (ভাড়া ৫০০ – ২,৫০০ টাকা)। সরকারি ডাকবাংলো: জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, পঞ্চগড় বা আটোয়ারী উপজেলা পরিষদ রেস্ট হাউস (অনুমতি সাপেক্ষে)। তেঁতুলিয়ার রিসোর্টসমূহ: প্রকৃতি ও চা বাগানের আবহে থাকতে চাইলে তেঁতুলিয়ার টি ভ্যালি গ্রীন রিসোর্ট বা সীমান্ত আবাসিক হোটেল। ৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies) মাজার প্রাঙ্গণ ও মির্জাপুর বাজারের খাবার: মির্জাপুর বাজারে খাঁটি দুধের তৈরি গরম চা, মিষ্টি ও বাকরখানি এবং স্থানীয় সাধারণ বাংলা ভাতের হোটেল। তবারক ও খিচুড়ি: ওরস বা বিশেষ দিনে মাজারে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু তবারক বিতরণ করা হয়। পঞ্চগড়ের খাবার স্পেশাল: পঞ্চগড় সদরে দেশি হাঁসের মাংস ভুনা, নদীর তাজা বৈরালি ও বাতাসি মাছের ঝোল এবং খাঁটি সরিষার তেলে তৈরি হরেক পদের ভর্তা। ১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist) শালীন ও মার্জিত পোশাক: মাজার শরীফের পবিত্রতা রক্ষার্থে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শালীন পোশাক পরিধান করুন। নারীদের জন্য ওড়না/স্কার্ফ সাথে রাখা বাঞ্ছনীয়। সহজে খোলা যায় এমন জুতো/স্যান্ডেল: মাজারে প্রবেশের সময় বারবার জুতো খুলতে হয়, তাই সাধারণ স্লিপার বা স্যান্ডেল সুবিধাজনক। নগদ টাকা (Cash): স্থানীয় যানবাহন ভাড়া ও কেনাকাটায় অনলাইন পেমেন্ট বা এটিএম বুথ সবসময় পাওয়া যায় না, তাই প্রয়োজনীয় ক্যাশ টাকা সঙ্গে রাখুন। শীতের কাপড়: শীতের মৌসুমে ভ্রমণ করলে পর্যাপ্ত গরম কাপড় সঙ্গে রাখুন। ১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা ⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি: মাজারের পবিত্রতা ও নীরবতা রক্ষা: মাজারের অভ্যন্তরে উচ্চস্বরে কথা বলা, হাসাহাসি করা বা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট করে এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকুন। ভণ্ড ও প্রতারক চক্র হতে সাবধান: ওরস বা উৎসবের সময় মাজার প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের অন্ধবিশ্বাস বা প্রতারক তান্ত্রিকদের ফাঁদে পা দেবেন না। দান-অনুদানের অর্থ কেবল অফিশিয়াল দানবাক্সে ফেলুন। মোবাইল ও ছবি তোলার নিয়মাবলী: মাজারের জিয়ারতকারী ও ইবাদতরত মুসল্লিদের যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখুন এবং অনুমতি ব্যতীত মাজারের ভেতরের ছবি তোলা থেকে বিরত থাকুন। ১২. বারো আউলিয়া মাজার ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit) বারো আউলিয়া মাজার শরীফ ভ্রমণের সবচেয়ে চমৎকার সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের নাতিশীতোষ্ণ শীতকাল। এ সময় উত্তরের মৃদু রোদ ও আরামদায়ক আবহাওয়ায় মাজারের সবুজ চত্বর ও আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখা সহজ হয়। এছাড়া লোকজ সংস্কৃতি, ধর্মীয় জিকির-আসকার ও উৎসবমুখর মেলা উপভোগ করতে চাইলে প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বার্ষিক ওরসে ভ্রমণ করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি) সকাল ০৮:৩০ – ০৯:৩০: পঞ্চগড় সদর বা রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকালের নাস্তা সেরে সিএনজি বা অটোযোগে আটোয়ারী রোডে মির্জাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা। সকাল ০৯:৩০ – ১১:৩০: বারো আউলিয়া মাজার শরীফে আগমন, ১১টি মাজার জিয়ারত, সুবিশাল দীঘির পাড়ে হাঁটা ও মাজারের খাদেমদের কাছ থেকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা। দুপুর ১১:৪৫ – ০১:০০: মাজার থেকে মাত্র ১.৫ কিমি দূরে অবস্থিত প্রায় সাড়ে তিনশত বছরের প্রাচীন চমৎকার টেরাকোটা খচিত 'মির্জাপুর শাহী মসজিদ' ও ইমামবাড়া পরিদর্শন এবং জোহরের নামাজ আদায়। দুপুর ০১:৩০ – ০৩:০০: পঞ্চগড় শহরে ফিরে ঐতিহ্যবাহী বৈরালি মাছ বা দেশি হাঁসের মাংস দিয়ে দুপুরের খাবার শেষ করে পঞ্চগড়ের রকস মিউজিয়াম পরিদর্শনে যাওয়া। ১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots) মির্জাপুর শাহী মসজিদ: ১৬৫৬ সালে মুঘল আমলে নির্মিত অনন্য টেরাকোটা ও ইসলামিক স্থাপত্যের তিন গম্বুজবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ঐতিহাসিক মসজিদ (দূরত্ব মাত্র ১.৫ কিমি)। মির্জাপুর ইমামবাড়া: শিয়া মুসলিম সংস্কৃতির প্রাচীন ধর্মীয় স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন (মসজিদের কাছেই অবস্থিত)। ভিতরগড় মহারাজার দীঘি: পৃথু রাজার ঐতিহাসিক প্রাচীন দুর্গনগরী ও দেশের অন্যতম বৃহত্তম দীঘি। রক্স মিউজিয়াম (পাথরের জাদুঘর): পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে সংরক্ষিত প্রাচীন শিলা ও ভূতাত্ত্বিক নিদর্শন। তেঁতুলিয়া ও মহানন্দা নদীর পাড়: চা বাগান ও কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনের জন্য বিখ্যাত সীমান্ত উপজেলা (পঞ্চগড় সদর থেকে ৪০ কিমি)। ১৫. বারো আউলিয়া মাজার সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ) প্রশ্ন ১: বারো আউলিয়া মাজার শরীফ কেন এত বিখ্যাত? উত্তর: সপ্তদশ শতাব্দীতে ইসলাম প্রচারের জন্য উত্তরবঙ্গে আসা বারোজন মহান সুফি সাধকের সমাধি এখানে রয়েছে এবং প্রায় ৪৭ একরের বিশাল চত্বর ও এর শত বছরের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কারণে এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় তীর্থস্থান। প্রশ্ন ২: পঞ্চগড় সদর থেকে মাজারে যেতে কতক্ষণ সময় লাগে? উত্তর: পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় মির্জাপুর হয়ে মাজার শরীফে পৌঁছাতে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ মিনিট সময় লাগে। প্রশ্ন ৩: বার্ষিক ওরস কবে অনুষ্ঠিত হয়? উত্তর: প্রতি বছর বাংলা বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার বারো আউলিয়া মাজার শরীফে বার্ষিক ওরস মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্ন ৪: নারীরা কি মাজার জিয়ারত করতে যেতে পারেন? উত্তর: হ্যাঁ, নারী-পুরুষ উভয়েই শালীন ও মার্জিত পোশাক পরিধান করে মাজার প্রাঙ্গণে যেতে এবং নির্ধারিত স্থান থেকে জিয়ারত ও দোয়া করতে পারেন। প্রশ্ন ৫: মাজারের আশেপাশে অন্য কী কী দর্শনীয় স্থান রয়েছে? উত্তর: মাজারের খুব কাছেই রয়েছে বিখ্যাত মুঘল স্থাপত্যের 'মির্জাপুর শাহী মসজিদ' ও ইমামবাড়া। এছাড়া পঞ্চগড় সদরের পাথরের জাদুঘর (রক্স মিউজিয়াম) একই দিনে ভ্রমণ করা যায়।
ভ্রমণের সেরা সময়
বারো আউলিয়া মাজার শরীফ ভ্রমণের সবচেয়ে চমৎকার সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের নাতিশীতোষ্ণ শীতকাল।