আতিয়া মসজিদ (Atia Mosque), যা বাংলাদেশের মানুষের কাছে অতি পরিচিত "১০ টাকার নোটের মসজিদ" নামেও খ্যাত, টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় লৌহজং...
আতিয়া মসজিদ (Atia Mosque), যা বাংলাদেশের মানুষের কাছে অতি পরিচিত "১০ টাকার নোটের মসজিদ" নামেও খ্যাত, টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় লৌহজং নদীর তীরে অবস্থিত ৪১৫ বছরেরও বেশি পুরোনো এক অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যিক বিস্ময়। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই ঐতিহাসিক চার গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী সুলতানি স্থাপত্যশৈলী এবং মুঘল নির্মাণরীতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। লাল পোড়ামাটির ইটের দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ, বাঁকানো কার্নিশ এবং দেয়ালে খোদাই করা অনুপম টেরাকোটা অলংকরণের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক একসময় তাদের বহুল প্রচলিত ১০ টাকার কাগজের নোটে এই মসজিদের ছবি মুদ্রণ করে একে জাতীয় মর্যাদায় আসীন করেছিল।
⏱️
ভ্রমণের সময়
১ - ২ ঘণ্টা (ডে ট্যুর)
💰
জনপ্রতি বাজেট
৫০০ - ১,০০০ টাকা
🌤️
সেরা সময়
অক্টোবর থেকে মার্চ
🏡
ধরণ / ক্যাটাগরি
ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় নিদর্শন
🚶
কঠিনতার মাত্রা
সহজ (সবার উপযোগী)
👨👩👧👦
উপযুক্ত ভ্রমণকারী
পরিবার, শিক্ষার্থী ও ইতিহাসপ্রেমী
🌟
প্রধান আকর্ষণ
টেরাকোটা ও চার গম্বুজ
📶
নেটওয়ার্ক কভারেজ
সব অপারেটরের ৪জি
১. আতিয়া মসজিদ এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য
আতিয়া মসজিদের ইতিহাস সুফি সাধনা ও মুঘল স্থাপত্য ঐতিহ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আরবি ‘আতা’ (عطاء) শব্দ থেকে ‘আতিয়া’ নামের উৎপত্তি, যার শাব্দিক অর্থ হলো ‘দানকৃত’। পঞ্চদশ শতাব্দীতে সুফি সাধক হযরত বাবা আদম কাশ্মীরি (রহ.) এই অঞ্চলে আগমন করেন এবং তৎকালীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁকে এই অঞ্চলের কিছু অংশ দান বা জায়গির দেন। পরবর্তীতে সুফি সাধকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে ১৬০৯ খ্রিস্টাব্দে (১০১৯ হিজরি) করটিয়ার বিখ্যাত পন্নী জমিদার বংশের পূর্বপুরুষ বায়েজিদ খান পন্নীর পুত্র সাঈদ খান পন্নী এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ১৮৩৭ সালে দেলদুয়ারের জমিদার আলী আহমেদ খান গজনভী এবং ১৯০৯ সালে ওয়াজেদ আলী খান পন্নী মসজিদটি সংস্কার করেন। এর অনন্য ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করে। বহু বছর ধরে প্রচলিত বাংলাদেশের ১০ টাকার বিখ্যাত নোটটিতে এই মসজিদের ছবি স্থান পাওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক অনন্য আবেগের স্থান দখল করে আছে।
২. আতিয়া মসজিদ কোথায় অবস্থিত
আতিয়া মসজিদটি ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলার অন্তর্গত দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া গ্রামে অবস্থিত। এটি টাঙ্গাইল জেলা সদর শহর থেকে দক্ষিণ দিকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে ঐতিহাসিক লৌহজং নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। রাজধানী ঢাকা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে এর সড়ক দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার। মসজিদটির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক হলো অক্ষাংশ ২৪.১৮৪০° উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৮৯.৯১১৪° পূর্ব।
৩. আতিয়া মসজিদ কেন ভ্রমণ করবেন (প্রধান আকর্ষণসমূহ)
- অনুপম চার গম্বুজ স্থাপত্য: মসজিদটির প্রধান প্রার্থনা কক্ষটি বর্গাকার এবং এর ওপর একটি বিশাল অর্ধগোলাকার প্রধান গম্বুজ রয়েছে। এর পূর্বদিকের বারান্দার ছাদের ওপর সারিবদ্ধভাবে স্থাপিত রয়েছে আরও তিনটি অপেক্ষাকৃত ছোট গম্বুজ, যা স্থাপত্যবিদ্যায় এক বিস্ময়।
- সুলতানি ও মুঘল মেলবন্ধন: বাংলার প্রাক-মুঘল সুলতানি আমলের বাঁকানো কার্নিশ (Curved Cornice) এবং মুঘল রীতির সূচালো খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বারের সমন্বয়ে এটি তৈরি।
- নিখুঁত টেরাকোটা অলংকরণ: মসজিদের পূর্বদিকের সম্মুখ প্রাচীরে পোড়ামাটির অপূর্ব জ্যামিতিক নকশা, ফুল ও লতাপাতার খোদাই আজও অক্ষত অবস্থায় দর্শকদের বিমোহিত করে।
- শাহ বাবা কাশ্মীরির মাজার ও দীঘি: মসজিদের ঠিক পাশেই রয়েছে ধর্মপ্রচারক হযরত শাহ বাবা কাশ্মীরির পবিত্র মাজার শরীফ এবং অদূরে খনন করা ঐতিহাসিক এক সুবিশাল দীঘি।
- ১০ টাকার নোটের নস্টালজিয়া: ছোটবেলা থেকে পাঠ্যবই ও ১০ টাকার কাগুজে নোটে দেখে আসা ঐতিহাসিক মসজিদটি স্বচক্ষে দেখার অনন্য অনুভূতি।
৪. কীভাবে যাবেন (ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিস্তারিত যাতায়াত রুট)
১ম ধাপ: দূরপাল্লার যাতায়াত:
🚌 ১. বাসে যাতায়াত (ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল):
ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টাঙ্গাইলগামী প্রচুর এসি ও নন-এসি বাস সরাসরি চলাচল করে।
- জনপ্রিয় বাস কোম্পানি: বিনিময় পরিবহন, নিরালা সুপার, ধলেশ্বরী ও ঝটিকা পরিবহন।
- ভাড়া ও সময়: নন-এসি বাস ভাড়া জনপ্রতি ১৮০ - ২০০ টাকা; এসি বাসে ৩০০ - ৪০০ টাকা। ঢাকা-টাঙ্গাইল চার লেন এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা।
🚆 ২. ট্রেনে যাতায়াত:
ঢাকার কমলাপুর বা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে উত্তরবঙ্গগামী আন্তঃনগর ট্রেনে সরাসরি টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশনে নেমে আতিয়া মসজিদে যাওয়া সবচেয়ে আরামদায়ক।
| ট্রেনের নাম |
ছাড়ার স্থান ও সময় (কমলাপুর) |
গন্তব্য স্টেশন |
ভাড়া ও কানেক্টিং রুট |
| একতা এক্সপ্রেস / দ্রুতযান এক্সপ্রেস |
সকাল ১০:১৫ / রাত ০৮:০০ |
টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশন |
ভাড়া ১৫০ - ২২০ টাকা; সময় লাগে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। |
| সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস / সিল্কসিটি |
ভোর ০৬:০০ / দুপুর ০২:৩০ |
টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশন |
ভাড়া ১৩০ - ২০০ টাকা; স্টেশন থেকে সিএনজিতে সরাসরি আতিয়া ২০ মিনিট। |
✈️ ৩. আকাশপথ / বিমান সংযোগ:
বিদেশ বা দেশের দূরবর্তী জেলা থেকে বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকায় নেমে প্রাইভেট কার বা ট্যাক্সিযোগে নবীনগর-চন্দ্রা হয়ে আড়াই ঘণ্টায় টাঙ্গাইলের আতিয়া মসজিদে পৌঁছানো যায়।
২য় ধাপ: স্থানীয় পয়েন্ট থেকে মূল গন্তব্য:
টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে নেমে একটি রিকশা বা অটো নিয়ে টাঙ্গাইল পুরোনো বাসস্ট্যান্ড বা বেবিস্ট্যান্ডে আসবেন (ভাড়া ১০-১৫ টাকা)। পুরোনো বাসস্ট্যান্ড থেকে দেলদুয়ারগামী সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় উঠবেন এবং চালককে আতিয়া মসজিদের কাছে নামিয়ে দিতে বলবেন। টাঙ্গাইল শহর থেকে আতিয়া মসজিদের দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার। লোকাল সিএনজি বা অটোতে জনপ্রতি ভাড়া মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকা (পুরো সিএনজি রিজার্ভ নিলে ১০০ থেকে ১২০ টাকা)। মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটে পিচঢালা গ্রামীণ পথ পেরিয়ে সরাসরি চার শতাব্দীর প্রাচীন আতিয়া জামে মসজিদের প্রবেশদ্বারে পৌঁছে যাবেন।
৫. ভ্রমণের সময়সীমা (Duration)
আতিয়া মসজিদের চমৎকার স্থাপত্যশৈলী, পোড়ামাটির কারুকাজ অবলোকন, মাজার জিয়ারত ও ছবি তোলার জন্য ১ থেকে দেড় ঘণ্টা সময়ই যথেষ্ট। তবে ঢাকা থেকে ডে-ট্যুর পরিকল্পনা করলে এর সাথে নিকটবর্তী মহেরা জমিদার বাড়ি (মির্জাপুর), করটিয়া জমিদার বাড়ি এবং ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ি মিষ্টির বাজার মিলিয়ে মোট ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার একটি স্মরণীয় দিন কাটিয়ে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরা সম্ভব।
৬. বাজেট টেবিল (Estimated Budget per Person)
| খাত |
বিবরণ |
আনুমানিক খরচ (টাকা) |
| ঢাকা - টাঙ্গাইল বাস / ট্রেন ভাড়া (উভয়মুখী) |
মহাখালী থেকে নিয়মিত বাস বা ট্রেনের শোভন চেয়ার |
৳ ৩৫০ - ৫৫০ টাকা |
| স্থানীয় যাতায়াত (শহর থেকে আতিয়া আসা-যাওয়া) |
সিএনজি ও ইজিবাইক ভাড়া |
৳ ৫০ - ৮০ টাকা |
| খাবার ও দুপুরের আহার |
টাঙ্গাইল শহরের মানসম্মত হোটেলে লাঞ্চ |
৳ ২০০ - ৩৫০ টাকা |
| পোড়াবাড়ির আসল চমচম ও চা-নাশতা |
ঐতিহ্যবাহী চমচম ও হালকা নাশতা |
৳ ১০০ - ১৫০ টাকা |
| প্রবেশ টিকিট ফি |
মসজিদে প্রবেশের জন্য কোনো ফি বা টিকেট নেই |
৳ ০ টাকা (সম্পূর্ণ ফ্রি) |
| সর্বমোট আনুমানিক বাজেট (জনপ্রতি) |
৳ ৭০০ - ১,১৩০ টাকা |
৭. গাইড ও নিরাপত্তা অনুমতি
আতিয়া মসজিদ পরিদর্শনের জন্য কোনো আগাম অনুমতির প্রয়োজন হয় না। এটি একটি জীবন্ত ও সংরক্ষিত জামে মসজিদ, যেখানে স্থানীয় মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করেন। তাই মসজিদের ভেতরে প্রবেশের সময় জুতা বাইরে খুলে রাখা এবং শালীন পোশাক পরিধান করা আবশ্যক। স্থানীয় খাদেম ও মুসল্লিরা অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ এবং তাঁরা আনন্দের সাথে মসজিদের প্রাচীন ইতিহাস ও ১০ টাকার নোটে স্থান পাওয়ার গল্প দর্শনার্থীদের শোনান।
৮. কোথায় থাকবেন (Accommodation Options)
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের দূরত্ব কম হওয়ায় পর্যটকরা সাধারণত দিনব্যাপী ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরে যান। তবে রাতে অবকাশ যাপন করতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলা সদরে বেশ কিছু ভালো মানের হোটেল রয়েছে। যেমন: হোটেল আল ফয়সাল, হোটেল প্রিন্স, হোটেল পলাশ কিংবা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো। এছাড়া বিলাসবহুল অভিজ্ঞতার জন্য এলেঙ্গা রিসোর্ট বা যমুনা রিসোর্টে থাকা যায়। শহরে সাধারণ হোটেলের রুম ভাড়া ৮০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে।
৯. কী খাবেন (Local Food Delicacies)
- পোড়াবাড়ির বিশ্বখ্যাত চমচম: আতিয়া মসজিদ থেকে পোড়াবাড়ির দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার। এখানকার আসল দোকানের পোড়া খোয়ার মিষ্টি চমচম ও রসগোল্লা চেখে দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
- টাঙ্গাইল শহরের ঐতিহ্যবাহী খাবার: টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ের হোটেলগুলোতে খাসির ভুনা, ধলেশ্বরীর তাজা মাছের ঝোল ও দেশি হাঁসের মাংসের স্বাদ অতুলনীয়।
- দেলদুয়ারের খাঁটি মাঠা ও ঘোল: দেলদুয়ার বাজারে স্থানীয় গাভীর দুধ থেকে তৈরি খাঁটি সুস্বাদু মাঠা পথচলতি পর্যটকদের ক্লান্তি দূর করে।
১০. কী কী সঙ্গে নেবেন (Travel Packing Checklist)
- পবিত্র মসজিদে প্রবেশের উপযোগী মার্জিত ও ঢিলেঢালা সুতি পোশাক (মহিলাদের জন্য মাথায় দেওয়ার ওড়না/হিজাব)।
- সহজে খোলা ও পরা যায় এমন স্লিপার বা স্যান্ডেল।
- লাল ইটের টেরাকোটার সূক্ষ্ম নকশা তোলার জন্য ভালো মানের ক্যামেরা বা স্মার্টফোন।
- একটি পুরোনো ১০ টাকার কাগজের নোট (মসজিদটির সামনে ধরে স্মৃতিস্মারক হিসেবে ছবি তোলার জন্য এটি পর্যটকদের দারুণ এক ট্রেন্ড!)।
- রোদে চলাচলের জন্য টুপি, সানগ্লাস ও নগদ ক্যাশ টাকা।
১১. কঠিনতার মাত্রা ও নিরাপত্তা সতর্কতা
⚠️ সতর্কতা ও আচরণবিধি:
- যেহেতু এটি চার শতকের প্রাচীন জাতীয় পুরাকীর্তি, তাই দেয়ালের প্রাচীন টেরাকোটা ও ইটের গায়ে হাত দিয়ে ঘষাঘষি করা বা দাগ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- নামাজের সময় ভেতরে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা বা প্রার্থনারত মুসল্লিদের সামনে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকুন।
- মসজিদের আঙিনা অত্যন্ত পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন; কোনো প্রকার ময়লা বা খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ চত্বরে ফেলবেন না।
- নদীর পাড়ে ও দীঘির ঘাটে হাঁটার সময় পিচ্ছিল সিঁড়ির ব্যাপারে সাবধান থাকুন।
১২. আতিয়া মসজিদ ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit)
আতিয়া মসজিদ ভ্রমণের সবচেয়ে সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস (শীত ও বসন্তকাল)। শীতের মিষ্টি রোদে লাল ইটের বর্ণিল রূপ সবচেয়ে উজ্জ্বল দেখায় এবং গ্রামীণ আবহাওয়া থাকে অত্যন্ত স্নিগ্ধ। দিনের বেলা সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা অথবা বিকেল ৩টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টি ফটোগ্রাফি ও স্থাপত্যের নিখুঁত সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
১৩. সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা (পারফেক্ট ইটিনারেরি)
সকাল ০৭:০০ - ০৯:১৫: ঢাকার মহাখালী থেকে টাঙ্গাইলগামী বাসে চেপে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে নাটিয়াপাড়া বা টাঙ্গাইল শহরে আগমন।
সকাল ০৯:৩০ - ১০:০০: টাঙ্গাইল পুরোনো বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি নিয়ে ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদে পৌঁছানো।
সকাল ১০:০০ - ১১:৩০: চার শতাব্দীর প্রাচীন লাল ইটের মসজিদ, টেরাকোটা কারুকাজ অবলোকন, মাজার পরিদর্শন ও ১০ টাকার নোট মিলিয়ে ফটোসেশন।
সকাল ১১:৪৫ - ০১:০০: সিএনজি নিয়ে নিকটবর্তী পোড়াবাড়ির আসল মিষ্টির বাজারে গমন ও ঐতিহ্যবাহী গরম চমচমের স্বাদ গ্রহণ।
দুপুর ০১:১৫ - ০২:১৫: টাঙ্গাইল শহরের ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁয় দুপুরের সুস্বাদু খাবার গ্রহণ।
দুপুর ০২:৩০ - ০৪:৩০: ফেরার পথে বিখ্যাত মহেরা জমিদার বাড়ি অথবা করটিয়া জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখা।
বিকাল ০৫:০০: মহাসড়ক থেকে ঢাকার ফিরতি বাসে আরোহণ করে সন্ধ্যার মধ্যে রাজধানীতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন।
১৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Tourist Spots)
- মহেরা জমিদার বাড়ি: মির্জাপুরে অবস্থিত পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার নিয়ন্ত্রিত চোখজুড়ানো ৪টি রাজপ্রাসাদ ও ফুলের বাগান।
- করটিয়া জমিদার বাড়ি: সুপ্রসিদ্ধ পন্নী জমিদারদের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদ ও লোহার তোরণ।
- পোড়াবাড়ি মিষ্টির গ্রাম: বিশ্ববিখ্যাত পোড়াবাড়ির চমচমের আদি জন্মস্থান।
- এলেঙ্গা রিসোর্ট ও যমুনা সেতু: যমুনা নদীর পাড়ে দেশের অন্যতম আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র।
১৫. আতিয়া মসজিদ সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: আতিয়া মসজিদটি কেন ১০ টাকার নোটের মসজিদ নামে পরিচিত?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পূর্বে মুদ্রিত বহুল প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী ১০ টাকার কাগুজে নোটে এই ঐতিহাসিক চার গম্বুজ মসজিদের ছবি ছাপানো হয়েছিল, যার ফলে এটি দেশজুড়ে "১০ টাকার নোটের মসজিদ" নামে পরিচিতি লাভ করে।
প্রশ্ন ২: মসজিদটি কখন এবং কে নির্মাণ করেছিলেন?
উত্তর: মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে ১৬০৯ খ্রিস্টাব্দে সুফি সাধক শাহ বাবা কাশ্মীরির স্মরণে করটিয়ার জমিদার সাঈদ খান পন্নী এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।
প্রশ্ন ৩: আতিয়া মসজিদে কি বর্তমানে নামাজ আদায় করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, চার শতাব্দীর পুরোনো হলেও এই মসজিদে এখনও নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা হয়।
প্রশ্ন ৪: মসজিদে প্রবেশের জন্য কি কোনো ফি দিতে হয়?
উত্তর: না, আতিয়া মসজিদ পরিদর্শনের জন্য কোনো প্রবেশ ফি বা টিকেটের প্রয়োজন হয় না; এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিদর্শন করা যায়।
প্রশ্ন ৫: টাঙ্গাইল জেলা সদর থেকে আতিয়া মসজিদের দূরত্ব কত এবং কীভাবে যাব?
উত্তর: টাঙ্গাইল শহর থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার। শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড বা বেবিস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ২০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় ১৫ মিনিটে সরাসরি মসজিদের সামনে পৌঁছানো যায়।
আতিয়া মসজিদ ভ্রমণের সবচেয়ে সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস (শীত ও বসন্তকাল)। শীতের মিষ্টি রোদে লাল ইটের বর্ণিল রূপ সবচেয়ে উজ্জ্বল দেখায় এবং গ্রামীণ আবহাওয়া থাকে অত্যন্ত স্নিগ্ধ।